বিজ্ঞাপন
সুপরিচিত আলেম ও ইসলামি আলোচক আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেছেন, ‘আলোচিত মাদরাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ ইসলামের লেবাসে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিথ্যা বলে আরও বহু মানুষের সম্মানহানির অপরাধে অভিযুক্ত। এই অপরাধীর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। সে তো ইসলামের নামেই প্রতিষ্ঠান চালাতো।’
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যাদের বিবেক মরে গেছে, তারা একবার উক্ত স্থানে নিজের বোন, মেয়ে কিংবা আপনজনকে কল্পনা করে দেখুন। ইসলামের ক্ষতি তার শত্রুদের চেয়ে এ ধরনের খবিস চরিত্রের মানুষের দ্বারাই অনেক বেশি হয়।’
তবে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এবং তার গ্যারান্টিটাও খুব জরুরী বলেও মন্তব্য করেন এই ইসলামি আলোচক। তিনি বলেন, ‘এ দেশে রাষ্ট্রীয় ভাবেও মানুষকে ফাঁসানো এবং ভুল বিচারের ভুরিভুরি নজীরও আছে।’
আরও পড়ুন
মাদরাসায় শিশু নির্যাতন রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর ৬ দফা প্রস্তাবনা
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহর ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মামলার নথি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে মাদরাসা শিক্ষক আমনুল্লাহ একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে, শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়।
সেখানে গত ২ জুলাই শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, নবজাতকসহ ওই শিশুটি সিলেটের সেফ হোমে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন
জান্নাতে শিশুদের অভিভাবক ইবরাহিম (আ.)
ওএফএফ
বিজ্ঞাপন