রাজশাহীর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মো. মিজানুর রহমান মিনু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও একবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজশাহী নগরের উন্নয়নে ভূমিকার জন্য পরিচিত এই রাজনীতিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও ছিলেন সক্রিয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সেবা নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।
জাগো নিউজ: দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাস পার হয়েছে। এই ছয় মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজের কী মূল্যায়ন করবেন? কী করতে চেয়েছিলেন, কতটুকু করতে পেরেছেন এবং অর্জনে কতটা সন্তুষ্ট?
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু: আসলে আমাদের দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো দিনই মানুষের জন্য সুখকর বিষয় ছিল না, বিশেষ করে এই মন্ত্রণালয়ের একদম তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে। এটি প্রায় দেড় থেকে দুইশ বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। তখন যারা এখানে ছিল- ব্রিটিশরা, পাকিস্তানিরা, তার আগে ভারতীয় রাজারা, সব সময়ই এই ব্যবস্থাটা ছিল।
যারা প্রকৃত অর্থে জঙ্গল পরিষ্কার করে ভূমি তৈরি করেছেন, ফসল উৎপাদন করেছেন, একটা জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা ছিল বাংলাদেশে বা এই বরেন্দ্র অঞ্চলে, অনেক কষ্ট করে সেটাকে পরিষ্কার করে ফসল উৎপাদনের জন্য তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে তারা বিশাল বড় বড় দিঘি ও পুকুর খনন করেছেন, যেন খরা মৌসুমে পানির স্বল্পতা মেটানো যায়। এগুলো আমাদের গর্বের ঐতিহাসিক বিষয়। এসব দিঘির পাশ থেকেই এই অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি, ধর্মীয় বন্ধনসহ অনেক কিছু গড়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে আপত্তি ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ
যাই হোক, আমরা এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পর দেখেছি, এর আগেও সারা বিশ্বে এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে খুবই খারাপ ধারণা ছিল। এই মন্ত্রণালয়ে আগে যিনি মন্ত্রী ছিলেন, তার বিষয়টি সবাই জানেন। সে সময় ব্যাপক ভূমিদস্যুতা ও দখল হয়েছিল।
এর মধ্যেই আমরা দায়িত্বে আসার পর প্রধানমন্ত্রী তার ১০০ দিনের কর্মসূচির ফাস্ট স্টেপে কাজ শুরু করেছিলেন। আমরাও, আমার প্রতিমন্ত্রী, আমাদের মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সবাই মিলে চেষ্টা করছি মানুষের মধ্যে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে। ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে যে বিরূপ ধারণা রয়েছে, সেটি পুরোপুরি দূর করে জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করেছি।
সেজন্যই গত ছয় মাসে দেশব্যাপী ডিজিটাল ভূমি সেবা সম্প্রসারণ করেছি। সে কারণেই আমরা ভূমি মেলা করেছি। এটি গোটা বাংলাদেশে একসঙ্গে হয়েছে এবং ব্যাপক সুনাম পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে এ মেলা উদ্বোধন করেছেন। এটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটি বিরাট সাফল্য।
এরপর আমরা ডিজিটাল ভূমি সেবা এগিয়ে নিচ্ছি। সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের যারা আছেন, তারা কল সেন্টারের মাধ্যমে তাদের সব সমস্যার কথা বলতে পারেন। প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি সমস্যার সমাধানের পথ আমরা বের করেছি। এর মধ্যেও যদি কোনো কিছু বাদ পড়ে বা মিসিং থাকে, তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেটি তদারকি করি। আমাদের প্রতিমন্ত্রীও বিষয়টি দেখেন।
আগে ভূমি বিভাগে প্রবেশের ক্ষেত্রে খুব খারাপ হয়েছে। এই ধরুন বাপ ভূমিতে চাকরি করত, দড়ি টানত, চেইনম্যান ছিল। ছেলে একটু ক্লার্ক হয়েছে, নাতি এখন অফিসার হয়ে গেছে। মানে পৈতৃক বিষয়! এখানে অন্য কারও স্থান পাওয়া খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এবার আমরা মেধাবীদের দেখে নিয়োগ দিচ্ছি।
গত ছয় মাসে এক হাজার ২৮৬টি ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল বিধিমালা, বিবিধ সায়রাত মহাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা করা হয়েছে। আরও নানান ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় নাগরিককেন্দ্রিক ভূমিসেবা, ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন, ভূমি-তথ্যের আধুনিকীকরণ, ভূমি অধিগ্রহণের স্বচ্ছতা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ভূমি সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে দেশব্যাপী ডিজিটালাইজড জরিপ, ভূমির বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া গ্রহণ, এআই-সমৃদ্ধ সেবা এবং সমন্বিত ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
ভূমি অফিসে ফাঁকিবাজি ঠেকাতে আসছে ডিজিটাল নজরদারি
জাগো নিউজ: মাঠপর্যায়ে ভূমি অফিসগুলোর জবাবদিহি ও তদারকি কীভাবে নিশ্চিত করতে চান?
