শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তাতে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। ভোটের আগে শিক্ষার উন্নয়নে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়িয়েছিল বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পরও শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায়ও ছিল দেশের শিক্ষার উন্নয়নের একগুচ্ছ উদ্যোগ। কিন্তু উদ্যোগ বাস্তবায়নে লেজেগোবরে অবস্থায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাবিদ ও খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও শিক্ষার দুটি মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের লক্ষ্য এত বেশি যে, তা বাস্তবায়নে লেজেগোবরে অবস্থার তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর ‘অতিকথন’ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বিব্রত হয়েছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় যে ৩৬ দফা নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল, তার মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। নামমাত্র ও সভা-সেমিনারের মাধ্যমে যে দফাগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো নিয়ে কিছুটা কাজ হয়েছে।
শিক্ষা সংস্কারে নেই উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষা সংস্কারের সবচেয়ে জোরালো ছিল শিক্ষা সংস্কারের দাবি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সময় স্বল্পতার অজুহাতে শিক্ষা সংস্কারে হাত দেয়নি। নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেও শিক্ষা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। শিক্ষা আইন প্রণয়নেও কোনো আলোচনা নেই। ফলে সরকারের ছয় মাস পার হলেও শিক্ষাখাতে সংস্কার এখনো অধরা।
নতুন কারিকুলাম নিয়ে ধোঁয়াশা
আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালে নতুন কারিকুলামের যে রূপরেখা তৈরি করেছিল, তা মুখ থুবড়ে পড়ে। গণঅভুত্থানের পর এ কারিকুলাম বাতিল করে ২০১২ সালে প্রণীত সৃজনশীল কারিকুলামে ফিরে যায় অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও সৃজনশীল কারিকুলামও ব্যর্থ বলে প্রমাণিত। তবে কারিকুলামহীনতা কাটাতে ২০২৪ সালের আগস্টে ফের ১২ বছর আগে প্রণীত সৃজনশীল কারিকুলামে ফেরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা।
বিএনপি সরকার একটি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের ঘোষণা দেয়। তবে বিগত ছয় মাসে এ কারিকুলাম প্রণয়নে কোনো কমিটিও গঠন করতে পারেনি সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।
জুলাইয়ে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কথা থাকলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়েও তা সম্ভব হয়নি/ফাইল ছবি
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক প্রায়ই বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তব্যে বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে পড়ালেখা করানো হবে। একই কথা বলে আসছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও। তবে ভিন্ন কথা শোনা গেছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের মুখে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা নতুন কারিকুলাম করছি না। বর্তমান কারিকুলামই পরিমার্জন করছি।’ তিন কর্তাব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে হতাশ শিক্ষাপ্রশাসনও।
ট্যাব পাননি শিক্ষকরা
শিক্ষাখাতে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে সবচেয়ে বড় চমক ছিল শিক্ষকদের হাতে ট্যাব তুলে দিয়ে আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু এ প্রকল্প গত ছয় মাসে আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অন্তত ৫০ হাজার শিক্ষকের হাতে প্রথম ধাপে ট্যাব তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও একজন শিক্ষকও তা পাননি।
স্কুল ড্রেসও পায়নি শিক্ষার্থীরা
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় চমকের একটি দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বছরে দুই সেট করে স্কুল ড্রেস দেওয়ার ঘোষণা। জামা-প্যান্ট এবং ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার এ প্রকল্প অবশ্য বেশ এগিয়েছে। এ নিয়ে দফায় দফায় ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বসে স্কুল ড্রেসের স্পন্সর খুঁজছে সরকার। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগেও ড্রেস বানানো হচ্ছে। জুলাই মাসে এ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কথা ছিল। তবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়েও একজন শিক্ষার্থীও স্কুল ড্রেস পায়নি।
থামকে আছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন
দেশের গতানুগতিক শিক্ষাপদ্ধতির বদলে অডিও ও ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটিও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির একটি। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু ছয় মাসে একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমও স্থাপন করতে পারেনি বিএনপি সরকার। পাশাপাশি ফ্রি ওয়াইফাই চালুর যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটাও বাস্তবায়ন হয়নি।
শিক্ষক সংকট বাড়ছেই, গতি নেই নিয়োগে
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে বিএনপি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দূর করার ঘোষণা দিয়েছিল। প্রথম ছয় মাসে ১০ হাজার প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের কথা ছিল। পাশাপাশি গণিত, বিজ্ঞান, আইসিটি, সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগে জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল দলটি। এ লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেব্রুয়ারি থেকে কাজও শুরু করার কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সড়ক অবরোধ/ফাইল ছবি
তবে সরকারের ছয় মাস মেয়াদে এসে দেখা যাচ্ছে, একজন শিক্ষকও নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। নিয়োগে কোনো বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়নি। উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল, তারা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ঝুলে আছেন। এতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রকট আকার ধারণ করেছে।
‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিতেও গতি নেই
