
১৫-২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। আমরা ঘুরে এলাম যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের কলম্বাস। আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কলম্বাস। উপলক্ষ—আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হাসান রেজা ও পুষ্টিবিশেষজ্ঞ শারমিন হোসেন রিতার আতিথ্য গ্রহণ। তাঁরা দুজনেই নিজ নিজ কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের একমাত্র মেয়ে সানিলা। সেও একজন মেধাবী নব্য-প্রকৌশলী, চাকরি করে ওয়াশিংটন ডিসিতে। সানিলাও এসেছে আমাদের মাঝে যোগ দিতে। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও বন্ধুত্বের যে উষ্ণতা তাঁরা ধরে রেখেছেন, তাঁদের বাড়িতে এসে আবার তা অনুভব করলাম। কয়েকটি দিন বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, স্মৃতিচারণা আর ঘোরাঘুরির মধ্য দিয়ে কাটবে—এটাই ছিল আমাদের পরিকল্পনা। কলম্বাসে রয়েছে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্র্যাঙ্কলিন পার্ক কনজারভেটরি ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কেন্দ্র (COSI) এবং বিশ্বখ্যাত কলম্বাস চিড়িয়াখানা। এ ছাড়া সায়োটো নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা মনোরম ‘সায়োটো মাইল’ পার্কের সবুজ পরিবেশ ও শহুরে সৌন্দর্য কলম্বাসকে একটি দারুণ বাসযোগ্য ও পর্যটনবান্ধব শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আমার বন্ধু-পরিবার ওহাইওর শান্ত, ছিমছাম শহর পাওয়েলের এক স্বপ্নিল বাড়িতে বাস করে। কাছেই সায়োটো (Scioto) নদীর তীরঘেঁষা ডাবলিন শহর—পুরোনো ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক চমৎকার মেলবন্ধন। নদীর ওপর মৃদু বাঁক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা S-আকৃতির ‘ডাবলিন লিংক’, যেন শুধু দুই তীরকেই নয়, অতীত আর বর্তমানকেও একটি অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে। নদীর ধারে সবুজ পার্ক, হাঁটার পথ, রেস্তোরাঁ আর মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য—সব মিলিয়ে বিকেল নামলেই জায়গাটি যেন হয়ে ওঠে ছোট্ট এক আনন্দমেলা। নদীর জলে সন্ধ্যার আলো পড়লে সেই আনন্দমেলার মাঝেও নেমে আসে এক আশ্চর্য প্রশান্তি। ডাবলিনের সেই প্রাণবন্ত পরিবেশ আমাদেরও বেশ টেনেছিল। তাই দুটি সন্ধ্যা আমরা সেখানে কাটালাম—নদীর ধারে হাঁটাহাঁটি, আলো-ঝলমলে চারপাশ আর মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য উপভোগ করে। এক সন্ধ্যায় রাতের খাবার খেলাম সেখানকার জনপ্রিয় একটি রেস্তোরাঁ, ‘কিচেন সোসাল’-এ, আর এসবের ফাঁকেও আমার স্ত্রী শিরিন চৌধুরী কিন্তু বিখ্যাত ‘জেনিস স্প্লেন্ডিড আইসক্রিমস’-এর কথা মোটেই ভুলে যায়নি। সব মিলিয়ে সায়োটো নদীর তীরে ডাবলিনের সেই সন্ধ্যাগুলো আমাদের ওহাইও ভ্রমণের আনন্দময় কিছু স্মৃতি হয়ে রইল।
