জাতীয়

প্রেমে না জড়িয়ে যেভাবে সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
জীবনসঙ্গী খোঁজার বিষয়ে তরুণদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা বলা জরুরি, বিশেষ করে যারা বিয়ের পরিকল্পনা করছেন। আপনারা জীবনসঙ্গী খোঁজার জন্য যে সমস্ত পন্থা অবলম্বন করেন, যে ধরনের চিন্তাভাবনা করেন, কথোপকথন চালান কিংবা সামাজিক মেলামেশা করেন তা আপনাদের ও আল্লাহর মধ্যকার বিষয়। কাউকেই বিচার করার অধিকার আমার নেই, তবে আমি জানি আপনাদের অনেকের অন্তরেই এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে। আমার প্রথম বিনীত অনুরোধ হলো এই জীবনে আপনার কাছে থাকা সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি হলো একটি পরিচ্ছন্ন হৃদয়। কারণ পরকালে জান্নাত ও নাজাতের একমাত্র চাবিকাঠি হলো এই কালবুন সালিম বা পরিচ্ছন্ন অন্তর্দৃষ্টি। আপনি যখন কোনো অবৈধ বা অসংগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তখন আপনার সেই পবিত্র হৃদয় ধুলোবালি ও ময়লায় ধূসর হতে শুরু করে। আর আত্মিকভাবে কলুষিত হৃদয় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সান্নিধ্যের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই কখনোই মনে করবেন না যে শরিয়তবহির্ভূত সম্পর্ক বা অনুচিত সামাজিক মেলামেশার কোনো আত্মিক প্রভাব নেই। এটি অবশ্যই আপনার অন্তরে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং আপনার ভেতরের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ অর্থাৎ ইমানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে ফেলে। জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব বা বাহ্যিক আকর্ষণে অনুপ্রাণিত হওয়া স্বাভাবিক এবং এতে শরিয়তের কোনো বাধা নেই। তবে এই প্রক্রিয়ায় মৌলিক নীতিগুলো বিসর্জন দেওয়া যাবে না। শরিয়তের নীতি মেনে চললে নিজের সম্পর্কের মাঝে বহুগুণ বরকত দেখতে পাবেন। প্রথমত, তরুণদের বুঝতে হবে যে মেয়েটিকে আপনার পছন্দ হয়েছে, সে কারও বোন, কারও কন্যা এবং একটি পরিবারের মান-মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক। তার দিকে কুরুচিপূর্ণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত নজর দেওয়ার আগে একবার ভাবুন অন্য কেউ যদি আপনার নিজের বোনের দিকে সেভাবে তাকায়, তবে আপনার কেমন লাগবে? পছন্দের মানুষকে দেখে কেবল একটি শুভ দৃষ্টি দেওয়া এবং বিয়ের মহৎ নিয়ত করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। এরপর সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্মানজনক ও মার্জিত পন্থা অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কাউকে পছন্দ হলে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও পরোক্ষ মাধ্যম ব্যবহার করুন। সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো কোনো বন্ধু, কিংবা ওই নারী যার মেয়ে বা বোন তাকে চেনে এমন কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো। কারণ আপনি সরাসরি যোগাযোগ করতে গেলে শয়তান সেখানে প্ররোচনা দেওয়ার সুযোগ পায়। সেখান থেকে হাসাহাসি, এরপর বার্তা আদান-প্রদান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়া, গভীর রাতে ফোনালাপ কিংবা ভিডিও কলে কথা বলা শুরু হয়। এভাবে ধীরে ধীরে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে, এভাবে পরোক্ষভাবে প্রস্তাব পাঠালে একে অপরকে চিনবে কীভাবে? বিয়ের আগে অবশ্যই একে অপরকে জানার ও বোঝার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরিবারকে যুক্ত করতে হবে। দুই পরিবারের মধ্যে সরাসরি ও সম্মানজনক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত। এতে অহেতুক সংকোচের কিছু নেই এবং একে তখনই চূড়ান্ত আংটি বদল বা বাগদান মনে করারও কারণ নেই। এটি কেবল দুটি পরিবারের মধ্যে একটি শালীন জানাশোনার প্রক্রিয়া। পরিবারকে এ বিষয়ে আগে থেকেই জানানো উচিত। অনেক সময় তরুণরা মনে করে বিষয়টি এখনো অতটা গুরুতর হয়নি, তাই অভিভাবকদের জানানো যাবে না। বাস্তবে সেখানেই ভুলটি হয়। বিষয়টিকে জটিল না করে শুরুতেই পরিবারকে জানানো ভালো। অভিভাবকরা সাথে থাকলে এবং একজন অভিভাবকের উপস্থিতিতে কথা বললে বিষয়টি একধরনের সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে থাকে। এতে পরবর্তীকালে সম্পর্ক না টিকলেও কোনো পক্ষ আবেগীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আবেগীয়ভাবে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ার মূল সমস্যা হলো, এতে বাস্তবসম্মত চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। না বুঝে অতিমাত্রায় মোহগ্রস্ত হয়ে পড়লে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে। তখন নিজের মা-বাবা, পরিবারের সদস্য বা অভিজ্ঞ বয়স্কদের উপদেশ কোনো কাজে আসে না। কেউ তাদের উপদেশ দিয়ে আর ফেরাতে পারে না। এমতাবস্থায় যদি পরিণতি শুভ না হয়, তবে পুরো জীবন ও পরবর্তী সম্পর্কের ওপর তার এক ধরনের গভীর ক্ষত থেকে যায়। যা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার পরিবারকে উপেক্ষা করে জোর করে বিয়ে করলেও পারিবারিক সম্পর্কে বড় ফাটল ধরে। তাই পথচলার শুরুতেই আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কোনো সম্মেলনের করিডোরে কাউকে হেঁটে যেতে দেখে হঠাৎ চোখ আটকে যাওয়া কোনো ভালোবাসা নয়; এটি কেবলই কৈশোরের হরমোনের প্রভাব। আমাদের সমাজে এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যহীন অবস্থা তৈরি হয়েছে। তরুণ সমাজের জন্য আমার পরামর্শ হলো পারিবারিক ও ধর্মীয় সীমানার বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি আরেকটু দায়িত্বশীল ও কঠোর করা। অন্যদিকে মা-বাবা ও অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ হলো সন্তানদের বিষয়ে অতিরিক্ত কঠোরতা কমিয়ে আরও বাস্তবসম্মত ও নমনীয় হওয়া। তরুণরা কোনো সীমানা মানতে চাইছে না, আর অভিভাবকরা অতিরিক্ত কঠোর হয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন। আমাদের সমাজকে সুন্দর রাখতে উভয় পক্ষকেই এই ভারসাম্যের জায়গায় আসতে হবে। সূত্র: ইউটিউব, প্রিভেইল ইসলাম ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>