ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। সেই আলোচনায় এবার যোগ দিল আইসল্যান্ড ক্রিকেট। বাংলাদেশের অসাধারণ জয়ের পর ইংল্যান্ডকে খোঁচা দিয়ে করা এক পোস্ট মুহূর্তেই নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
আইসল্যান্ড ক্রিকেটের পোস্টে মূলত তুলে ধরা হয়েছে একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান-‘গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড, দুই দলেরই টেস্ট জয়সংখ্যা একটি করে।’ ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে ইংল্যান্ডের অবস্থান বিবেচনায় এই তুলনাই অন্যরকম আলোচনা তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওই সময়ে ইংল্যান্ডের একমাত্র টেস্ট জয় এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। ২০২৫-২৬ অ্যাশেজ সিরিজে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারায়। সেই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ৫ হাজার ৪৬৮ দিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য ডারউইনের জয়টি ছিল সম্পূর্ণ নতুন ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়ায় এটি ছিল বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় সফর এবং ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবারও টেস্ট খেলতে নামে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয়, তাদের বিপক্ষে সবমিলিয়ে দ্বিতীয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বল হাতে ১০ উইকেট নিয়ে জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান।
ডারউইন টেস্টে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। হাসান ৫৫ রানে নেন ৬ উইকেট। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভ স্মিথ।
জবাবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত জবাব দেয় বাংলাদেশ। ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে টাইগাররা। তানজিদ হাসান প্রথমবারের মতো টেস্টে সেঞ্চুরি করেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন জশ হ্যাজলউড। তিনি ৮৯ রানে শিকার করেন ৬ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন করেন ১০৪ রান, আর স্টিভ স্মিথের ব্যাট থেকে আসে ৪৪। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
মিরাজ ৬৬ রানে নেন ৫ উইকেট, আর হাসান মাহমুদ শিকার করেন ৩ উইকেট।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই সেই রান তুলে নেয় টাইগাররা। মাত্র এক উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের এই জয়কে আরও চমকপ্রদ করে তুলেছে টেস্টের আগে তাদের প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স। টেস্টের মাত্র কয়েক দিন আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।
এরপরও মূল টেস্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় দেখা যায় টাইগারদের। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ব্যবধানে হারায় তারা।
এমএমআর