ইরানি সামরিক পাইলটদের আটকে রাখার সব ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালে এ ধরনের ভুয়া খবর প্রচার অত্যন্ত বিস্ময়কর।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি স্পষ্ট করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি জানান, সংঘাতের সময় সংশ্লিষ্ট বিমানগুলো কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর নিয়ম অনুযায়ী বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনো সাড়া না মেলায় আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিরক্ষা নীতি মেনেই কাতার নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
কাতারের মুখপাত্র আরও জানান, ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে কাতার বাহিনী। উদ্ধার হওয়া এক ইরানি পাইলটের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের জন্য ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও করা হয়। এ ছাড়া গত এপ্রিলে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানের বিবরণ ও স্থান সরাসরি পরিদর্শনের জন্য ইরানি প্রতিনিধিদলকে দোহা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইরান এতে এখনো সাড়া দেয়নি।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত মার্চে কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এক অভিযানে দুটি ইরানি ‘এসইউ-২৪’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এই ঘটনার পর থেকে জাভাদ সালেহি, আব্দুল-মাজিদ দাশতিয়ান ও ইমরান বেহরুশিয়ান নামের তিন সামরিক পাইলটকে কাতার কর্তৃপক্ষ আটক করে রেখেছে বলে অভিযোগ তোলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আটক পাইলটদের কোনো সাক্ষাৎকার, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে তদারকি ও মধ্যস্থতার জন্য রেড ক্রসের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিল তেহরান। কাতার সরকার এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।