১৭ সেপ্টেম্বরের সকাল। আকাশজুড়ে তখন মেঘের আনাগোনা। একটু পরেই নেমে এল হালকা বৃষ্টি—যেন দিনের শুরুতে প্রকৃতির ছোট্ট এক অভ্যর্থনা। তবে সে বৃষ্টি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না; মেঘের আড়াল সরিয়ে হঠাৎই উঁকি দিল সূর্য, আর তার কোমল আলোয় চারপাশ যেন মুহূর্তেই বদলে গেল। আমরা বেরিয়ে পড়লাম কলম্বাস চিড়িয়াখানা ও অ্যাকুয়ারিয়ামের উদ্দেশে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের প্রাণীদের এখানে এমনভাবে রাখা হয়েছে যে জায়গাটিকে শুধু একটি চিড়িয়াখানা বললে যেন পুরো পরিচয়টি দেওয়া হয় না। এটি একই সঙ্গে প্রাণী সংরক্ষণ, শিক্ষা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বোঝার একটি ক্ষেত্র। ছয় শতাধিক প্রজাতির প্রাণী রয়েছে এখানে; আফ্রিকার কঙ্গো অঞ্চলকে ঘিরে তৈরি অংশটিতে গরিলা, বনোবো, কোলোবাস বানর, ম্যান্ড্রিল, ওকাপিসহ নানা প্রাণী রাখা হয়েছে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
আমার কাছে অবশ্য চিড়িয়াখানায় যাওয়া আর দশজন দর্শনার্থীর মতো কেবল প্রাণী দেখা নয়। আমি প্রাণিবিদ্যা ও জিনতত্ত্বের ছাত্র—এ পরিচয়টি আমার জীবনের সঙ্গে এতটাই মিশে আছে যে কোনো প্রাণীর সামনে দাঁড়ালে আমার চোখের সঙ্গে অবচেতনভাবেই যোগ হয় বিবর্তন ও জিনতত্ত্বের আরেক জোড়া চোখ। একটি প্রাণীর শরীরের গঠন দেখি, তার চলন দেখি, চোখের দৃষ্টি লক্ষ করি; আর মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে—বিবর্তনের দীর্ঘ পথে আমরা কোথায় আলাদা হলাম, কোথায় এখনো এক রয়ে গেলাম?
শিম্পাঞ্জি ও গরিলা আমি আগেও বহুবার দেখেছি। তাদের অঙ্গভঙ্গি, সামাজিক আচরণ এবং মানুষের সঙ্গে বিবর্তনীয় সম্পর্ক নিয়েও আমার কিছু পড়াশোনা আছে। কিন্তু বনোবোকে (Pan paniscus) এত কাছ থেকে, এত সময় নিয়ে আগে কখনো দেখা হয়নি। সেদিন তাই বনোবোর সামনে এসে আমার পা যেন আটকে গেল।
গরিলা, কোলোবাস বানর পেরিয়ে আমরা এসে গেলাম এক বিস্ময়কর নরবানরের কাছে। আমার খুব কাছেই একটি বনোবো। আমাদের মধ্যে শুধু একটি লোহার জালের প্রতিবন্ধক। আমি এপাশে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছি, সে ওপাশে দাঁড়িয়ে যেন আমাকেই দেখছে। আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বনোবোটির দেহ ছিল সরু, হাত দুটি দীর্ঘ, পা তুলনামূলক লম্বা। মাথা, ঘাড় ও কাঁধে বড় বা ঘন লোম নেই; কালো মুখমণ্ডল প্রায় লোমহীন। দুই পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ভঙ্গিটি এতটাই স্বাভাবিক যে প্রথম দর্শনে মানুষের সঙ্গে তার শারীরিক সাদৃশ্য আমাকে বিস্মিত করেছিল। বিশেষ করে তার মুখের অভিব্যক্তি ও চোখের দৃষ্টি—মনে হচ্ছিল, আমি শুধু তাকেই দেখছি না, সেও গভীর কৌতূহলে আমাকে দেখছে।
একজন প্রাণিবিদ্যার ছাত্র হিসেবে এই অনুভূতিটি আমার কাছে অদ্ভুত। তার চোখ, মুখের অভিব্যক্তি, দাঁড়ানোর ভঙ্গি, হাতের ব্যবহার—সবকিছুর মধ্যেই কোথায় যেন চেনা একটি ছায়া। বিশেষ করে চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, ওই দৃষ্টির মধ্যে নিছক কোনো বন্য প্রাণীর নির্বিকার তাকিয়ে থাকা নেই; আছে কৌতূহল, সচেতনতা, হয়তো আমাকে বোঝার একধরনের চেষ্টা। আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। সেও রইল। সে কি যেন জানতে চায় আমার কাছ থেকে!

মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি যে কটি জীবন্ত প্রাণী রয়েছে, বনোবো তাদের অন্যতম। মানুষের সঙ্গে বনোবোর ডিএনএর সাদৃশ্য প্রায় ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে জিনতত্ত্বের ছাত্র হিসেবে এখানে একটি কথা যোগ করা প্রয়োজন—ডিএনএর ‘শতাংশ সাদৃশ্য’ কোন পদ্ধতিতে গণনা করা হচ্ছে, তার ওপর সংখ্যাটি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। শুধু একই ধরনের ডিএনএ অংশের নিউক্লিওটাইড প্রতিস্থাপন তুলনা করলে একধরনের সংখ্যা পাওয়া যায়; কিন্তু ইনসার্শন, ডিলিশন, ডুপ্লিকেশনসহ পুরো জিনোম বিবেচনা করলে হিসাবটি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তবু মূল সত্যটি বিস্ময়করভাবেই অটুট—বনোবো ও শিম্পাঞ্জি মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি প্রাণী। ভাবা যায়—প্রায় ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ মিল! আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণীটির দিকে তাকিয়ে সংখ্যাটি তখন আর পাঠ্যবইয়ের তথ্য হয়ে থাকল না। সেটি যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল।
আমরা মানুষ নিজেদের সভ্যতার শিখরে দাঁড়িয়ে আলাদা এক জীব বলে ভাবতে ভালোবাসি। সৃষ্টির সেরা জীব। আমাদের ভাষা আছে, সাহিত্য আছে, সংগীত আছে, বিজ্ঞান আছে; আমরা ডিএনএর ‘ডাবল হেলিক্স’ গঠন আবিষ্কার করেছি, মহাকাশযান পাঠিয়েছি সৌরজগতের বাইরে। কিন্তু সেই অসাধারণ মানবসভ্যতার শরীরটি যে বহন করছে কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের ইতিহাস—বনোবোর সামনে দাঁড়ালে সেই সত্যটি নতুন করে উপলব্ধি হয়।
বনোবোর শারীরিক গঠনও আকর্ষণীয়। শিম্পাঞ্জির তুলনায় তাদের দেহ সাধারণত কিছুটা সরু, পা তুলনামূলক দীর্ঘ, মুখ কালো, ঠোঁটের চারপাশে কখনো গোলাপি আভা দেখা যায়। তারা চার পায়ে চললেও প্রয়োজনমতো দুই পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে এবং বেশ কিছু দূর হাঁটতেও পারে। কিন্তু বনোবোর সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক সম্ভবত তার শরীর নয়, তার সমাজ। শিম্পাঞ্জি সমাজে পুরুষের প্রতিযোগিতা ও আগ্রাসনের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বেশি। বনোবোর সামাজিক সংগঠন ভিন্ন ধরনের। এখানে স্ত্রী বনোবোদের পারস্পরিক বন্ধন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দল সাধারণত স্ত্রী-নেতৃত্বাধীন। তাদের সমাজে সহযোগিতা, সামাজিক বন্ধন এবং উত্তেজনা প্রশমনের নানা আচরণ দেখা যায়। আবার দিনের বিভিন্ন সময়ে বড় দলটি ছোট ছোট উপদলে বিভক্ত হয়, পরে আবার একত্র হয়, যাকে প্রাণিবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফিশন-ফিউশন সমাজ’ বলা হয়। কলম্বাস চিড়িয়াখানার বনোবো আবাসটিও এই জটিল সামাজিক কাঠামোর কথা মাথায় রেখেই তৈরি। আর এখানেই কলম্বাস চিড়িয়াখানার শিক্ষামূলক চরিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
একটি ভালো চিড়িয়াখানা শুধু শিশুকে জিরাফ দেখাবে না, বাঘের সামনে ছবি তুলতে দেবে না কিংবা গরিলার বিশাল দেহ দেখে বিস্মিত করবে না। তার আরও বড় দায়িত্ব আছে। তাকে মানুষকে শেখাতে হবে—এই পৃথিবী শুধু মানুষের নয়। আমরা জীবজগতের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো স্বতন্ত্র সত্তা নই; আমরাও এই বিশাল জীববৃক্ষের একটি শাখা। বনোবোর সামনে দাঁড়িয়ে সেই জীববৃক্ষটি যেন আমি চোখে দেখতে পাচ্ছিলাম।
