ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। পৃথক দুটি মামলায় বাদুড়গাছা এলাকার প্রায় দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুলিশের সূত্র জানায়, গরুচুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থ ও বাদুরগাছা গ্রামের নিলুফা ইয়াসমিন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই, যশোর শহরের আরাপপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন
গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে একজন নিহত
কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদকে মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন হাবিব ও সুমন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। গণপিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে হাবিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা ও তদন্তের সার্বিক বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ জোড়া মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গণপিটুনিতে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, দুই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করবে।
এম শাহাজান/এফএ/জেআইএম