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা দেওয়া হবে এবং তারা তা বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় রোপণ করবে- এমন প্রতিশ্রুতিও ছিল বিএনপির। গত ১৫ জুলাই এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় জাঁকজমকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হলেও মফস্বলে তা বাস্তবায়নে তেমন গতি নেই। কোথাও কোথাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘিরেও অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। একটি স্কুলে গাছের চারার বদলে ডাল রোপণ করে ছবি তুলে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর অভিযোগ ঘিরেও তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গবেষণা বাড়াতে উদ্যোগ নেই, ইউজিসির পদক্ষেপে হতাশা
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। তবে সরকার গঠনের পর গবেষণা বাড়াতে তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। সরাসরি বরাদ্দের বদলে তাতে এমন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যেন বরাদ্দের অর্থ পেতে গবেষকদের জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। এ নিয়ে গবেষকরা ক্ষুব্ধ।
ইউনিক আইডির খবর নেই
শিক্ষার্থীদের শেখার মাত্রা, ঘাটতি ও আগ্রহ সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ইউনিক আইডি প্রণয়নের কথা ছিল। কিন্তু গত ৬ মাসে তা করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে কেউ তথ্য জানাতে পারেননি।
এছাড়া শিক্ষা-সংক্রান্ত টিভি চ্যানেল চালু; গ্রীষ্মের ছুটির কর্মমুখী ব্যবহার; ইউজিসির ক্ষমতায়ন; ঝরে পড়া রোধ; বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ সুবিধা; নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা; বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন; শিক্ষায় সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসনের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শিক্ষায় ছয় মাসে যতটুকু অর্জন: সরকারের ছয় মাসে শিক্ষাখাতে অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখা না গেলেও কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি মেনে বিএনপি সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়িয়েছে। বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে চার বছর পর আবারও জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে দেশের শিক্ষাখাত। একই সঙ্গে এ বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
ঢাকায় জাঁকজমকভাবে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন হলেও মফস্বলে তা বাস্তবায়নে তেমন গতি নেই/ফাইল ছবি
শিক্ষাখাতের উন্নয়নে যে কোনো দেশের মোট জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সুপারিশ করে জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো। বাংলাদেশে শিক্ষায় বরাদ্দের হার সবসময় কম। বিগত এক দশকে প্রস্তাবিত অধিকাংশ বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশের নিচে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষায় জোর
সরকার শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করছে। এ নিয়ে সরব শিক্ষাপ্রশাসন। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক শিক্ষায়ও জোর দিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ক্রীড়া ও ভাষা শিক্ষা শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে।
এছাড়া আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত; সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা; মিড ডে মিল চালু, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ; জুলাই আন্দোলনে আহতদের সহায়তা; শিক্ষার্থীদের পোষ্য প্রাণী পালনে উৎসাহিত করা; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে উদ্যোগ; শিক্ষকদের অবসরভাতা ছাড় শুরু ও সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার মতো কিছু বিষয়ে চোখে পড়ার মতো তৎপরতা রয়েছে।
পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্চে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এরপর দুর্যোগেও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়ে শিক্ষাপ্রশাসন। সেসময় শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে বিপাকে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী নিজেও। সবশেষ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া নিয়েও চাপে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া বদলি-পদায়ন বাণিজ্যসহ শিক্ষায় বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না।
শিক্ষাবিদরা যেভাবে দেখছেন
শিক্ষাখাতে উন্নয়নে যেমন ধীর-স্থির পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যেভাবে জোর দেওয়া প্রয়োজন তা দেখা যায়নি বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষায় সরকারের লক্ষ্য অনেক বেশি। অথচ সরকারের মেয়াদ তো পাঁচ বছর। এ সময়ের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে কাজ করা সম্ভব বা উচিত, তা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে শিক্ষাপ্রশাসন।’
অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, ‘শিক্ষার ক্ষত ঠিক করতে প্রথমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। শিক্ষা কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতি, ঝরেপড়া ঠেকানো এবং মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। এ কাজগুলোতে লক্ষ্য স্থির করাটা জরুরি। কিন্তু যারা দায়িত্বে আছেন, তারা আরও অনেকগুলো বিষয় টেনে কাঁধে নিচ্ছেন। এতে লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
চেষ্টার ত্রুটি নেই, দাবি শিক্ষাপ্রশাসনের
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে শিক্ষাপ্রশাসন কাজ করছে। তাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই বলে দাবি করেছেন শিক্ষাপ্রশাসনের কর্মকর্তারা। শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে, যেগুলো বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। হুট করেই দৃশ্যমান হবে না। আবার কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমরা হাত দিতেই সবার নজরে পড়েছে। ফলে কাজ যে হচ্ছে না তা নয়। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার সংস্কার ও উন্নয়নকাজ খুবই স্পর্শকাতর। শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানানো চেয়ে ধীর-স্থিরভাবে লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাওয়াটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পাঠ্যবই নিয়ে কাজ চলছে; শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে আইনি বাধা ছিল, সেগুলো আমরা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। কারিকুলামেও বড় পরিমার্জন আসবে। বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই হাতে পাবে। শিগগির বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। শিক্ষকরা ট্যাবও পাবে। সবই হবে, কিন্তু সময় লাগবে।’
এএএইচ/ইএ