বিজ্ঞাপন
বন্ধ রয়েছে রোগী ভর্তি
৮৬ জন লোকবলের বিপরীতে আছে মাত্র ১৮ জন
ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ওষুধ বিতরণ
জনবল সংকট, আধুনিক সরঞ্জামের অভাব ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে অতীত জৌলুস হারিয়েছে ১৩৫ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল। যে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা একসময় দিন-রাত রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতেন, সেই হাসপাতালজুড়ে এখন সুনসান নীরবতা।
পদ্মা নদীর তীরে ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে বিশাল অবকাঠামো নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা ৪৪ শয্যার এ হাসপাতালে কোনো রোগীকে আর ভর্তি রাখা হয় না। শুধুমাত্র হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল সংকটের কারণে দুই বছর ধরে এ হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে (ইনডোর) রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ কোনো রোগী এ হাসপাতালে এলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে রাজশাহী রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল ও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ হাসপাতালটি বর্তমান চিকিৎসা সেবাতো দূরের কথা, বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে নিজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
‘এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। হাত আন্দাজে এখান থেকে ওষুধ নিয়ে খাই। এতে অসুখ ভালো হবে নাকি আবার নতুন অসুখ শুরু হবে সেটা বলতে পারি না।’
ইতিহাস থেকে জানা যায়, দেশের প্রথম বৃহত্তম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ ও পাকশী বিভাগীয় শহর প্রতিষ্ঠার সময়কালে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অর্থ বিভাগ কার্যালয়ের অভ্যন্তরে ১৯০৯ সালে পাকশী রেলওয়ে ডিসপেনসারি নামে এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে এটি পাকশী পদ্মা নদীর তীরে ৩ একর জমিতে স্থানান্তর করা হয়। নতুন নামকরণ করা হয় ‘রেলওয়ে হাসপাতাল পাকশী’।
চিকিৎসক, নার্স ও জনবলের প্রকট সংকট
লোকবল সংকটের কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ হাসপাতালে প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তার নেই, নার্স নেই, নেই কর্মকর্তা-কর্মচারী। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৮৬ জন লোকবল থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১৮ জন। ৫ জন চিকিৎকের স্থলে আছেন মাত্র দুই জন। এদের মধ্যে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ডিএমও) সপ্তাহে তিন দিন পাকশী হাসপাতাল ও দুই দিন রাজশাহী রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখেন। সহকারী সার্জন একজন এখানে কর্মরত থাকলেও তিনি চিকিৎসক সংকটের কারণে রাজবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রেলওয়ে হাসপাতালে রোগী দেখেন। ফলে সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন এ হাসপাতালে চিকিৎসক থাকেন না।
‘এখানে সিনিয়র নার্সের পদ রয়েছে ৬টি। এরমধ্যে শুধুমাত্র আমি কর্মরত রয়েছি। জরুরি কোনো রোগী এলে ডিউটি না থাকলেও বাধ্য হয়ে আমাকে আসতে হয়। আমাদের জনবল সংকট। জনবল দিলে ভালোভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো।’
সিস্টার ইনচার্জ নেই, সিনিয়র স্টাফ নার্স ৬ জনের স্থলে আছেন ১ জন, স্টোর কিপার নেই, ফার্মাসিস্টের তিন পদের দুই জন কর্মরত, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) একজন থাকলেও সিনিয়র সেনেটারি পরিদর্শক পদ শূন্য, প্রধান সহকারী নেই, স্টেনো টাইপিস্ট একজন কর্মরত। এছাড়াও লেডি হেলথ ভিজিট, স্টুয়ার্ড, জুনিয়র নার্স ৩ জন, ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ জন, ওটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ জন, অ্যাম্বুলেন্স চালক ১ জন, স্যানেটারি পরিদর্শক ৪ জন, মিডওয়াইফ, ২ জন, ড্রেসার ২ জন, বাবুর্চি ২ জন, ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্টের ৭ জনের স্থলে আছেন ২ জন, আয়া ৩ জন, সহকারী বাবুর্চি ২ জন, খালাসী ৪ জন, মেডিসিন ক্যারিয়ার, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদের ৬৮টি পদ খালি রয়েছে।
আরও পড়ুন
গ্যারেজে চলছে মর্গের কাজ, মেঝেতেই থাকে সারি সারি মরদেহ
অতীত ঐতিহ্য ও হাসপাতালের গুরুত্ব
হাসপাতালটি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের নিদর্শন বহন করে চলেছে। প্রথমে এটি ব্রিটিশ আমলে ‘রেলওয়ে ডিসপেনসারি’ নামে স্থাপন করা হয়। এটি একটি দর্শনীয় নান্দনিক ব্রিটিশ স্থাপনা। পরবর্তীতে পাকিস্তান শাসনামলে স্থানান্তরিত করে এটিকে পাকিস্তানি অবকাঠামোর আদলে নির্মাণ করা হয়। পদ্মা নদীর তীরে বিশাল এই স্থাপনা ও হাসপাতালের চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করবে।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগের অধীনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে এই হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ৪৪ শয্যার হাসপাতালে ১০০-১৫০ রোগী ভর্তি থাকতেন। হাসপাতাল ওয়ার্ডের সিট ছাড়াও মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই হাসপাতালে এখন আর কোনো রোগীকে ভর্তি রাখা হয় না। এখন শুধুমাত্র আউটডোর (বহির্বিভাগে) প্রতিদিন ৮০-১০০ জনকে চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এ হাসপাতালে পাকশী রেল বিভাগের অধীনে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী, খুলনা থেকে হিলি, পোড়াদহ থেকে ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ পর্যন্ত রেলওয়েতে কর্মরত শত শত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সরেজমিনে যা দেখা যায়
