স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশঃ 19-জুন-2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল: এক এজলাসে দুই বিচারক, নেই স্থায়ী পিপি!

চট্টগ্রাম: শিশু ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চট্টগ্রামে গঠন করা হয়েছিল বিশেষায়িত ‘শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল’। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সংকট ও জোড়াতালির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে এর বিচারিক কার্যক্রম। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালটিতে ১ হাজার ৯২টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও গত সাড়ে চার মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র একটি মামলা।

সংকটের মূল চিত্র: এক এজলাসে দুই আদালত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬) আইনের অধীনে গত ১২ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়। নগরের ১৬ থানা এবং জেলার ১৭ থানার জন্য পৃথক দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও বাস্তবতা হলো—বিচারক দুজন হলেও এজলাস মাত্র একটি! ফলে একজন বিচারক এজলাস থেকে নামলে তবেই অন্যজনকে বিচারকাজ শুরু করতে হয়।

এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল দুটিতে কোনো স্থায়ী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর পিপি যথাক্রমে আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস এবং মাহমুদুল আলম চৌধুরীকে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বছরের পর বছর ঝুলছে বিচার

আলাদা ট্রাইব্যুনাল হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত বিচারের আশা করলেও বাস্তব চিত্র হতাশাজনক। বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার ২০২২ সালের একটি শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ এখনো শুরুই হয়নি। একইভাবে চান্দগাঁও এলাকার ২০১৯ সালের একটি মামলার বিচারও ৭ বছরেও শেষ করা সম্ভব হয়নি।

ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত: ২৬ দিনে রায়

নানা সংকটের মধ্যেও গত বুধবার বাকলিয়া থানার ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় ব্যতিক্রমী এক দ্রুততম রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২২ মে মামলা দায়েরের পর মাত্র ২৬ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরুর মাত্র ৮ কার্যদিবসের মধ্যে আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ায় এই দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে করণীয়:

ভারপ্রাপ্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তারের মতে, ট্রাইব্যুনালটিকে কার্যকর করতে হলে নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত নেওয়া জরুরি:

  • আলাদা এজলাস স্থাপন: জেলা ও মহানগর ট্রাইব্যুনালের জন্য দুটি পৃথক এজলাসের ব্যবস্থা করা।

  • স্থায়ী পিপি নিয়োগ: অতিরিক্ত দায়িত্বের ওপর নির্ভর না করে এখানে আলাদা সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া।

  • জনবল সংকট দূরীকরণ: প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বেঞ্চ সহকারী ও জারিকারকসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া।

  • সাক্ষী হাজিরা নিশ্চিত করা: ধার্য তারিখে বাদী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেওয়ানবাগ আন্ডারপাস নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ বন্ধ

1

চট্টগ্রামে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল: এক এজলাসে দুই বিচা

2

এমপিও শিক্ষকদের বদলিতে বেসরকারি চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীর কর্

3

রাজধানীর ওয়ারী থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

4

কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও আবাহনীর প্রথম অধিনায়ক আব্দুস সাদেক আ

5

ড্রেসিংরুমে রহস্যময় চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ল ইরান ফুটবল দ

6

ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ৮ নম্বর ওয়

7

মদনে গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২

8

মদনে খাদ্য ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রি, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ব

9

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ২০২৬

10

মদনে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

11

চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন

12

সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য আটক, আদালতে পাঠান

13

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্

14

শেয়ারবাজারে ঝুঁকিতে ৪২ কোম্পানি, সতর্কবার্তা দিল ডিএসই

15

স্বর্ণের দামে বড় পতন: ভরিতে কমলো ৪,৩৭৪ টাকা, জানুন নতুন দাম

16

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের ৬০ দিনের চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে সমালোচন

17

যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোয় ইউক্রেনের ইতিহাসের বৃহত্তম ড্রোন হামলা

18

দুদক কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন | গেজেট প্রকাশ

19

মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিব

20