ভূমিমন্ত্রী: আমরা ব্যাপকভাবে চাই যে বাংলাদেশের ৩৫০ জন সংসদ সদস্য, তারা সবাই ভূমিমন্ত্রীর সমপর্যায়ে সমান সম্মানে থাকবেন। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তারা সবাই নিজের এলাকায় ভূমি অফিসগুলো দেখবেন। কোনো অনিয়ম থাকলে তারা তদারকি করবেন, ব্যবস্থা নেবেন। না হলে আমাদের কাছে লিখবেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ৩৫০ জনের মাধ্যমে আমরা সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবো। এটা আমরা পার্লামেন্টে বলেছি। সবাই খুবই খুশি হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করেছি।
জাগো নিউজ: ভূমি প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ভূমিমন্ত্রী: ভূমি প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে আমরা কিছুদিন আগে মাঠ পর্যায়ের অফিসে বিভিন্ন পদে ৬২৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছি। যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের কেউ কেউ কাঁদছিলেন। কারও মা ক্যানসারের রোগী, বাসায় খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে মায়ের কাছে দোয়া নিতে গেছেন। মা বলেছেন, ‘বাবা, দোয়া করি তোর চাকরি হবে।’ তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, মায়ের দোয়ায় এই মন্ত্রণালয়ে চাকরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
ভূমি অফিস তদারকিতে ডিসিদের ১৪ নির্দেশ
জাগো নিউজ: কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগগুলো সম্পন্ন করতে পারছেন?
ভূমিমন্ত্রী: আমি কোনো কিছু পাত্তা দেইনি। ১২৬ টাকায় দরখাস্ত করেছে, সেটা দিয়েই তাদের চাকরি হয়ে গেছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, আগামী ২৭ বা ২৮ তারিখে আরেকটি গ্রুপকে আমরা এখানে নিয়োগ দিয়ে দেবো।
যারা নিয়োগ পেয়েছেন আমি তাদের বলেছি, ‘দেখো, এই অফিসে বসে আছো। কোনো এক ভূমিদস্যু এসে নিরীহ একজন মানুষকে, যার দাদু অনেক কষ্ট করে জমি তৈরি করেছে, তার নাতিকে এসে ঢুকতে দিচ্ছ না। অথচ তার সামনে দিয়েই একজন ভূমিদস্যু এসে তোমার চেয়ারে বসে খুব হাসাহাসি করছে। অনেকে আমরা উমেদারি করি। তোমরা কিন্তু খুব সৎ হয়ে এখানে চাকরি পেয়েছো। আমার অনুরোধ থাকবে, আমার অধিকার থাকবে তোমাদের ওপরে। আর যদি না করো, এর বিচার আল্লাহ করবেন।’
মায়ের কিছু জায়গা অধিগ্রহণ করে নেওয়া হয়েছিল। মায়ের খুব শখ ছিল, বাড়ির বড় নাতিকে সেটি দেবেন। মা অনেক ঘুরেও সেটা পারেননি। এটা আমার হৃদয়ে লেগে থাকে। এরকম তো বাংলাদেশের প্রায় সবারই সমস্যা।
আমি মনে করি, এই জেনারেশনটা আসলে আগের তিন-চার-পাঁচটা জেনারেশনের মতো নয়। আগের সময়ে ভূমি বিভাগে প্রবেশের ক্ষেত্রে খুব খারাপ হয়েছে। এই ধরুন বাপ ভূমিতে চাকরি করত, দড়ি টানত, চেইনম্যান ছিল। ছেলে একটু ক্লার্ক হয়েছে, নাতি এখন অফিসার হয়ে গেছে। মানে পৈতৃক বিষয়! এখানে অন্য কারও স্থান পাওয়া খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এবার আমরা মেধাবীদের দেখে নিয়োগ দিচ্ছি।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে কথা বলছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানা/ ছবি- জাগো নিউজ
গত ৬ মাসে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থায় মোট এক হাজার ২৪০ জন জনবলের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে মাঠ পর্যায়ে ভূমি অফিসের ১৮ হাজার লোক নিচ্ছি। যোগ্যতার ভিত্তিতে যারা ভালো করবে, ভালো ফলাফল করবে, তাদের সেখানে দেবো। তিন দফায় এক হাজার ২০০ জনের মতো নেওয়া হয়েছে। আমাদের এই টার্মের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি নিয়োগ দেওয়া হবে। কিছু নিয়োগ হবে পিএসসির মাধ্যমে।
আরও পড়ুন
ভূমি অফিসে যেসব সেবা পাবেন
জাগো নিউজ: ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল হওয়ার পরও মানুষের ভোগান্তির জায়গায় খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ভূমিমন্ত্রী: হ্যাঁ, আমি এটার সঙ্গে একমত। আমরা এটা শুরু করেছি এবং মানুষের ভোগান্তির জায়গাগুলো বুঝি। আমার মা-ও এটার শিকার। মায়ের কিছু জায়গা অধিগ্রহণ করে নেওয়া হয়েছিল। মায়ের খুব শখ ছিল, বাড়ির বড় নাতিকে সেটি দেবেন। মা অনেক ঘুরেও সেটা পারেননি। এটা আমার হৃদয়ে লেগে থাকে। এরকম তো বাংলাদেশের প্রায় সবারই সমস্যা।
আমরা চেষ্টা করছি। এ জায়গায় আমরা মনিটরিংয়ে আছি। আমি, আমার প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে ঝটিকা সফর করি। অফিসের অবস্থা বুঝি। যে কোনো অব্যবস্থাপনা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। এরই মধ্যে আমরা একটা সুনামও পাচ্ছি। আমি চাই দেশের ৩৫০ জন সংসদ সদস্যও এই জায়গায় যুক্ত হোন।
জাগো নিউজ: ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অ্যাপভিত্তিক মনিটরিংয়ের কথা বলেছিলেন। সেটির অগ্রগতি কী?
