জাতীয়

রাকসুর এক টাকাও আমাদের পকেটে ঢোকেনি, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে লাভ নেই

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ফান্ড থেকে এক কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন এবং এর মধ্যে ৬১ লাখ টাকার ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তার দাবি, রাকসুর হিসাব এখনো চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়নি। অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে রাকসুকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সম্প্রতি ‘রাকসুর সোয়া কোটি টাকা এবং আম্মারের ভাউচার সংকট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসু ফান্ড থেকে এক কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ টাকার ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। আরও পড়ুন সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর রাকসু ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য সম্পাদকরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‌‘প্রত্যেক ছাত্রসংসদের শেষ দিকে এসে তাদেরকে ব্যর্থ ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়। যাই হোক, আমরাও জানতাম আমাদের স্ট্রং পয়েন্ট অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে তারা এই নোংরামিটা করবে। এজন্য আমরা সকল হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খ রেডি রেখেছি। অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে এসব প্রচার প্রফেশনালিজমের পরিপন্থি।’ এক কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্যকে অসত্য দাবি করে তিনি বলেন, এক কোটি ২৯ লাখ টাকা তুলেছে রাকসু—এটাই অসত্য তথ্য। আরও পড়ুন এবার মামলা করলেন সালাহউদ্দিন আম্মার অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘সব টাকা তোলার ক্ষেত্রে রাকসু সভাপতি, কোষাধ্যক্ষসহ কয়েক ধাপে সই নিয়ে তারপর তুলতে হয়। আমরা যদি এমন কোনো বিষয়ে টাকা খরচ করতাম যেটা আমাদের এখতিয়ার নেই, তাহলে কোনো না কোনো ধাপে বাধার শিকার হতাম। প্রত্যেক বাজেট তোলার ব্যাপারে এই সবার সইগুলো আমাদের কাছে আছে।’ রাকসুর আর্থিক কার্যক্রমের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অডিটের পরই স্পষ্ট হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রসংসদ শেষে সরকারিভাবে অডিট হবে। সেই রিপোর্ট আমরা শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের কাছে পেশ করব। আমরা কী করছি, সেই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে। তখন বোঝা যাবে যে আমরা আসলেই এক টাকারও দুর্নীতি করছি কি-না।’ পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য প্রকাশ করে রাকসুকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, ‘হিসাব ক্লোজ হওয়ার আগেই বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তথ্য দিয়ে রাকসুকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ অডিটে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও জানান রাকসু ভিপি। তিনি বলেন, ‘এত কিছুর পরও যদি অডিটে এমন কোনো বিষয় উঠে আসে যেটা আমাদের খরচ করার এখতিয়ার ছিল না, সেই টাকা আমরা ফেরত দিতে বাধ্য থাকব।’ আরও পড়ুন রাকসুর ব্যানারে ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, ‘জুলাই জিয়াফত’ নিয়ে বিতর্ক রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কোনো পারিশ্রমিক নেন না দাবি করে ভিপি বলেন, ‘আমরা প্রতিনিধি, ব্যক্তিগতভাবে কোনো পারিশ্রমিক আমাদের নেওয়ার এখতিয়ার নেই, পুরোটা স্বেচ্ছাশ্রম। এত কিছুর পরও বিশ্বাস নিয়ে বলছি, রাকসু প্রতিনিধিদের নামে অডিট রিপোর্টে এক টাকাও কারও পকেটে ঢুকেছে বলে কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।” নিজের দাপ্তরিক খরচের বরাদ্দের বিষয়ে ভিপি বলেন, রাকসু আমার দাপ্তরিক খরচের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিল পাঁচ লাখ। তার মধ্যে তুলেছি মাত্র সাড়ে তিন লাখ। সামগ্রিক খরচ আর দাপ্তরিক খরচের পার্থক্য এদেরকে বোঝাবে কে? অর্থ উত্তোলনের তথ্য প্রকাশ করা হলেও ফেরতের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি কিছু কর্মসূচিতে রাকসুর ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করা হয়নি বলেও জানান তিনি। রাকসু ভিপি লিখেছেন, ‘কিছু আয়োজন আছে যেগুলোতে আমরা রাকসুর ফান্ডের টাকা ব্যবহার করিনি। যেমন-ইফতার মাহফিলের ১২ লাখ টাকার কোনো টাকাই ফান্ড থেকে নিইনি। আমাদের তো এখনো হিসাব ক্লোজ হয়নি। এমনও হতে পারে যৌক্তিক বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও আমার দাপ্তরিক বরাদ্দ আমি রাকসুকে ফেরত দিয়ে দিলাম। তাই শেষ হিসাবের অপেক্ষাটা করুন অন্তত।’ মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিটা টাকা আমাদের জন্য আমানত। রাকসুতে যেভাবে এসেছিলাম, ঠিক সেভাবেই ফিরে যাব। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলতে চাই, এই এক বছরে রাকসুর এক টাকাও আমাদের ব্যক্তিগত পকেটে ঢোকেনি। এইসব প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে লাভ নেই। মিরাজ হোসেন/এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>