জাতীয়

মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সোশ্যাল মিডিয়া

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিটি মানুষেরই মহৎ কাজ। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে কোনো না কোনো অঞ্চলে বন্যা, খরা, পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি ও তীব্র শীতসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। অনেক সময় এসব দুর্যোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ এই প্রবাদটি তখনই সত্যতা মিলে যখন এমন সংকটময় সময়ে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আর বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সোশ্যাল মিডিয়া। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন নদ-নদীর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং ঘনবসতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় প্রতিবছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। বন্যা, খরা, পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও তীব্র শীতের মতো দুর্যোগ কখনো কখনো এত ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় সম্পদ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। আরও পড়ুন যেই সেলুন থেকে কেঁদে বাড়ি ফেরেন প্রবাসীরা দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে নিম্নআয়ের মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী মানুষ। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে গেলে অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। কৃষকের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেলে তার পুরো বছরের আয় অনিশ্চিত হয়ে যায়। আবার শীতের সময় উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটায়। পাহাড়ধস কিংবা অতিবৃষ্টিতে কোনো কোনো এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক ও আশ্রয়ের সংকট দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবিকতারও একটি মহৎ দৃষ্টান্ত। একজন ব্যক্তি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ, খাদ্য, পোশাক, ওষুধ বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। আবার কেউ অর্থ দিতে না পারলেও স্বেচ্ছাশ্রম, উদ্ধারকাজ, রক্তদান, তথ্য প্রচার কিংবা দুর্গত মানুষের জন্য সময় ব্যয় করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বাইরে বসবাস করলেও তারা দেশের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রবাসীরা বিভিন্ন সময় দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে পাঠাতে পারেন। তবে একসময় বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন, মাইকিং কিংবা পরিচিতজনের ওপর নির্ভর করতে হতো। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেজিং প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি দুর্যোগের খবর দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। কোথায় কত মানুষ আটকা পড়েছে, কোথায় খাদ্য বা পানি প্রয়োজন, কোথায় আশ্রয়কেন্দ্র আছে এসব তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে দুর্গত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ত্রাণ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া যায়। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের প্রয়োজন তুলে ধরে সাহায্যের আহ্বান জানাতে পারে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনেক মানুষ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অর্থ বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিতে পারেন। প্রবাসীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি জানতে পারেন এবং এমনকি দূরে অবস্থান করেও তারা ত্রাণ কার্যক্রমে অর্থসহায়তা, প্রচার ও সংগঠনের কাজে অংশ নিতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কারণের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, কোনো হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্ত। তবে এমন সময়ে রক্তদাতার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারে অসংখ্য মানুষের কাছে। এর মাধ্যমেই রক্তদাতা পাওয়া যায়। এছাড়া কারোর চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহায়তা বা কেউ হারিয়ে গেছে তাকে খুঁজে পেতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হয়। এতে দেশ ও বিদেশে থাকা মানুষরাও এগিয়ে আসেন। আরও পড়ুন সোশ্যাল মিডিয়ার হিরো মুহূর্তেই হতে পারেন জিরো এদিকে আমরা করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময়ও দেখেছি, অনলাইনে মানুষের সহযোগিতার অসাধারণ শক্তি। অক্সিজেনের প্রয়োজন, হাসপাতালের শয্যা, ওষুধ কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ-এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক মানুষ অপরিচিত মানুষের জন্যও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সংকটের সময় মানুষের মধ্যে যে সহমর্মিতা লুকিয়ে থাকে, সোশ্যাল মিডিয়া অনেক ক্ষেত্রে সেটিকে দৃশ্যমান করে তোলে। এমন অসংখ্য মানবিক ঘটনাসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সোশ্যাল মিডিয়া। তাই বলা যায় মানবিক সহায়তায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শক্তিশালী হাতিয়ার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতাও প্রয়োজন। দুর্যোগের সময় গুজব, পুরোনো ছবি, মিথ্যা তথ্য বা ভুয়া ত্রাণ সংগ্রহের আবেদন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে প্রকৃত সাহায্যপ্রার্থী যেমন বঞ্চিত হতে পারেন, তেমনি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। ত্রাণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয়, কার্যক্রম এবং অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মানবিকতার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>