ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় ‘হান্ডি কড়াই’ নামের একটি রেস্তোরাঁর ফ্রিজে বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকে দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
একটি ছবিতে দেখা যায়, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব পাল ওই রেস্তোরাঁর একটি টেবিলে বসে আলাপ-আলোচনা করছেন। তাদের সামনে এক বোতল বিদেশি মদ ও এক বোতল বিয়ার রাখা।
অপর ছবিতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর বেসিনে হাতুড়ি দিয়ে মাদকদ্রব্যের একজন সদস্য মদের বোতল ও বিয়ার ধ্বংস করছেন।
আরও পড়ুন
‘ছেলেরা ওষুধ কেনার টাকা দেয় না, তাই গাঁজা বেচি’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা আতিক হাসান নামের এক ব্যক্তি খাবাসপুরের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে জনৈক সোহাগ গাজীর কাছ থেকে তিনটি ঘর ভাড়া নিয়ে একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ, একটি কাচ্চির রেস্তোরাঁ এবং একটি খিচুড়ি-মাংসের জন্য পৃথক তিনটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আতিক হাসান রেস্তোরাঁ বয় থেকে হঠাৎ তিনটি রেস্তোরাঁ ও সম্পদের মালিক হয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে শহরে বেশ কানাঘুষা চলছিল। এরমধ্যেই তার রেস্তোরাঁর ফ্রিজে মদ-বিয়ার পাওয়া যাওয়ায় তার মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দেব পাল নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতে বের হন। এসময় তিনি আতিক হাসানের ‘হান্ডি কড়াই’ নামের রেস্তোরাঁর ফ্রিজ তল্লাশি করলে ফ্রিজে ‘রেড লেভেল’ নামের এক লিটারের এক বোতল বিদেশি মদ ও একটি বিদেশি বিয়ার দেখতে পান। পরে ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খবর দেন।
পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান ও ম্যাজিস্ট্রেট দেব পালের নির্দেশে পুরো এক বোতল মদ ও বিয়ার ধ্বংস করা হয়। পরে রেস্তোরাঁর ম্যানেজার আলমগীর হোসেনকে (৪৫) পাঁচদিনের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেস্তোরাঁটির মালিক আতিক হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার রেস্তোরাঁয় সিসি ক্যামেরা নেই, থাকলে সঠিক তথ্য জানতে পারতাম কে বা কারা এ কাজ করেছে।’
আরও পড়ুন
মাদক ব্যবসায়ী ১০০ কোটি টাকা দিলেও নেব না: ওসি
এসময় অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর কবিরুল হাসান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত অভিযানে ওই রেস্তোরাঁয় যান। এসময় ফ্রিজে বিদেশি মদ ও বিয়ার পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আমাদের খবর দিলে আমরা সেখানে যাই এবং স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রসিকিউশন দাখিল করি।
এসময় তিনি বিষয়টিকে ‘একেবারে ছোটখাটো’ বলে মন্তব্য করেন। রেস্তোরাঁ মালিক আতিক হাসানকে ধরেও কেন ছেড়ে দেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব পাল বলেন, হান্ডি কড়াই রেস্তোরাঁর ম্যানেজারকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেন।
ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি মোবাইল কোর্টের ব্যপার। আমরা শুধু প্রসিডিউর ফলো করেছি।’
জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই রেস্তোরাঁর ফ্রিজে মাদকদ্রব্য পেয়েছে। তবে সেটা খোলা ছিল না ইনটেক ছিল, তা উল্লেখ করা হয়নি। যেহেতু ওই প্রতিষ্ঠানের ওই জায়াগায় মাদক রাখার বিধান নেই, এ কারণে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
এন কে বি নয়ন/এসআর/জেআইএম