জাতীয়

বিরল সূর্যগ্রহণে মুগ্ধ যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের লাখ লাখ মানুষ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছে। এক প্রজন্মে একবার দেখা যায় এমন এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য থেকে যারা এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখেছেন, তারা আংশিক সূর্যগ্রহণের দৃশ্য উপভোগ করেছেন। দেশটির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর এর সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা যায়। এ সময় দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে চাঁদ সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ ঢেকে ফেলে। তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দেখা গেছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সেখানে কিছু সময়ের জন্য পুরোপুরি অন্ধকার নেমে আসে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনা তাদের মহাবিশ্ব কতটা ‘অসাধারণ’, তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হয়েছিল রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে, যেখানে মানুষের ভিড় ও টেলিস্কোপের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। এরপর এটি আর্কটিক মহাসাগরের দিকে বাঁক নেয় এবং সন্ধ্যার দিকে আইসল্যান্ডে পৌঁছায়। পরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে যুক্তরাজ্যেও আংশিক সূর্যগ্রহণের দৃশ্য তৈরি করে। উত্তর স্কটল্যান্ডে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে এটি শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের কিছু আগে। শুরুতে ঘটনাটি খুব একটা বোঝা যাচ্ছিল না। তবে যেসব এলাকায় আকাশ মেঘমুক্ত ছিল, সেখানে মানুষ ধীরে ধীরে চাঁদকে সূর্যের ওপর এগিয়ে যেতে এবং সূর্যের আলো ঢেকে দিতে দেখতে পান। মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকায় মানুষ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চাঁদকে ধীরে ধীরে সূর্যের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে দেখেছেন। ফলে এসব এলাকায় সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ ছিল অত্যন্ত ভালো। উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে আকাশ তুলনামূলক মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তবুও দেশটির বিভিন্ন বিখ্যাত স্থানে সূর্যগ্রহণ দেখতে মানুষের ভিড় কমেনি। অনেকে সূর্যগ্রহণ দেখার বিশেষ চশমা সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে ঘটনার আগে এসব চোখ সুরক্ষার চশমার ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। চশমার দোকান, হার্ডওয়্যার দোকান এমনকি বেকারিগুলোতেও এসব চশমা বিক্রি হয়ে যায়। তবে এতে মানুষ নিরুৎসাহিত হননি। সূর্যগ্রহণ নিরাপদে দেখার জন্য কেউ ছাঁকনি, কেউ আবার কেউ কাগজের টুকরো ব্যবহার করেন। সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে এবং সূর্যের কিছু অংশ বা পুরো আলো আটকে দিয়ে পৃথিবীর ওপর ছায়া ফেলে। সময় যত গড়িয়েছে, চাঁদ ধীরে ধীরে সূর্যের আরও বেশি অংশ ঢেকে ফেলেছে। এ সময় সূর্যের আলো অনেকটা ডিমারের মাধ্যমে কমিয়ে দেওয়ার মতো করে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়। যুক্তরাজ্য থেকে দেখা সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি সরলরেখায় অবস্থান করছিল না। ফলে সেখানে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ এলাকায় চাঁদ সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢেকে ফেলে। ১৯৯৯ সালের পর এটিই ছিল দেশটির সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ। কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ ঢেকে যায়। তবে স্পেনের কিছু এলাকায় আরও অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি সরলরেখায় চলে আসে। ফলে সেখানে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন ক্যাট্রিচেও এই দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আ কোরুনিয়ায় যান। তিনি বলেন, পূর্ণগ্রহণের সময় সবাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন এবং নিজেদের দেখা দৃশ্যের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছিলেন। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার ভাষায়, ‘মহাবিশ্ব অসাধারণ।’ পৃথিবীর কোনো না কোনো স্থানে প্রায় প্রতি ১৮ মাসে একবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে নির্দিষ্ট কোনো একটি স্থানের জন্য এটি অনেক বেশি বিরল। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রায় ৪০০ বছরে একবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে। স্পেনে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথের মধ্যে থাকা মানুষ সেই বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পান। এ সময় চাঁদের পেছনে সূর্যের লালচে আভাও দেখা যায়। অন্ধকারের মধ্যে যে আলো দেখা যায়, সেটি সূর্যের করোনা। এটি সূর্যের অতিরিক্ত উত্তপ্ত গ্যাসের প্রবাহ, যা হাজার হাজার মাইল দূর পর্যন্ত মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। যারা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন, তারা সূর্যের অস্থির চৌম্বকক্ষেত্র অনুসরণ করে থাকা গোলাপি রঙের ছোট ছোট গ্যাসের লুপ বা প্রমিনেন্সও দেখতে পেয়ে থাকতে পারেন। এরপর চাঁদ ধীরে ধীরে সূর্যকে আবার দৃশ্যমান করে তোলে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হয়েছিল দুই মিনিটেরও কম সময়। কিন্তু অনেকের কাছেই এটি হয়ে থাকবে আজীবন মনে রাখার মতো একটি অভিজ্ঞতা। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পাওয়ার ঘটনাটিই একটি অসাধারণ মহাজাগতিক কাকতালীয় ঘটনা। সূর্য পৃথিবী থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে—চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ বেশি দূরে। আবার চাঁদের ব্যাস সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ ছোট। এ কারণেই পৃথিবী থেকে আকাশে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের বলে মনে হয়। সূত্র: বিবিসি এমএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>