সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে অনুপ্রবেশের উসকানি কিংবা প্রাণহানি-কোনোটিই আর কাম্য নয়। পুশ-ইন চেষ্টা, মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে ফেনীর বিলোনিয়া জিরো পয়েন্টে মুখোমুখি বৈঠক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী সীমান্তে একাধিক পুশ-ইন চেষ্টা বিজিবির দৃঢ়তায় ব্যর্থ হওয়ার পর রোববার (১৬ আগস্ট) অধিনায়ক পর্যায়ের এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মজুমদারহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশ অংশে বিলোনিয়া আইসিপিতে ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন করে কঠোর সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পরশুরামের পশ্চিম সাহেবনগর ও কেতরাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে একাধিক নারী ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর জেরে সীমান্তে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পুশ-ইন সম্পূর্ণ বন্ধে ভারতীয় পক্ষকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়। জবাবে বিএসএফের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। সীমান্তে কোনো ধরনের প্রাণহানি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উভয়পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করে।
এছাড়াও মাদকদ্রব্যসহ যেকোনো চোরাচালান বন্ধে সীমান্তরক্ষী দুই বাহিনী তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আর শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের ভেতরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং জমিসংক্রান্ত স্থানীয়দের বিরোধে কোনো বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আরও পড়ুন
সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে আসা সেই দুই ভারতীয়কে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর
সূত্র আরও জানায়, সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে এখন থেকে যেকোনো জটিলতা শুরুতেই কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সেখানে সিদ্ধান্ত না এলে তাৎক্ষণিকভাবে অধিনায়ক (কমান্ড্যান্ট) পর্যায়ে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেন। অপরদিকে ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এসএইচ রবীন্দ্র মাদানির নেতৃত্বে নয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, নিয়মিত সূচির অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুইপক্ষের কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব হয়েছে। এছাড়া সীমান্তের নানা বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে কথা হয়েছে। পুশ-ইন বন্ধের বিষয়েও তাদের বলা হয়েছে। এতে তাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া এসেছে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসজেডএইচ/এএসএম