আরও একটি বিষয় আমাকে ভাবিয়েছে। বনোবো পৃথিবীর সর্বত্র নেই। বন্য পরিবেশে তাদের বাস শুধু আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর একটি সীমিত অঞ্চলে, মূলত কঙ্গো নদীর দক্ষিণের বনাঞ্চলে। আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড়, শিকার ও অবৈধ বন্য প্রাণী বাণিজ্যের কারণে তারা আজ বিপন্ন। যে প্রাণীটির সঙ্গে আমাদের জিনগত সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ, সেই প্রাণীটির অস্তিত্ব আজ মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই বিপন্নর মধ্যে এক গভীর পরিহাস আছে। আমরা তার ডিএনএতে নিজেদের ইতিহাস খুঁজি, তার আচরণ বিশ্লেষণ করে মানবসমাজের বিবর্তন বোঝার চেষ্টা করি, তার মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণ করে আমাদের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তির শিকড় খুঁজি—অথচ তার বনভূমিই আমরা ধ্বংস করছি।

সেদিন বনোবোটির সামনে দাঁড়িয়ে তাই আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল—ওর চোখে আমি কে? একজন মানুষ? একটি ভিন্ন প্রজাতি? নাকি অতি দূরের কোনো আত্মীয়? প্রশ্নটির উত্তর সে আমাকে দেয়নি। দেওয়ার কথাও নয়। কিন্তু তার নীরব উপস্থিতিই যেন অনেক কথা বলে গেল।
আমার মনে হলো, প্রাণিবিদ্যার বইয়ে আমরা যতই শ্রেণিবিন্যাস লিখি—জগৎ, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, পরিবার, গণ ও প্রজাতি—জীবনের গভীর সম্পর্কগুলো শুধু এই শ্রেণিবিন্যাসের ঘরে পুরোপুরি ধরা পড়ে না। আমাদের দেহের প্রতিটি কোষে, ডিএনএর দীর্ঘ অণুর মধ্যে, অসংখ্য জিনগুলোর মধ্যে লেখা আছে বহু কোটি বছরের একটি যৌথ ইতিহাস। সেই ইতিহাসের একটি অংশ বহন করছি আমি। একটি অংশ বহন করছে আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বনোবোটি। আমাদের চেহারা আলাদা, আমাদের জীবন আলাদা, আমাদের পৃথিবীও অনেকটাই আলাদা। তবু আমাদের জিনোমে রয়ে গেছে সেই প্রাচীন আত্মীয়তার অসংখ্য চিহ্ন।
চিড়িয়াখানা থেকে বেরিয়ে আসার পরও তাই আমার মনে সবচেয়ে বেশি রয়ে গেল না বিশাল গরিলা, জিরাফের দীর্ঘ গলা কিংবা অন্য কোনো চমকপ্রদ প্রাণী। বারবার মনে পড়ছিল সেই বনোবোটির কথা। লোহার প্রতিবন্ধকের এক পাশে আমি, অন্য পাশে সে। মাত্র কয়েক হাত দূরত্ব। অথচ আমাদের মাঝখানে কয়েক মিলিয়ন বছরের বিবর্তন। আবার সেই কয়েক মিলিয়ন বছরের ব্যবধান পেরিয়েও ডিএনএর অক্ষরে অক্ষরে আমরা আশ্চর্য রকম কাছাকাছি। জীবনের এই বৈপরীত্যই হয়তো বিবর্তনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলোর একটি।
আমি প্রাণিবিদ্যা পড়েছি, ক্লাসে জিনতত্ত্ব ও বিবর্তনবাদ পড়িয়েছি। শ্রেণিকক্ষে বহুবার হয়তো মানুষের সঙ্গে অন্যান্য প্রাইমেটের বিবর্তনীয় সম্পর্কের কথা বলেছি। শতকরা হিসাব দিয়েছি, পলিজেনিক বৃক্ষ এঁকেছি, ‘সাধারণ পূর্বপুরুষ’-এর কথা বুঝিয়েছি। কিন্তু সেদিন কলম্বাস চিড়িয়াখানায় একটি বনোবোর সামনে দাঁড়িয়ে যে অনুভূতি হলো, সেটি কোনো পাঠ্যবইয়ের পাতায় পাওয়া সম্ভব নয়। সেদিন ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ আর আমার কাছে একটি সংখ্যা ছিল না। লোহার জালের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণীটির চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, আমাদের মাঝখানে লাখ লাখ বছরের বিবর্তনীয় দূরত্ব—তবু কোথাও যেন রয়ে গেছে এক গভীর পরিচিত চিহ্ন।
লেখক: অধ্যাপক রাশিদুল হক: সাবেক সহ-উপাচার্য, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী এবং সাবেক অধ্যাপক, এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়, আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়