জাতীয়

মধুমতির ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর আতঙ্কে ২০ গ্রামের মানুষ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে মাগুরার মহম্মদপুরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মধুমতি নদী। তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের শত শত পরিবার। কেউ হারিয়েছেন বসতভিটা, কেউ ফসলি জমি, আবার অনেক পরিবারকে বারবার ঘর সরিয়ে নিতে হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ঈদগাহ, মন্দির, দোকানপাট ও বাজার। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন নদীতীরবর্তী প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ। নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মধুমতির ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তাদের। বছরের অন্য সময় কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও বর্ষা এলেই শুরু হয় আতঙ্ক। ভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ ও তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ছে। বালু ব্যবসায়ীদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের খেসারত দিতে হচ্ছে নদীপাড়ের সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার উত্তরে চরসেলামতপুর থেকে দক্ষিণে গোপালনগর, মহেষপুর, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা, চরঝামা, আড়মাঝি, যশোবন্তপুর, চরপাচুড়িয়া, রায়পুর, মুরাইল, ধুপুড়িয়া, জাঙ্গালিয়া, রুইজানি, কাশিপুর, ধুলজুড়ি, দ্বিগমাঝি, দেউলি, ভোলানাথপুর ও কালিশংকরপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের শত শত পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মধুমতি নদীর তীরে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। কারও চোখে-মুখে ঘর হারানোর শঙ্কা, আবার কেউ তাকিয়ে আছেন নদীর দিকে, কখন তার শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়, সেই আতঙ্কে। হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের তহিদুল ইসলাম লিপন ও তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানা জানান, ইতোমধ্যে তাদের ১০ থেকে ১২ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাঁচবার বাড়ি সরাতে হয়েছে। এ বছরও ভাঙনের আশঙ্কায় পাশের জমিতে সাময়িকভাবে ঘর তুলে বসবাস করছেন তারা। তারা বলেন, ‘কীভাবে আবার ঘর সরাব, কোথায় গিয়ে থাকব- এই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।’ একই গ্রামের স্বামীহারা নুর নাহার বলেন, চারবার বাড়ি সরিয়েছেন তিনি। ভাঙনে ফসলি জমি ও গাছপালা সব হারিয়েছেন। এখন আবারও ভাঙনের মুখে পড়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ভ্যানচালক মো. ইনামুল শেখ বলেন, তিনবার তার বাড়ির ভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। নিজের কোনো জমি না থাকায় এখন অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। ভ্যান চালিয়ে কষ্টে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে। নদীভাঙনের খবর পেয়ে গত ১৯ আগস্ট উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী। এ সময় তিনি প্রায় ৩০০ মিটার জিওব্যাগ ডাম্পিং এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয়দের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। মাগুরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তস কর্মকার বলেন, ‘আমি তিন দিন আগে যোগদান করেছি। যেসব এলাকা নদীভাঙনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেএইচকে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>