বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ বা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ফল আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ হতে পারে।
ওইদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে। আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশের ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদেরও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। তবে পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন
এসএসসির ফলে অসন্তোষ: ৪ লাখ শিক্ষার্থীর প্রায় ১৩ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জ
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন শেষ হয় ১৭ আগস্ট রাতে। নির্ধারিত সময়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চার লাখ দুই হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অনেকে একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে মোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন রয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় দুই লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন।
এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতদিন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো।
এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে- এমন ঘোষণার কারণে আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি বলেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা বেশি আবেদন করেছে। পাশাপাশি এবার ফেল ও খারাপ ফলের হার বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট থাকতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। ফলে ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এএএইচ/এমকেআর
বিজ্ঞাপন