বিজ্ঞাপন
রামবুটান ফলের ভেতরে সোনার রিং, কফি ও ট্যাংয়ের মিনি প্যাকেটে দানাদার সোনা, কুলিং ফ্যান ও দরজার কবজির ভেতরে সোনার পিণ্ড। এমনকি ছাতা ও পানির ট্যাপেও বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা হয়েছে সোনা।
দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউজে চোরাচালানের সময় উদ্ধার হওয়া এসব সোনাসহ অভিনব কৌশলে পাচার করা বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে রাজধানীতে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’ এর বিভিন্ন স্টলে। এসব প্রদর্শনী ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনস্থল শুধু রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনী নয়, সারাদেশ থেকে আসা এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলনমেলায়ও পরিণত হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলবেঁধে ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী দুপুর দেড়টার দিকে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার পর তা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সম্মেলনের কাস্টমস, ল্যান্ডপোর্ট, এয়ারপোর্ট স্টলগুলোতে প্রদর্শন করা হয় চোরাচালানের সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন সোনার চালান। এর মধ্যে রামবুটান ফলের ভেতরে লুকানো সোনার রিং, কফির মিনি প্যাকেট এবং ট্যাংয়ের প্যাকেটের মধ্যে রাখা দানাদার সোনা ও সোনার রিং ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
এ ছাড়া কুলিং ফ্যান ও দরজার কবজির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো সোনার পিণ্ডও প্রদর্শন করা হয়। ছাতা ও পানির ট্যাপের মতো সাধারণ ব্যবহার্য সামগ্রীর ভেতরেও কীভাবে সোনার পিণ্ড লুকিয়ে আনা হয়েছে, তা তুলে ধরা হয় প্রদর্শনীতে।
পাওয়ার ব্যাংক, সাবান, খেলনা গাড়ি ও বইয়ের ভেতরে লুকানো সোনার রিং এবং সোনার বারও ছিল প্রদর্শিত সামগ্রীর তালিকায়। চোরাচালানের আরও নানা কৌশলের নমুনাও তুলে ধরা হয়েছে সম্মেলনের স্টলে। ডায়েরির মলাটের ভেতরে লুকানো হেরোইন এবং জ্যাকেটের ভেতরে বিশেষ কায়দায় তৈরি করে লুকিয়ে আনা সোনার পেস্ট প্রদর্শন করা হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চোরাচালানকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে সোনা, মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের চেষ্টা করে। এসব চালান শনাক্ত ও আটক করতে কাস্টমসের গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
শুধু চোরাচালান প্রতিরোধে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নয়, রাজস্ব আহরণের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শনও স্থান পেয়েছে সম্মেলনের স্টলগুলোতে।
প্রদর্শনীতে ছিল এনবিআর কর্মকর্তাদের হাতে উদ্ধার হওয়া দুর্লভ মূর্তি, বিভিন্ন দেশের পুরোনো মুদ্রা, সিগারেটের ব্র্যান্ড ও প্যাকেট, ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়করসংক্রান্ত ঐতিহাসিক দলিল। আয়কর প্রবর্তনের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া সম্রাট শাহ আলম ও মোহাম্মদ শাহের আমলের মুদ্রা এবং রাজস্ব আদায়ে ব্যবহৃত পুরোনো টাইপরাইটার দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। রাজস্ব সম্মেলনে ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি এনবিআরের আধুনিক ও ডিজিটাল সেবার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়েছে।
ই-রিটার্ন, করসাথী, বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো, কাস্টমস ও আয়করসংক্রান্ত স্টলে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ও সেবা সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।
রাজস্ব সম্মেলনের সচিব ও কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের অনুষ্ঠানের কার্যক্রম দেখে খুশি হয়েছেন। তিনি প্রত্যেকটি স্টল ঘুরেছেন প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় দিয়েছেন।
সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক স্টলে এনবিআর কর্মকর্তারা আছেন। সবার মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ, উদ্দীপনা কাজ করছে।
রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬ উদ্বোধন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও জনবান্ধব, দক্ষ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়।
সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেন, রাজস্ব আহরণ নিছক প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের পবিত্র ব্রত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। এটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের প্রয়োজনেই এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এনবিআর।
এসএম/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন