জাতীয়

১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানিতে ৩০% মূল্য সংযোজন করতে চায় বিজিএমইএ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, আমরা তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চাই। তবে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, অন্তত ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাত গড়ে তোলা অপরিহার্য। একটি শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তুলতে স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে টেক্সটাইল খাতের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে বিজিএমইএ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিজিএমইএ’ র মধ্যে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা)’ নামে একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাহমুদ হাসান খান। আরও পড়ুন টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের মেশিনারি প্রদর্শনী করবে বিটিএমএ-বিজিএমইএ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে এমওইউতে সই করেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাত ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে যেতে চায়। তবে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, এর সঙ্গে পর্যাপ্ত মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে হবে। ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির বিপরীতে যদি মূল্য সংযোজন মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার হয়, তাহলে সেই লক্ষ্য অর্জন যথেষ্ট হবে না। মূল্য সংযোজন কমপক্ষে ২০ বিলিয়ন থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাতের সহায়তা ছাড়া ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। দুই সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকতে পারে, কারণ দুটি ভিন্ন সংগঠন। তবে এসব মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। আরও পড়ুন নতুন অর্থবছরেও সুখবর নেই রপ্তানি আয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই মেলাকে কেন্দ্র করে বিটিএমএ সভাপতি ও সাবেক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে একটি বড় লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চান তারা। যারা বাংলাদেশে মেশিন বিক্রি করতে চান, তাদের দায়িত্ব শুধু মেশিন বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাদের বাংলাদেশে টেক্সটাইল খাতের প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস উৎপাদনে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএ যৌথভাবে কাজ করছে। গত এক দশকের এই সহযোগিতা শিল্পের ধারাবাহিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আধুনিক টেক্সটাইল প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সামনে তুলে ধরতেই এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আগে এসব প্রযুক্তি দেখতে ইতালির আইটিএমএ প্রদর্শনীতে যেতে হলেও এখন সেই সুযোগ দেশেই তৈরি হয়েছে। আরও পড়ুন বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে পোশাক রপ্তানিতে ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা তিনি আরও জানান, বিটিএমএ ও বিজিএমইএ যৌথভাবে নতুন একটি প্রদর্শনীর আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার নাম বিটমা (বিআইটিএমএ)। এ আয়োজনের জন্য ডোমেইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং দুই সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। মাহমুদ হাসান খান বলেন, ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারার বা সুতা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের মাঝে মাঝে মতবিরোধ তৈরি হয়। সুতার দাম বেড়ে গেলে অনেক স্পিনিং মিল পারচেজ অর্ডার (পিআই) বাতিল করে দেয়। আবার সুতার দাম কমে গেলে অনেক পোশাক কারখানা পিআই নেওয়ার পরও এলসি খোলে না। এ ধরনের সমস্যার সমাধানে একটি যৌথ আরবিট্রেশন সেল গঠন করা যেতে পারে, যাতে উভয় পক্ষের সম্মত চুক্তি কেউ অমান্য করতে না পারে। আরও পড়ুন বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে কাজ করবো: বিজিএমইএর মহাসচিব তিনি আরও বলেন, বিটিএমএ ও বিজিএমইএ এরই মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সফলভাবে একসঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড নিয়ে যৌথ উদ্যোগ। মাহমুদ হাসান খান বলেন, দেশের অর্থনীতি, বস্ত্র ও পোশাক খাতের স্বার্থে এবং শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে আগামী দিনেও বিটিএমএ ও বিজিএমইএ একসঙ্গে কাজ করবে। আইএইচও/এমএমকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>