সিলেটে সকালে বাসার ভেতরে ঢুকে স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনার কোনো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পায়নি পুলিশ। যে কারণে জড়িতরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই এলাকায় লোডশেডিং ছিল। এসময়ই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের বাসা ও পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো ফুটেজ ধরা পড়েনি।
আরও পড়ুন
সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, এক মাস ধরে নিচতলার এক ভাড়াটের সঙ্গে বাড়ির মালিকের সমস্যা চলছিল। ছয় মাস ধরে ওই ভাড়াটে বাসা ভাড়া না দেওয়ায় গতমাসে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে বিদায় করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার বাদী তিনি নিজেও। এ বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন ওই বাসার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী রাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (১৫)। গৃহকর্মী তাহমিনা নগরীরর জল্লারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আপ্তাব মিয়ার মেয়ে।
আরও পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গে নেই লোডশেডিং: চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি
নিহত আব্দুস সাত্তার মিতালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আব্দুস সাত্তারের এক ছেলে ও তিন মেয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে বাসার ভেতরে নারীদের চিৎকার শোনেন প্রতিবেশীরা। পরে আর কোনো সাড়া-শব্দ পাননি। সকাল ১০টার দিকে ১১১ নম্বর বাসার দোতলার বারান্দায় রক্ত দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন
সারাদেশে লোডশেডিং, হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইলো পল্লী বিদ্যুৎ
এদিকে, দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।’
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ‘ঘরের আলমারি ও ওয়্যারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চারতলার ভাড়াটিয়ারা সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।’
আহমেদ জামিল/এসআর/জেআইএম