সরেজমিনে গিয়ে প্রথম দিন দেখা যায়, ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট। হাসপাতালের প্রবেশ পথ খোলা থাকলেও পুরো হাসপাতাল ঘুরে কাউকে পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র একজন কর্মচারীর একটি মোটরসাইকেল বারান্দায় দেখা যায়। পুরো হাসপাতাল জুড়ে ভূতুড়ে পরিবেশ। সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসপাতালে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত সাইফুল ইসলাম হাসপাতালে আসেন।
‘পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো হাসপাতাল। এ হাসপাতালের এলাকাও অনেক বড়। মূল সমস্যা হচ্ছে এ হাসপাতালে ডাক্তার ও জনবল সংকট। সেটি হলে অন্য সমস্যাগুলোও সমাধান হয়ে যাবে।’
তিনি জানান, পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ের পাশে আমতলায় রেলওয়ে কর্মচারীদের একটি প্রতিবাদ সমাবেশ আছে। সেখানে হাসপাতালে কর্মচারীরা যোগ দিয়েছেন। সেজন্য হাসপাতালের কর্মচারীরা সেখানেই রয়েছেন।
সেদিন হাসপাতালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সহকারী সার্জন কেউ হাসপাতালে আসেননি। রোগীরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসককে না পেয়ে হতাশ হয়ে কেউ কেউ ফিরে যান। আবার কেউ প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিনিয়র স্টাফ নার্সের পরামর্শ নিচ্ছেন। নার্সের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের ওষুধ দিচ্ছেন ফার্মাসিস্টরা। দুপুর পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের সময়ে ৩০-৪০ জন রোগীকে হাসপাতালে দেখা যায় এবং তাদের অনেকেই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ওষুধ গ্রহণ করেন।
একটি বিষয় এখানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, বিনামূল্যের ওষুধের জন্য পাকশী ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত রেলওয়ে কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের স্ত্রী-সন্তানরা এখানে বেশি আসেন।
আরও পড়ুন
অস্ত্রোপচার হয় না মেহেরপুরের কোনো সরকারি হাসপাতালে
দ্বিতীয় দিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দুইজন রেল কর্মচারী বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার (ডিএমও) ডা. মো. শাকিল আহমেদ কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা চিকিৎসার জন্য এসেছেন। সেদিনও দেখা মেলেনি সহকারী সার্জনের। হাসপাতালের রোগীদের ওয়ার্ড খোলা থাকলেও সেখানে কোনো রোগীর দেখা মেলেনি।
বন্ধ হয়ে গেছে বৃটিশদের মাতৃমঙ্গল চিকিৎসা ইউনিট
ব্রিটিশ শাসনামলে এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাকালে মাতৃমঙ্গল ইউনিট চালু করে ব্রিটিশ সরকার। গর্ভবতী নারীদের নিরাপদে সন্তান প্রসব ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা প্রদান করার জন্য এই ইউনিট তৎকালীন সময়ে বেশ সাড়া ফেলে। রেলওয়ে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের স্ত্রী-সন্তানদের এখানে বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। কিন্তু লোকবল সংকট ও নানা অজুহাতে ১৯৯০ সালে মাতৃমঙ্গল ইউনিট বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ডায়রিয়া ও যক্ষ্মা ইউনিট বন্ধ, ভবন পরিত্যক্ত
এ হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে ডায়রিয়া ও যক্ষ্মা (টিবি) রোগীদের জন্য আলাদা ভবন ছিল। এই ভবনে একসময় ডায়রিয়া ও যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। এখন ডায়রিয়া ও যক্ষ্মা ইউনিট নেই। ১৯৯৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ভবনটি অযত্ন অবহেলায় দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় এখন পরিত্যক্ত। চারপাশে জঙ্গল থাকায় সেখানে বসত গড়েছে বিষাক্ত পোকামাকড়।
বিলীন হয়েছে হাসপাতালের মর্গ
এখন কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে মরদেহ ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) করার জন্য পাবনা জেলা শহরের জেনারেল হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। অথচ একসময় ঈশ্বরদীর পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালে ছিল পোস্টমর্টেম ঘর। হাসপাতালের পশ্চিম প্রান্তে সেই পোস্টমর্টেম ঘরটি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ১৯৯০ সালের পর এখানে আর পোস্টমর্টাম হয় না।
নেই আধুনিক সরঞ্জাম, বন্ধ অপারেশন থিয়েটার
