চট্টগ্রামকে রিজিওনাল লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারে প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণ, ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং সুবিধা নিশ্চিত করাসহ কার্গো ভিলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এ দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।
‘২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা এবং চট্টগ্রামকে রিজিওনাল বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন’ উল্লেখ করে চিঠি চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, একাধিক বৃহৎ রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা এই অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম দেশের অতীব গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। কিন্তু, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রয়োজনীয় প্রায় সকল অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও চলমান অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিবেচনায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতার ব্যবহার আজ অব্দি নিশ্চিত করা হয়নি। অথচ, বর্তমান সক্ষমতায় আরো অধিক যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট এবং কানেক্টিং ট্রাফিক আকর্ষণের সুযোগ এই বিমানবন্দরের রয়েছে।’
চিঠিটিতে বলা হয়, ‘ঢাকাকেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও চাপ কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ইস্টওয়েস্ট এভিয়েশন এবং ট্যুরিজম ও লজিস্টিক গেটওয়ে হিসেবে পরিণত করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। একইসাথে সংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় বিশাল আয়তনের জমিতে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও বিমানবন্দর উভয়ের জন্যই কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি/সিএফএস স্থাপনের সুযোগ রয়েছে এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় এ সকল স্থাপনাসহ যে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, তা বেসরকারি খাত বা ব্যবসায়ীরা পিপিপি বা বুট পদ্ধতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।’
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘মোংলা বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও এর সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার মোংলা বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যান-এ চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও অধিক ট্রাফিক আকর্ষণ করে পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এর জন্যও প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ করা জরুরি।’
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার ও এটিকে প্রকৃত অর্থে একটি সত্যিকার আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসেবে রূপান্তরিত করতে- শাহ আমানত বিমানবন্দরকে দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭দিন অপারেশনাল রাখার উদ্যোগ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ৪০ শতাংশ অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক নির্ধারণ, লং রুট ফ্লাইটের বিরতির ক্ষেত্রে যাত্রী নেওয়া ও নামানোর সুবিধা প্রদান, ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় পিপিপি পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি/সিএফএস স্থাপন করার সুপারিশ করা হয় চিঠিতে।
এমডিআইএইচ/এসএনআর