চাঁদপুরের শাহরাস্তি মডেল থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বুধবার (১২ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আ. হাই চৌধুরী।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
‘গত ৬ মাসে কোনো দলীয়করণ ছাড়াই পুলিশে নিয়োগ হয়েছে’
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসাইন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহীদ উল্লাহ, কনস্টেবল শরিফ উদ্দিন, কনস্টেবল ইসতিয়াক এবং গাড়িচালক নজরুল ইসলাম।
এর আগে গত ২৮ জুলাই শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় স্থানীয়দের হাতে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি আটক হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। আটকের পর তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন তল্লাশি করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ভয়েস ক্লিপ ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার দাবি করেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন
‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা টানছে পুলিশ’ প্রচারণা অসত্য, দাবি পুলিশের
এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গত ৩০ জুলাই কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আ. হাই চৌধুরী জানিয়েছিলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্ত চলাকালে এএসআই শহীদ উল্লাহকে ৩ আগস্ট এবং কনস্টেবল শরিফ উদ্দিনকে ৫ আগস্ট কুমিল্লায় বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
শরীফুল ইসলাম/এসআর/জেআইএম