জাতীয়

চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বর্তমানে সারাবিশ্বেই চাকরির বাজার বদলে যাচ্ছে। যেসব দক্ষতা এখন আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, তার প্রায় ৩৯ শতাংশ চাকরিই একসময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে অথবা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হবে। তাই চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য মনে করতে বা টিকিয়ে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই কিছু কাজের উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বর্তমানে নিয়োগকর্তারা এমন চাকরি প্রার্থীদের খুঁজছেন, যারা বাস্তব কাজে দক্ষতা দেখাতে পারেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি এখন আর চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা। তাই বলা যায়, শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই চাকরির মূল। আজ এমন ১০টি চাকরির বিষয়ে আলোচনা করবো; যে বিষয়গুলো ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে আপনাদের কাজে আসবে। এআই বিষয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন সফল ক্যারিয়ারের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো এআই বিষয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করা। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই যুগে এআই জানা ব্যক্তিরা চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজারে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকছেন। এআই বিষয়ে শিক্ষা অর্জন এখন আর অতিরিক্ত দক্ষতা নয়, বরং মৌলিক চাহিদা। বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বর্তমানে বিনামূল্যে এআই ও সাইবার সিকিউরিটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই কোর্সে এইচএসসি পাস করা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও প্রতিদিন ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতাসহ সরকারি সনদপত্র পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায় বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তির ক্ষমতা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি হলো কোনো জটিল তথ্য, সমস্যা বা পরিস্থিতিকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে বোঝার এবং একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষমতা। মানুষের এই বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তিই তাকে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি থেকে আলাদা এবং কর্মক্ষেত্রে অপরিহার্য করে তোলে। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি একজন মানুষকে সাধারণ কর্মী থেকে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীতে রূপান্তরিত করতে পারে।  ডেটা ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন ডেটা ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন বর্তমান ডিজিটাল যুগে ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম সেরা হাতিয়ার। বর্তমানে প্রতিটি ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াই ডেটা চালিত। আপনি যদি ডেটা সংগ্রহ করা, তা বিশ্লেষণ করা এবং তা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন; তবে কর্মক্ষেত্রে আপনার চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাবে। ডেটা ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে হলে আপনাকে মূলত চারটি ধাপ বা স্তরে পারদর্শী হতে হবে। ডেটা পড়া/বোঝা ➔ ডেটা নিয়ে কাজ করা ➔ ডেটা বিশ্লেষণ ➔ ডেটা দিয়ে গল্প বলা।  বৈশ্বিক যোগাযোগদক্ষতা অর্জন বৈশ্বিক যোগাযোগদক্ষতা হলো বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, ভাষা এবং পটভূমির মানুষের সাথে কার্যকর ও সফলভাবে তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষমতা। বর্তমান এআই এবং রিমোট ওয়ার্কের যুগে, আপনি ঘরে বসেই বিশ্বের যে কোনো দেশের কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি গ্লোবাল কমিউনিকেশন স্কিল থাকা আবশ্যক। আরও পড়ুন সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে অভিযোজন ক্ষমতা ও শেখার মানসিকতা থাকা অভিযোজন ক্ষমতা এবং ক্রমাগত শেখার মানসিকতা হলো বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান দুটি জীবন দক্ষতা। প্রযুক্তি যেভাবে প্রতিনিয়ত কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে—সেখানে টিকে থাকতে হলে নিজেকে নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং আজীবন নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ধরে রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই দ্রুত নতুন কিছু শেখা ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  সৃজনশীল চিন্তাশক্তি থাকা সৃজনশীল চিন্তাশক্তি হলো কোনো সমস্যাকে ভিন্ন ও প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে দেখা। এবং সম্পূর্ণ নতুন, অভিনব ও কার্যকর কোনো আইডিয়া বা সমাধান তৈরি করার ক্ষমতা থাকা। বর্তমানে সৃজনশীল চিন্তাশক্তি মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কারণ এআই অতীত ডেটা বিশ্লেষণ করে উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন এবং মানুষের আবেগকে স্পর্শ করতে পারে এমন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতা কেবল মানুষেরই রয়েছে।  আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের আবেগকে চেনা, বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা। একই সাথে অপরের আবেগ, অনুভূতি ও আচরণ অনুধাবন করে যে কোনো পরিস্থিতিতে সঠিক ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গোলম্যানের মতে, কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে সফলতার জন্য সাধারণ বুদ্ধিমত্তার চেয়ে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান যুগে যেখানে রোবট বা কোডিং আবেগহীনভাবে কাজ করে, সেখানে একজন মানুষের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাই তাকে অনন্য এবং অপরিহার্য করে তোলে। আরও পড়ুন নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে উদ্যোক্তা মনোভাব উদ্যোক্তা মনোভাব হলো কোনো সুযোগ বা সমস্যাকে চিহ্নিত কর। এবং ঝুঁকি নিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করার এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ও সমাধানমুখী থাকার মানসিকতা। এটি কেবল একটি ব্যবসা শুরু করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং একজন চাকরিজীবী বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও যে কোনো সংস্থায় নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসার ক্ষমতাকে উদ্যোক্তা মনোভাব বলা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে চেনা চাকরিগুলো প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে এই মনোভাবটি সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। শুধু নির্দেশনা মেনে কাজ নয়, বরং নিজে থেকে সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াও এখন প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।  আন্তসাংস্কৃতিক দক্ষতা অর্জন আন্তসাংস্কৃতিক দক্ষতা হলো বিভিন্ন সংস্কৃতি, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং পটভূমির মানুষের সাথে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার, একসাথে কাজ করার এবং ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা। গ্লোবালাইজড ওয়ার্ল্ড এবং রিমোট ওয়ার্কের যুগে আপনি ঘরে বসেই আমেরিকা, ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো টিমের সাথে কাজ করতে পারেন। তবে প্রযুক্তিগতভাবে আপনি যতই দক্ষ হন না কেন, আন্তর্জাতিক সহকর্মী বা ক্লায়েন্টদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া না থাকলে পেশাগত স্তরে সফল হওয়া অসম্ভব।  দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে নৈতিক মানদণ্ড, নিরাপত্তা, সামাজিক নিয়ম এবং বিভিন্ন ফলাফলের যৌক্তিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে যে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি কেবল নিজের তাৎক্ষণিক সুবিধার কথা ভাবেনা। বরং সেই সিদ্ধান্তের ফলে নিজের এবং চারপাশের মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব পড়বে, তাও বিবেচনা করে। বর্তমান পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে, যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বিশাল ডেটা লঙ্ঘন, আর্থিক ক্ষতি বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, সেখানে এই দক্ষতাটির গুরুত্ব অপরিসীম। আরও পড়ুন আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে নেওয়া। এমআইএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>