যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। এছাড়া গত পাঁচ দিনে ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এমন হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই গাজা খালি করতে তথা ফিলিস্তিনিদের জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ।
এদিকে, জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান চালাতে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা প্রকাশ্যেই বিবৃতি দিচ্ছেন। তাদের বিবৃতিতে, ইসরায়েলি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার অধীনে দখল করা ভূখণ্ডগুলো থেকে স্থানীয় অ-ইহুদি জনগোষ্ঠীকে কীভাবে উচ্ছেদ করা যেতে পারে তা উঠে এসেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গতকাল বলেছেন, গাজা থেকে ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়া হলে সার্থক হবে ইসরায়েল।
কাটজ জোর দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিবাসন ছাড়া গাজার জন্য কোনো প্রকৃত সমাধান নেই। ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বের করে দিতে ‘সমুদ্রপথে, আকাশপথে, সম্ভাব্য সব উপায়ে’ ইসরায়েল ‘সংগঠিত ও প্রস্তুত’।
এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সমর্থন অপরিহার্য। কারণ যে দেশই তাদের গ্রহণ করতে চাচ্ছে তারা সবাই আমেরিকার সমর্থন চায়।
কাটজের দাবি, ট্রাম্প প্রস্তাবটি ‘বাতিল করেননি’। ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণে আগ্রহী দেশ খুঁজছে বলে এটি ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের শুরুতে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং জনগণকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন পরিকল্পনার কথা প্রথম বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, মিশর ও অন্যান্য আরব দেশ এ পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ হয় এবং সতর্ক করার পর তা আর আলোচনায় আসেনি। আরব বিশ্বের মতে, এমন পদক্ষেপ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শামিল হবে।
পরবর্তীতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে তা কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না এবং যারা যেতে চান, তারা স্বাধীনভাবে যেতে পারবেন ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৬৬ জন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি/আরব নিউজ
কেএম