আধুনিক সরঞ্জামের অভাব ও লোকবল সংকটে প্রায় ২৮ বছর বন্ধ এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। এক্সরে ও ইসিজি ছাড়া হাসপাতালে আধুনিক কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।
হারিয়ে গেছে যা কিছু
বিশাল অবকাঠামোর এ হাসপাতাল যখন এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এটি ছিল পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। প্রতিদিন শত শত রোগীর ভিড় আর কোলাহলে মুখরিত থাকতো এ হাসপাতাল চত্বর। কিন্তু এখন এখানে সুনসান নীরবতা। হারিয়ে গেছে সব কোলাহল। এ হাসপাতালে আন্তঃসেবা বিভাগ (রোগী ভর্তি) বন্ধ হয়ে গেছে। নামেমাত্র জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার মতো সবসময় চিকিৎসক থাকে না। একজন মাত্র নার্স জরুরি, বহির্বিভাগসহ পুরো হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। বিকেলের পর এ হাসপাতালে আর কোনো চিকিৎসক বা কর্মচারী থাকেন না। শুধুমাত্র নিরাপত্তাকর্মীরা হাসপাতাল নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকেন।
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, জরুরি প্রসূতি সেবা (নরমাল ডেলিভারি), গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা সেবাসহ নানা ধরনের চিকিৎসা এখানে এখন আর পাওয়া যায় না। প্যাথলজি ও ল্যাবরেটরি এখন নেই। অপারেশন থিয়েটার বন্ধ। এছাড়াও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য তিন বেলা খাবার বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও সেটিও কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ময়নাতদন্তের ঘরটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এই হাসপাতাল জুড়ে এখন শুধু সব হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার।
পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের সাবেক এক প্রকৌশলীর স্ত্রী রাশিদা খাতুন বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। হাত আন্দাজে এখান থেকে ওষুধ নিয়ে খাই। এতে অসুখ ভালো হবে নাকি আবার নতুন অসুখ শুরু হবে সেটা বলতে পারি না। আমরা চাই আগের মতো এ হাসপাতালে ডাক্তার, নার্সসহ কর্মচারী নিয়োগ করে হাসপাতাল প্রাণবন্ত করে তুলুক। যাতে এখান থেকে আমরা চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারি।
আরও পড়ুন
থাকার কথা ৩৭১ জন চিকিৎসক, আছেন ২০ জন
হাসপাতালের কর্মচারীদের ভাষ্য
এ হাসপাতালে স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত সাইফুল ইসলাম বলেন, পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল ১৯৬৩ সালে এখানে স্থানান্তর করা হয়। কালের বিবর্তনে এখনো ঐতিহ্য ও সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ডাক্তার ও নার্সসহ সকল পদে লোকবল সংকট। এখন শুধুমাত্র আউটডোর সেবা চলছে।
হাসপাতালে সিনিয়র নার্স মোছা. মমতাজ বেগম বলেন, এখানে সিনিয়র নার্সের পদ রয়েছে ৬টি। এরমধ্যে শুধুমাত্র আমি কর্মরত রয়েছি। জরুরি কোনো রোগী এলে ডিউটি না থাকলেও বাধ্য হয়ে আমাকে আসতে হয়। আমাদের জনবল সংকট। জনবল দিলে ভালোভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ভাষ্য
পাকশী বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. মো. শাকিল আহমেদ বলেন, পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল একটি ঐতিহ্যবাহী হাসপাতাল। হাসপাতালটির জৌলুস এখন আরেক চেয়ে অনেক কম। এর প্রধান কারণ হচ্ছে জনবল সংকট। মোটামুটি বলা চলে তিনভাগের একভাগ জনবল দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি এ হাসপাতালে আরও জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করে, তাহলে হাসপাতাল আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, লোকবল নিয়োগের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে জনবল নিয়োগ দেবে। জনবল পেলে আবার আগের মতো চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা কামাল জাগো নিউজকে বলেন, পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো হাসপাতাল। এ হাসপাতালের এলাকাও অনেক বড়। মূল সমস্যা হচ্ছে এ হাসপাতালে ডাক্তার ও জনবল সংকট। সেটি হলে অন্য সমস্যাগুলোও সমাধান হয়ে যাবে। এখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার এলে সেবার মানও বাড়বে। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে। আশা করি অচিরেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আনিছুল হক বলেন, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে যেসব হাসপাতাল রয়েছে এসব হাসপাতালের জন্য ৩৭ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। কিন্তু আছে মাত্র ৭ জন। তাই একজন চিকিৎসককে একাধিক হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এছাড়াও অন্যান্য পদে লোকবল সংকট তো রয়েছেই। চিকিৎসক ও লোকবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে প্রায়ই অবহিত করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও অন্যান্য পদে লোকবল নিয়োগ পাওয়ার পরই হাসপাতালগুলোর সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান সম্ভব হবে।
এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন