সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অন্যান্য জেলার মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সিদ্ধিরগঞ্জেও খাল খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নির্দেশনায় ১নং ওয়ার্ডের ‘কংস নদী’ নামে পরিচিত খালটিকে পরিষ্কারের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা খালটি পরিষ্কার করতে গিয়ে খালে থাকা ময়লা-আবর্জনা স্থানীয় কিশোরদের একটি খেলার মাঠে ফেলছেন। যার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাঠটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তরুণরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১নং ওয়ার্ডের মিজমিজি টিসি রোড এলাকার ‘কংস নদী’ ঘেঁষে থাকা ব্যক্তি মালিকানা জমিতে ছোট্ট একটি খেলার মাঠ রয়েছে। যেই মাঠে স্থানীয় কিশোর-তরুণরা নিয়মিত ক্রিকেট ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় মেতে থাকেন। তবে দুইদিন আগে খাল খননের কার্যক্রম শুরু হলে খালে থাকা ময়লা-আবর্জনা উঠিয়ে তা ওই মাঠে ফেলা হয়েছে। এরফলে একদিকে খালের ময়লা আর অপরদিকে বৃষ্টির পানি জমে মাঠটি বর্তমানে অপরিষ্কার এক পুকুরে রূপ নিয়েছে। এর কারণে দু’দিন যাবত কিশোর-তরুণরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মাঠ সংলগ্ন বাসিন্দা ও খেলাধুলা করা তরুণরা জানিয়েছেন, তিন বছর আগে অপরিষ্কার জমিকে তরুণরা নিজ অর্থায়নে পরিষ্কার করে ভালু ভরাটের মাধ্যমে মাঠে রূপান্তরিত করেছেন। এরপর থেকে এই মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা হয়ে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলার মৌসুমে টুর্নামেন্টও ছাড়া হয়ে থাকে।
স্থানীয় যুবক সজল মাহমুদ বলেন, ছোট ভাইদের আবদারে সবাই মিলেমিশে মাঠটিকে খেলার উপযোগী করে আমরা নিয়মিত খেলাধুলা করে যাচ্ছিলাম। তিনদিন আগে বিএনপির মুরুব্বিরা এসে মাঠের সামনে ময়লা ফেলার সিদ্ধান্ত নিলে আমি তাদেরকে না ফেলার জন্য অনুরোধও করেছিলাম। কিন্তু তারা বললো মাঠের সামনে দিয়ে রাস্তা হবে এজন্য ময়লা ফেলা হচ্ছে। এখনো তো মাঠের বাজে অবস্থা হয়ে গেছে।
নিয়মিত মাঠে খেলাধুলা করা সিয়াম নামের এক তরুণ বলেন, আমরা যখন মাঠটি ঠিক করি তখন মুরুব্বিরা উৎসাহ দিয়ে বলেছেন আমাদেরকে সহযোগিতা করার। অথচ পরশুদিন তারা নিজেরাই আমাদের মাঠকে নষ্ট করে ফেলেছেন। আমরা চাই তারা আমাদের মাঠকে আবারো ঠিক করে দিক। যাতে করে আমরা আবারো খেলাধুলা করতে পারি।
খাল পরিষ্কারের তদারকি করা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হালিম জুয়েল জাগো নিউজকে বলেন, খালের ময়লা-আবর্জনা ওই মাঠে ফেলা হয়নি, ফেলা হয়েছে সেনাবাহিনীর মেপে যাওয়া ওয়াকওয়ের সড়কের ওপর। মূলত খালের পাশ দিয়ে মানুষের হাঁটাচলার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃক একটি ওয়াকওয়ে সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই সড়ক সিদ্ধিরগঞ্জ পুল থেকে ধনুহাজী ছাড়িয়ে যাবে। সড়কের লক্ষ্যেই ময়লাগুলো সেখানে ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। এবং যে মাঠের কথা বলা হয়ে সেটি যেহেতু ব্যক্তি মালিকানার জমি, সেহেতু যেকোনো মুহূর্তে বাড়িঘরও হয়ে যেতে পারে।
সিটি করপোরেশন ময়লা ফেলার অনুমতি দিয়েছে কি না এবং সড়ক নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাল পরিষ্কার সিটি করপোরেশনই করছে এবং আমরা এর তদারকি করে যাচ্ছি। সিটি করপোরেশন ওয়াকওয়ে সড়ক নির্মাণ করবে।
এ বিষয়ে কাউন্সিলরের অবর্তমানে ১নং ওয়ার্ডের সচিবের দায়িত্ব পালন করা রাকিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মাঠের ওপর ময়লা ফেলার দৃশ্যটি আমি দেখে এসেছিলাম। এই কাজটির তদারকি করছে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। আমি এটা সম্পর্কে তেমন কিছু বলতে পারছি না।
বক্তব্যের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রশাসকের এপিএস মাসুক ফোন কল রিসিভ করে বলেন, সাখাওয়াত স্যার একটু ব্যস্ত রয়েছেন।
মো. আকাশ/এফএ/এএসএম