সিরিয়ায় রাশিয়ার দুই সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে দেশটির সরকার। রোববার (৯ আগস্ট) সিরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে সরকারি বার্তা সংস্থা সানা এ তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তির আওতায় দেশটির হমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটিকে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কেন্দ্র’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করা।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া
সানা জানিয়েছে, প্রায় দেড় বছর ধরে আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে দুই ঘাঁটির বেসামরিক স্থাপনাগুলো দামেস্কের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে চুক্তি নিয়ে এখনো রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার্বভৌমত্বের বার্তা দিচ্ছে দামেস্ক
আলোচনা চলার সময়ও হমেইমিম ও তারতুস ঘাঁটি চালু ছিল। নতুন সমঝোতাকে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র
দামেস্ক থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে সিরিয়ার সরকার স্পষ্ট করে দিতে চাইছে, দেশের ভূখণ্ড ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। সিরিয়া বোঝাতে চাইছে, দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব কোনো আলোচনার বিষয় নয়।
রোববার সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ঘাঁটি দুটি পরিদর্শন করেন। সানা জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের আওতাভুক্ত স্থাপনা ও অবকাঠামো পরিদর্শন করতেই তিনি সেখানে যান।
আসাদের পতনের পর বদলে যায় রাশিয়ার অবস্থান
সিরিয়ার ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে রাশিয়া ছিল বাশার আল-আসাদের অন্যতম প্রধান মিত্র। সামরিক সহায়তা দিয়ে মস্কো দীর্ঘদিন আসাদ সরকারকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন
মিডল ইস্ট আই রিপোর্ট / তেল রপ্তানিতে হরমুজের বিকল্প পথ গড়ছে সিরিয়া-ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র
২০২৪ সালে আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব বড় ধাক্কা খায়। এরপর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একসময় দেশটিতে রাশিয়ার শতাধিক সামরিক অবস্থান থাকলেও এখন প্রধানত হমেইমিম ও তারতুস—এই দুটি ঘাঁটিই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে রয়েছে।
এ দুটি ঘাঁটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। বিশেষ করে তারতুস নৌঘাঁটি ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার কৌশলগত অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন সমঝোতার পর সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি ঠিক কী ধরনের হবে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
পুতিন-শারার সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
আসাদের পতনের পরও দামেস্ক মস্কোর সঙ্গে সহযোগিতার পথ খোলা রেখেছে। ক্ষমতায় আসার পর আহমেদ আল-শারা দুইবার মস্কো সফর করেছেন।
জানুয়ারিতে তার সর্বশেষ রাশিয়া সফরের সময় পুতিন বলেছিলেন, দুই দেশের আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনে ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে। সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারে শারার প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
অন্যদিকে শারা সিরিয়া ও অঞ্চলটিতে রাশিয়ার ‘ঐতিহাসিক ভূমিকার’ প্রশংসা করেছেন।
তবে দুই দেশের সম্পর্কে একটি বড় অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। দামেস্ক বারবার রাশিয়ার কাছে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছে।
আসাদ ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।
সুত্র: আল-জাজিরাকেএএ/