জাতীয়

বাংলাদেশি দম্পতির আফ্রিকা মহাদেশে পর্বতাভিযান

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আফ্রিকা মহাদেশের দুর্গম পর্বতশৃঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত করলেন বাংলাদেশি দম্পতি জুনায়েদ সরকার ও মাহজাবিন আহমেদ। আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর এবং আরেক গুরুত্বপূর্ণ পর্বত মাউন্ট মেরু অভিযান সম্পন্ন করেছেন তারা। জুনায়েদ সরকার ও মাহজাবিন আহমেদের এই পর্বতাভিযান শুরু হয় ২৩ জুলাই। তানজানিয়ার আরোশা ন্যাশনাল পার্কের মোমেল্লা গেট থেকে মাউন্ট মেরুর উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু করেন তারা। প্রথম দিন প্রায় ১০ কিলোমিটার ট্রেকিং করে তারা পৌঁছান ৮২৫০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত প্রথম ক্যাম্প মিরিয়াকাম্বা হাটে। সেখানে রাতযাপনের পর দ্বিতীয় দিন সকালে শুরু হয় ১১,৭১৫ ফুট উচ্চতার দ্বিতীয় ক্যাম্প স্যাডল হাটের উদ্দেশ্যে আরোহণ। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা ট্রেকিং অব্যাহত রাখেন। ১২,৬৫০ ফুট উচ্চতার মাউন্ট লিটল মেরুর শীর্ষে আরোহণ করে সেখানে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেন। আরও পড়ুন আন্তর্জাতিক ট্রেইল রানে বাংলাদেশের নোশিনের স্বপ্নজয় ২৬ জুলাই মাউন্ট মেরু অভিযান শেষ করে অবতরণ করেন তারা। কিন্তু আফ্রিকার দুর্গম পর্বতপথে তাদের অভিযান সেখানেই থেমে থাকেনি। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ২৭ জুলাই শুরু হয় আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো অভিযান। ২৭ জুলাই জুনায়েদ সরকার ও মাহজাবিন আহমেদ পৌঁছান ৬,৫৩৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কিলিমাঞ্জারো ন্যাশনাল পার্কের মারাঙ্গু গেইটে। সেখান থেকে ঘন পাহাড়ি বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাদের দীর্ঘ ট্রেকিং। প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাত ৮টার দিকে তারা পৌঁছান ৮,৯১০ ফুট উচ্চতার মান্দারা হাটে। পরদিন ২৮ জুলাই শুরু হয় আরও কঠিন উচ্চতার পথচলা। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পার্বত্য আলপাইন উচ্চভূমি অতিক্রম করে তারা পৌঁছান ১২,২৮০ ফুট উচ্চতার হরম্বো হাটে। ২৯ জুলাই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মান্দারা হাট থেকে অ্যাক্লিমাটাইজেশন বা উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য হাইকে বের হন। এ সময় ১৩,৬০০ ফুট উচ্চতার জেব্রা রকে আরোহণ করেন তারা। পরে আবার মান্দারা হাটে ফিরে এসে সেখানেই রাতযাপন করেন। আরও পড়ুন এভারেস্ট বিজয়ী বাংলাদেশি নিম্নির পতাকা প্রত্যার্পণ এরপর আসে অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। ৩০ জুলাই সকালে শুরু হয় কিলিমাঞ্জারোর শেষ ক্যাম্প কিবো হাটের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ট্রেকিং। প্রায় ১৫ কিলোমিটার আলপাইন পার্বত্য মরুভূমি অতিক্রম করে বিকেল ৩টার দিকে তারা পৌঁছান ১৫,৫১০ ফুট উচ্চতার কিবো হাটে। সেখান থেকেই শুরু হয় চূড়ান্ত সামিট পুশ। ৩০ জুলাই রাত ১২টায় কিবো হাট থেকে শীর্ষারোহণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন জুনায়েদ সরকার ও মাহজাবিন আহমেদ। দীর্ঘ রাতের আরোহণ শেষে ৩১ জুলাই সকাল ৮টার দিকে তারা পৌঁছে যান মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর দক্ষিণ সামিট পয়েন্ট গিলম্যান পয়েন্টে। সেখানে উড়িয়ে দেন বাংলাদেশের প্রাণের লাল-সবুজ পতাকা। আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতের উচ্চতায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই মুহূর্ত তাদের অভিযানের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে। আরও পড়ুন দুঃসাহস আর বিশ্বজয়ের অনুপ্রেরণা ইফফাত ফারহানা জুনায়েদ সরকার ও মাহজাবিন আহমেদ দুজনই বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ক্লাব বিএমটিসি এবং অভিযাত্রীর সদস্য। পাশাপাশি তারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইশকুলেরও সদস্য। এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>