ব্রেকিং নিউজ
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধ নীতি জি২০ সম্মেলনে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ Indian Cricket Team: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় পাঁচে, তাও ফাইনালে পৌঁছনোর বিষয়ে ইতিবাচক ভারতীয় কোচ গম্ভীর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নর্দমার মধ্যে লাল গোলাপের গাছ লাগিয়ে লাভ হবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন পেছাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পরামর্শ সংসদীয় কমিটির রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর এফবিআইয়ের গোয়েন্দাদের হাজার হাজার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি
আন্তর্জাতিক

শিকাগোর আকাশে বাংলাদেশের গর্ব উইলিস টাওয়ারের চূড়ায়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
8 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
হে মার্কেটের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে যখন দুপুরের আহার শেষ করে পড়ন্ত বিকেলে ডাউন টাউন শিকাগোর পথে যাত্রা শুরু করলাম। তখন মনে হচ্ছিল ইতিহাসের এক অধ্যায় থেকে যেন আধুনিক বিশ্বের আরেক বিস্ময়ের দিকে এগিয়ে চলেছি। শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত সেই এলাকা মানবাধিকারের সংগ্রামের প্রতীক, আর আমাদের পরবর্তী গন্তব্য উইলিস টাওয়ার মানুষের সৃজনশীলতা, প্রকৌশল দক্ষতা এবং আধুনিক নগর সভ্যতার এক অনন্য প্রতীক। শহরের ব্যস্ত সড়ক ধরে যতই সামনে এগোচ্ছিলাম, ততই দৃষ্টিসীমায় উঁকি দিচ্ছিল আকাশভেদী সেই সুউচ্চ অট্টালিকা। অসংখ্য কাচঘেরা ভবনের মাঝেও এর স্বতন্ত্র উচ্চতা এবং স্থাপত্যশৈলী সহজেই নজর কাড়ে। মনে পড়ে গেল বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার কৃতী সন্তান, বিশ্বখ্যাত স্থপতি ও প্রকৌশলী স্যার ফজলুর রহমান খানের কথা। তার অসাধারণ মেধা, দূরদৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী চিন্তার ফলেই পৃথিবী পেয়েছে এই স্থাপত্য বিস্ময়। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে একজন বাঙালির এমন অনন্য কীর্তির সামনে পৌঁছানোর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। উইলিস টাওয়ারের পূর্বনাম ছিল সিয়ার্স টাওয়ার। ১৯৭৩ সালে নির্মাণের পর দীর্ঘসময় ধরে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এই ভবনের সেই গৌরব অক্ষুণ্ণ ছিল। একশ আটটি তলা, ছাদের ওপরের কাঠামো এবং নিচের তিনটি বেসমেন্ট মিলিয়ে এর মোট তলার সংখ্যা একশ বারো। তবে শুধু উচ্চতাই এই ভবনের পরিচয় নয়। আধুনিক উচ্চ ভবন নির্মাণের ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী মাইলফলক। ফজলুর রহমান খানের উদ্ভাবিত টিউবুলার স্ট্রাকচার ধারণা আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে এক নতুন যুগের সূচনা করে। এই নকশা ভবনকে যেমন অধিক নিরাপদ করেছে, তেমনি নির্মাণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কমিয়েছে। আজ বিশ্বের অসংখ্য সুউচ্চ ভবনের নকশায় তার সেই মৌলিক চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। একজন বাংলাদেশি প্রকৌশলীর মেধা যে বৈশ্বিক স্থাপত্যকে এত গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, তা ভাবতেই হৃদয় গর্বে ভরে ওঠে। এই ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার মনে হচ্ছিল, ইস্পাত ও কংক্রিটের এই বিস্ময়কর স্থাপত্যের গভীরে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের এক মেধাবী সন্তানের স্বপ্ন। ১৯২৯ সালে মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া স্যার ফজলুর রহমান খান শৈশব থেকেই গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। পরবর্তীকালে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যয়ন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে তিনি কাঠামো প্রকৌশলের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেন। আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে তার উদ্ভাবিত টিউবুলার স্ট্রাকচার ধারণা শুধু প্রকৌশল প্রযুক্তিকে বদলে দেয়নি, আধুনিক নগর স্থাপত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতেও এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। উইলিস টাওয়ার, জন হ্যানকক সেন্টারসহ বিশ্বের বহু সুউচ্চ ভবনে রয়েছে তার সেই সৃজনশীল চিন্তার ছাপ। তাই তাকে আধুনিক আকাশচুম্বী ভবনের জনক বলা হয়। তার মেধা প্রমাণ করেছে, মানুষের উচ্চতা জয়ের স্বপ্ন শুধু ইস্পাতের শক্তিতে নয়, চিন্তার শক্তিতেও নির্মিত হয়। