সিরাজগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে তিন ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তানিয়া খাতুন (২৪) নামে এক প্রসূতি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শহরের বাহিরগোলা রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে সন্তান তিনটির জন্ম হয়। মা ও তিন নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বজনরা।
তানিয়া খাতুন রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকার মৃত আতাউর রহমানের ছেলে ওবায়দুল্লাহ সেখের স্ত্রী। সাত বছর আগে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের রাঙালিয়াগাঁতী গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সেখের মেয়ে তানিয়ার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর বিয়ে হয়।
তানিয়ার স্বামী ওবায়দুল্লাহ সেখ জাগো নিউজকে জানান, বিয়ের পর হরমোনজনিত ও গাইনি সমস্যার কারণে প্রথম দিকে তাদের সন্তান হয়নি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর তানিয়া আবার অন্তঃসত্ত্বা হলে আলট্রাসনোগ্রাম করে গর্ভে তিনটি সন্তান থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তারা।
একসঙ্গে তিন সন্তান গর্ভে থাকার খবর পেয়ে শুরুতে তারা কিছুটা ভীত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান ওবায়দুল্লাহ। পরে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন, গর্ভে থাকা তিন সন্তানই ছেলে।
তিনি বলেন, প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল আরও প্রায় এক সপ্তাহ পর। তবে শনিবার সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ তানিয়ার প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্বাভাবিক প্রসবের সিদ্ধান্ত নেন।পরে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. আঞ্জুমানারা বকুলের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার ছাড়াই তিন সন্তানের জন্ম দেন তানিয়া।
তানিয়ার স্বজনরা জানান, প্রসবের সময় আরও কয়েক দিন বাকি থাকলেও শনিবার সকালে হঠাৎ তার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্বাভাবিক প্রসবের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর একে একে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
একসঙ্গে তিন ছেলে সন্তানের মা-বাবা হতে পেরে তানিয়া ও তার স্বামী ওবায়দুল্লাহ বেশ আনন্দিত। স্বজনদের মধ্যেও এ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. আঞ্জুমানারা বকুল বলেন, অস্ত্রোপচার ছাড়াই তানিয়া তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও তিন সন্তানই সুস্থ আছেন।
এম এ মালেক/কেএইচকে