সীসা দূষণ ও বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় কৌশল ও বহুবছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন করেছে সরকার। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের তুলনায় শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা ৫০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উত্থাপন করা ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর আ লেড ফ্রি বাংলাদেশ (২০২৬-২০৩৫)’ এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, সীসা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন। এর কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সীসা বিষক্রিয়ার কারণে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি, স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা, রক্তশূন্যতা, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া প্রজনন স্বাস্থ্য, গর্ভাবস্থা, হাড়, দাঁত ও পাচনতন্ত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন
দেশে সাড়ে তিন কোটি শিশুর রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা: ইউনিসেফ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অধীনে পরিচালিত মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিশুর রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সীসা রয়েছে। গর্ভবতী নারীদের মধ্যে এ হার প্রায় ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বিভিন্ন জেলার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা জেলায় ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ শিশু সীসা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া আইসিডিডিআর,বির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ঢাকার ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর মধ্যে ৯৮ শতাংশের রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রায় সীসা পাওয়া গেছে।
সরকারের কৌশলপত্রে সীসার উপস্থিতি শনাক্তকরণ, বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানে সমন্বিত কার্যক্রম নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিকদের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নজরদারি ও শনাক্তকরণ, নীতি ও বিধিবিধান, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ, বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা, জনসচেতনতা ও আচরণগত পরিবর্তন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও অংশীজনের সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম নেওয়া হবে।
টেকসই ও সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীসা দূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং শিশুদের সুস্থতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা কৌশলপত্রটির মূল লক্ষ্য বলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আরএমএম/এমকেআর