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন অনুভব করলাম, এই বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যের নকশাকার আমারই বাংলার সন্তান, তখন হৃদয়ে গর্ব ও আবেগের এক অনির্বচনীয় অনুভূতি জেগে উঠল। মনে হলো, ভৌগোলিক সীমারেখা মানুষকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু প্রতিভার কোনো সীমানা নেই। আকাশছোঁয়া এই টাওয়ারের দিকে তাকিয়ে যেন নিজের দেশকেও আরও উঁচুতে উঠে দাঁড়াতে দেখলাম। উইলিস টাওয়ার তখন আমার কাছে শুধু একটি স্থাপত্য বিস্ময় নয়, বরং বাংলাদেশের মেধা, সম্ভাবনা ও বিশ্বজয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠল। আরও পড়ুন শ্রমিক দিবসের সূতিকাগার শিকাগোর হে মার্কেট ঘুরে দেখা টাওয়ারের পাদদেশে পৌঁছে বুঝতে পারলাম এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। পৃথিবীর নানা দেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় পুরো এলাকা ছিল মুখর। টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সারি দেখে প্রথমে মনে হলো হয়তো অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। প্রবেশমূল্য ছিল জনপ্রতি পঞ্চাশ ডলার। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের টিকিট আগে থেকেই সংরক্ষিত ছিল বলে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করতে হয়নি। নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে যখন ভেতরে প্রবেশ করলাম, তখন চারপাশের সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং পর্যটকদের জন্য পরিকল্পিত সুবিধা সত্যিই মুগ্ধ করল। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটকের আগমনে এই ভবন শুধু শিকাগোর নয়, সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবাখাত এই পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরেই বিকশিত হয়েছে। একটি স্থাপত্য কীভাবে একটি শহরের অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্যের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই উইলিস টাওয়ার। এরপর শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত উল্লম্ব যাত্রা। অত্যাধুনিক দ্রুতগতির লিফটে উঠে মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম একশ তিন তলায়। এত দ্রুত উচ্চতায় উঠে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি। লিফটের দরজা খুলতেই সামনে উন্মোচিত হলো এক অপার্থিব দৃশ্য। চারদিকে বিস্তৃত শিকাগো শহর যেন এক বিশাল শিল্পীর ক্যানভাস। আকাশছোঁয়া ভবনের সারি, শিকাগো নদীর আঁকাবাঁকা প্রবাহ, দূরে নীলাভ লেক মিশিগানের অসীম জলরাশি এবং সুপরিকল্পিত নগর বিন্যাস একসঙ্গে মিলিয়ে সৃষ্টি করেছে অনিন্দ্যসুন্দর এক দৃশ্যপট। এত উঁচু থেকে শহরকে দেখে মনে হচ্ছিল মানুষের কল্পনা আর প্রকৃতির সৌন্দর্য যেন একই ফ্রেমে বন্দি হয়েছে। সূর্যের কোমল আলো কাচের দেওয়ালে প্রতিফলিত হয়ে পুরো শহরকে আরও স্বপ্নময় করে তুলেছিল। আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের কুপার্স রকের চূড়ায় প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মরণীয় এক বিকেল একশ তিন তলায় অবস্থিত স্কাই ডেকই উইলিস টাওয়ারের প্রাণ। ভবনের গা ছেড়ে সম্পূর্ণ কাচের তৈরি এই স্বচ্ছ দর্শনমঞ্চটি যেন শূন্যের বুকে ভেসে থাকা এক বিস্ময়। সেখানে পা রাখার মুহূর্তে মনে হলো, মাটি থেকে নয়, যেন আকাশের বুক থেকেই পৃথিবীকে দেখছি। চারপাশে কাচের স্বচ্ছ দেওয়াল, আর পায়ের