মাত্র তিন ঘণ্টার ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পানিতে তলিয়ে গেছে এক ব্যক্তির দুইটি মুরগি খামার। আকস্মিক বন্যার পানিতে খামারের প্রায় এক হাজার ৫০০ মুরগি মারা গেছে। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি ইয়াছমিন আক্তার। ১৮ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা খামারটি মুহূর্তেই যেন তার পরিবারের সবশেষ সম্বল কেড়ে নিয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা উপজেলার সুধীর মেম্বার পাড়া এলাকায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ভোরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে ইয়াছমিনের বসতঘর ও মুরগির খামারে। পানির স্রোত ও আকস্মিকতায় খামারের মুরগিগুলো রক্ষা করার কোনো সুযোগই পাননি তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুধীর মেম্বার পাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে বসতঘর ও খামারে পানি ঢুকে পড়েছে। খামারের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মৃত মুরগি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা খামারের এমন করুণ অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ইয়াছমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা।
ইয়াছমিনের দাবি, বন্যার পানিতে প্রায় ১ হাজার ৫শ মুরগি মারা যাওয়ায় তার প্রায় চার লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি খামারের অবকাঠামো ও অন্যান্য সামগ্রীরও ক্ষতি হয়েছে।
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মারা যাওয়া মুরগি/ ছবি: জাগো নিউজ
খামারি ইয়াছমিন আক্তার বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অনেক কষ্টে মুরগির খামারটি গড়ে তুলেছি। পরিবারের একমাত্র সম্বল এই খামারকে বড় করতে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণও নিয়েছি। সবশেষ প্রায় এক হাজার ৫০০ পাকিস্তানি মুরগি নিয়ে খামারটি পরিচালনা করছিলাম।
ইয়াছমিন বলেন, রাত চারটার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখি বসতঘরের ভেতর পানি। দ্রুত খামারের কাছে গিয়ে দেখি, সেটিও প্রায় পানিতে ডুবে গেছে। এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করেও কিছুই করতে পারিনি। চোখের সামনে সব মুরগি শেষ হয়ে গেল।
তিনি আরও বলেন, এটাই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র সম্বল ও আয়ের উৎস। কয়েক ঘণ্টার পানিতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সংসার কীভাবে চালাব কিছুই বুঝতে পারছি না।
এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিতসহ জরুরি আর্থিক সহায়তা পেলে ১৮ বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা খামারটি আবারও দাঁড় করাতে পারবেন বলে আশা করছেন ইয়াছমিন।
প্রবীর সুমন/এসজেডএইচ/জেআইএম