বিসিবির মেডিকেল বিভাগ ঢেলে সাজানোর আলোচনা অনেকদিনের। অনেকবারই এমন আলোচনা হয়েছে তবে শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান কিছু হয়নি। তবে এবার বিভাগটির চেয়ারম্যান ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম জানিয়েছেন মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে থাকা একাডেমি ভবনে বরাদ্দকৃত জায়গায় নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে।
বিসিবির মেডিকেল বিভাগের অধীনে বর্তমানে জরুরি কোনো চিকিৎসার সুযোগ নেই। ম্যাচের দিন ও আনুষ্ঠানিক অনুশীলন ব্যতীত থাকে না কোনো ধরনের অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা। অন্য দিনে কেউ গুরুতর আহত হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হয়।
এবার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স কিনতে যাচ্ছে বিসিবি। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শামীম বলেন, ‘আমরা দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার পরিকল্পনা করছি।’
এছাড়া চোটাক্রান্ত ক্রিকেটারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বিসিবির অধীনে চললেও, নেই কোনো সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন সেন্টার। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সংখ্যা (বর্তমানে ২ জন আছেন) খুবই অপ্রতুল বলে মনে করছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান। নতুন পরিকল্পনায় চিকিৎসক সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সকল সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভূক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শামীম বলেন, ‘একাডেমি ভবনে আমাদের (মেডিকেল বিভাগের জন্য) প্রায় তিন হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা বরাদ্দ করা আছে। সেখানে আমরা কি করতে পারি, সেটা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। একটা পরিকল্পনাও করেছি, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এখানে আমাদের চিকিৎসক সংখ্যা কম। চিকিৎসক সংখ্যা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ইমার্জেন্সির কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা ইমার্জেন্সি মেডিকেল ইউনিট, তারপরে ওপিডি, পুনর্বাসন ইউনিট, অবজারভেশন বে… তারপরে মানে ধাপে ধাপে।’
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম-সিলেটের মতো ভেন্যুগুলোতে নিয়মিত অনুশীলন করেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটাররা। সেখানে কেউ চোটে পড়লে তাকে ছুটে আসতে হয় ঢাকায়। এই সমস্যাও সমাধান করতে চান বিসিবির মেডিকেল বিভাগের চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিকভাবেও চিন্তা করেছি। পাঁচটা ভেন্যু আছে আমাদের, ওখানে একজন করে ডাক্তার, ফিজিও ও ট্রেনার- এরকম নিয়োগ করা যায় কিনা, সে নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’
এই পরিকল্পনার পেছনের ভাবনার কথাও জানান তিনি, ‘স্পোর্টস মেডিসিন যদি ঠিকমতো গড়ে তুলি, তাহলে ফুটবল-ক্রিকেটসহ অন্যান্য যা যা খেলা আছে, সব খেলার মানুষজনই উপকৃত হবে।’
নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানানোর পাশাপাশি মেডিকেল বিভাগকে নিয়ে হওয়া সমালোচনায় হতাশা প্রকাশ করেন বিসিবির এই পরিচালক। শামীম বলেন, ‘ক্রিকেট এগিয়েছে, ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্য-ফিটনেস সবকিছু মেডিকেল বিভাগ দেখে। কিন্তু সেই তুলনায় অগ্রগতি খুবই খারাপ ছিল। তারা বলির পাঠা হিসেবে ছিল। মানে কোনো কিছু হলে, দোষটা তাদের ঘাড়ে পড়ে।’
এসকেডি/আইএন