নিচেও কাচ। হাজার ফুট নিচে ব্যস্ত শিকাগো শহর তখন খেলনার নগরীর মতো ক্ষুদ্র, অথচ জীবন্ত। রাস্তাজুড়ে চলমান গাড়িগুলো পিঁপড়ের সারির মতো এগিয়ে যাচ্ছে, আর মানুষের চলাচল দূর থেকে ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো চোখে পড়ছে। পর্যটকদের উৎসাহ দেখার মতো। কেউ হাত দুটো প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ কাচের ওপর বসে বা শুয়ে সাহসী ভঙ্গিতে স্মৃতিকে ক্যামেরাবন্দি করছেন। আমাদেরও সেই আকর্ষণ এড়িয়ে যাওয়ার উপায় ছিল না। ছবি তোলার জন্য কাচের ওপর দাঁড়াতেই পাশ থেকে এক সহযাত্রী মৃদু হেসে বললেন, নিচের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন, সত্যিকারের রোমাঞ্চ তখনই বুঝবেন। কথাটা শুনে সাহস সঞ্চয় করে নিচে তাকাতেই বুকের ভেতর যেন এক মুহূর্তের জন্য শীতল স্রোত বয়ে গেল। জানতাম, বহুস্তরবিশিষ্ট বিশেষভাবে নির্মিত এই কাচ অত্যন্ত নিরাপদ, তবুও মানুষের সহজাত উচ্চতাভীতি যুক্তিকে মুহূর্তের জন্য হার মানিয়ে দেয়। ভয়, বিস্ময়, আনন্দ আর আত্মবিশ্বাসের সেই মিশ্র অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। স্কাই ডেকে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করলাম, মানুষের কল্পনাশক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ একত্রে মিললে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, আমরা শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে নেই, বরং মানবসভ্যতার সৃজনশীলতার এক অনন্য শিখরে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ অনুভব করছি। স্কাই ডেকে দাঁড়িয়ে বারবার মনে হচ্ছিল, এই ভবনের সঙ্গে বাংলাদেশের এক অম্লান সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত এই স্থাপত্যের নেপথ্যে একজন বাঙালির মেধা কাজ করেছে, এই উপলব্ধি হৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করছিল। স্যার ফজলুর রহমান খান শুধু একজন প্রকৌশলী নন, তিনি ছিলেন উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রতিভা। তার গবেষণা ও নকশা আধুনিক স্থাপত্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ভবনের সামনে তার নামাঙ্কিত সড়ক দেখে মনে হলো, শিকাগো শহরও তার এই মহান নির্মাতার অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে রেখেছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ হয়তো শুধু একটি সুউচ্চ ভবন দেখতে আসে, কিন্তু একজন বাংলাদেশির কাছে এটি জাতীয় গর্বের এক জীবন্ত প্রতীক। স্কাই ডেক থেকে নিচে নামার আগে পাশের স্যুভেনির গ্যালারিতে কিছুক্ষণ ঘুরে দেখলাম। দৃষ্টিনন্দন স্মারকে সাজানো দোকানটিতে ব্রোঞ্জ, কাচ, প্লাস্টিক, কাপড় ও সিরামিকের নানা নকশার সংগ্রহ ছিল। শিকাগো ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতে সেখান থেকে আমরা দুটি স্যুভেনির কিনলাম। এর আর্থিক মূল্য হয়তো সামান্য, কিন্তু আবেগ ও স্মৃতির মূল্য অপরিসীম। মনে হলো, এই ছোট্ট স্মারকগুলো হাতে নিলেই আবার ফিরে যাব সেই আকাশছোঁয়া টাওয়ারের স্কাই ডেকে, যেখানে দাঁড়িয়ে একজন বাংলাদেশির বিশ্বজয়ী কীর্তির সামনে গর্ব, বিস্ময় ও শ্রদ্ধায় হৃদয় ভরে উঠেছিল। আরও পড়ুন ভার্জিনিয়ার গ্রেট ফলস পার্কে প্রকৃতির মুখোমুখি শেষ বিকেলের সোনালি আলো তখন ধীরে ধীরে শিকাগোর আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। উইলিস টাওয়ারের স্কাই ডেক থেকে নেমে এসে শেষবারের মতো আকাশছোঁয়া সেই স্থাপত্য বিস্ময়ের দিকে তাকালাম। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন এক কীর্তির সামনে নিজেকে গর্বিত বাঙালি বলে মনে হচ্ছিল। তবে দিনের ভ্রমণ তখনো শেষ হয়নি। আমাদের সামনে অপেক্ষা করছিল শিকাগোকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার আরেকটি অনন্য অভিজ্ঞতা। তাই উইলিস টাওয়ারের স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করেই আমরা রওয়ানা দিলাম পরবর্তী গন্তব্য, বহুল প্রতীক্ষিত আর্কিটেকচারাল রিভার ট্যুরের উদ্দেশ্যে। এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>