ভূমিমন্ত্রী: আমরা ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ চালু করছি। এ অ্যাপের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট ভিত্তিতে ছয় জেলায় এটি চালু হচ্ছে। সারা দেশে ধীরে ধীরে ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার এবং পরবর্তীতে ইউএনওদের কাছেও এটি দেওয়া হবে। কে কোথায় ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কি না, সেটি দেখা যাবে।
আরও পড়ুন
হঠাৎ ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী দেখলেন কেউ আসেনি
এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাবো, নারায়ণগঞ্জের অফিসে কী কাজ চলছে, কর্মকর্তারা আছেন কি না, সবকিছু কেন্দ্রীয়ভাবে দেখা যাবে। এরপর ধীরে ধীরে সারা দেশে এটি চালু হবে। শিগগির এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে।
অ্যাপটির মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কখন অফিসে প্রবেশ করছেন, কখন বের হচ্ছেন এবং অফিসের বাইরে গেলে কোথায় যাচ্ছেন, তা জিও-ফেন্সিং (নির্দিষ্ট এলাকার ভার্চুয়াল সীমানা নির্ধারণ) প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
অ্যাপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে অ্যাপটি অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও অ্যান্ড্রয়েডের প্লে স্টোরে আপলোডের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অ্যাপ আপলোড হলেই পরীক্ষামূলক এর কার্যক্রম শুরু হবে।
আমরা এ পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এসিল্যান্ড থেকে শুরু করে নিচের পর্যায় পর্যন্ত। কয়েকজন ডিসিকেও কর্তব্য অবহেলার জন্য সাবধান করা হয়েছে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিখেছি।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে এটি চালু হবে। অ্যাপটির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের জন্য একটি ড্যাশবোর্ডও থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট কোনো ভূমি অফিসের পরিস্থিতিও বিস্তারিত দেখতে পারবেন।
আরও পড়ুন
অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে ভূমি অফিসের সবাইকে বরখাস্ত
মনিটরিং ব্যবস্থা ধাপে ধাপে পরিচালিত হবে। মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা দায়িত্ব অনুযায়ী মনিটর করবেন। আর ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যায়ে মনিটর করা হবে।
জাগো নিউজ: দায়িত্ব নেওয়ার পর মাঠপর্যায়ে অনিয়ম বা কর্তব্যে অবহেলার জন্য কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন?
ভূমিমন্ত্রী: আমরা এ পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এসিল্যান্ড থেকে শুরু করে নিচের পর্যায় পর্যন্ত। কয়েকজন ডিসিকেও কর্তব্য অবহেলার জন্য সাবধান করা হয়েছে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিখেছি।
এর মধ্যে কয়েকজন খুব ভালো কাজ করেছেন, তাদের আমরা পুরস্কৃত করেছি। যারা খারাপ করেছে, তাদের তিরস্কার করেছি।
আরও পড়ুন
জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ / ফরিদপুরে ঘুস নেওয়া সেই ভূমি কর্মকর্তাকে বদলি
জাগো নিউজ: অনেক উপজেলায় এসিল্যান্ড নেই। এতে ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এই সংকট সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ভূমিমন্ত্রী: হ্যাঁ, এটা আমরা খুব দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আরও এসিল্যান্ড যেন দেওয়া যায়, সে চেষ্টা করছি।
জাগো নিউজ: নামজারি নিয়ে মানুষের ভোগান্তি এখনো বড় সমস্যা। এ বিষয়ে আপনারা কী করছেন?
ভূমিমন্ত্রী: এটা আমাদেরও সমস্যা। আমাদের স্টাফ কম। নামজারির বিষয়টিতে দেশব্যাপী আমাদের এখনো দুর্বলতা আছে।
আমার মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। দিনরাত এসব নিয়ে নানান ধরনের কল আসছে। আমি চেষ্টা করি এবং সংশ্লিষ্ট যারা দায়িত্বে আছেন, সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাছে বিষয়গুলো পাস করে দেই। তারপর আবার মনিটরিং করতে হয়। মানে করলো কী করলো না। আসলে এই মন্ত্রণালয়ে বিরাট একটা কাজ, অনেক বড় এবং খুব কঠিন। চেষ্টা করছি।
আরএমএম/কেএসআর