বিজ্ঞাপন
বইয়ের জ্ঞান কখনো হারিয়ে যায় না। বরং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের চিন্তা ও মননকে সমৃদ্ধ করে। দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়তে বই পড়ার বিকল্প নেই। খুলনায় বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ থেকে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় শুক্রবার (৩১ জুলাই) খুলনার বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের প্রাঙ্গণে এ বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
পাঠক সমাবেশে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়ি ও সেসব লাইব্রেরির গাড়িগুলোর পাঁচশোর বেশি পাঠক-সদস্যের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি, ভ্রাম্যমাণ বইমেলা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জিআই পণ্যভিত্তিক স্টল প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
মেধা-মননের বিকাশ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে রাজশাহী-রংপুরে পাঠক সমাবেশ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) আবদুল্লাহ হারুন বলেন, বর্তমান সরকার শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং প্রকৃত মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সমাজে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে বইয়ের জ্ঞানকে আত্মস্থ করতে হবে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি বুদ্ধিভিত্তিক ও জ্ঞাননির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আগামী প্রজন্মকে চিন্তাশীল, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের প্রশাসন ও হিসাব বিভাগের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মরিয়ম বেগম বলেন, বইয়ের জ্ঞান কখনো হারিয়ে যায় না। বরং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের চিন্তা ও মননকে সমৃদ্ধ করে। বইয়ের এই জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সারাদেশে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাড়ির মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যেন সব শ্রেণিপেশার মানুষ সহজেই পাঠসেবার সুযোগ পান।
খুলনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার সাংস্কৃতিক চর্চা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যখন মানুষ বইপড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবে তখন ডিভাইসের প্রতি আসক্তি কমবে।
সভাপতির বক্তব্যে হুরে জান্নাত বলেন, কালজয়ী বই মানুষের চিন্তার জগৎকে সবসময় প্রসারিত করে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উন্মোচন ঘটায়। গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও আত্মোন্নয়নের ক্ষেত্রে লাইব্রেরির কোনো বিকল্প নেই। নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো বই। একটি ভালো বই শুধু জ্ঞানই দেয় না, বরং মানুষের চরিত্র গঠন, মূল্যবোধের বিকাশ ও সুন্দর জীবন নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থারের সিনিয়র লাইব্রেরিয়ান সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রকল্পের আওতায় গত ২৪ জুলাই রাজশাহী ও ২৫ জুলাই রংপুর বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬টি বিভাগের মধ্যে আগামীতে পর্যায়ক্রমে বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এমকেআর
বিজ্ঞাপন