জাতীয়

‘ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত ভাত দেবে না’- বাবা বলেছিলেন নাফিসকে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
8 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন, জাতীয় দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। ক্রিকেট খেলেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে সেই শাহরিয়ার নাফিসকেই তার বাবা বলেছিলেন, ক্রিকেট ভাত দিবে না। সম্প্রতি ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়ালেখার গুরুত্ব বোঝাতে বন্ধু আতিফ আকিফের সঙ্গে জুটি বেধে বই লিখেছেন নাফিস। শনিবার ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস’ নামের বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। শাহরিয়ার নাফিস জানান, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়াশোনার জন্য পরিবারের কাছ থেকে চাপ ছিল। এমনকি জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার পরও তার বাবার একটি কথা তাকে শুনতে হয়েছে। নাফিস বলেন, ‘আমি যখন একদম ছোট, তখন বাসায় আমার আব্বা-আম্মু পড়ালেখার জন্য প্রচণ্ড রকমের চাপ দিতেন। এমনকি স্যার (কোচ ওয়াহিদুল গনি) অনেক সময় বলতেন, তুই ক্রিকেট খেলে কী করবি, তুই তো সারাদিন পড়াশোনাই করিস; কিন্তু আমার বাসায় সবসময় এই চাপটা ছিল। আমি যখন জাতীয় দলের অধিনায়কও হয়েছিলাম, তখনও আব্বার কথা এখনো আমার কানে ভাসে। আব্বা একটা কথা বলতেন, ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত ভাত দেবে না। তখন খুব বিরক্ত লাগত- জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করছি, আর আব্বা বলছেন ক্রিকেট ভাত দেবে না। কিন্তু ওই কথার মর্মটা আমি এখন বুঝি।’ বইটিতে নিজের গল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রীড়াবীদদের জীবন ও পড়াশোনার প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে নাফিস বলেন, অনেক খেলোয়াড় প্রতিভাবান হলেও শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনা তাদের পরবর্তী জীবনে কিভাবে কাজে আসে, সেটিই বইটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার গল্পটা নেই। আমার যে উপলব্ধি, সেখান থেকেই এই বইয়ের কাজ করা। এখানে জাতীয় দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটার, অ্যালান ডোনাল্ড, স্টুয়ার্ট ল- তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ২০০৪ সালের অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪০০ মিটারে সোনার পদকজয়ী ক্যাথি ফ্রিম্যানের অলিম্পিক কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি।’ পড়াশোনার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রি অর্জন জরুরি নয় বলেও মনে করেন সাবেক এই ক্রিকেটার। তার মতে, পড়াশোনার অভ্যাস একজন মানুষকে সহজভাবে চিন্তা করতে শেখায়। নাফিস বলেন, ‘আপনাকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী হতে হবে না। তবে পড়াশোনা করলে যেটা হয়, আপনি খুব সহজভাবে চিন্তা করতে পারেন।’ বাংলাদেশের বাস্তবতায় খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নাফিস। কারণ, খেলাধুলায় সবাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন না। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতাটা আমাকে মেনে নিতেই হবে। বাংলাদেশে এখনো খেলাধুলা বলেন, নাটক-অভিনয় বলেন বা এই সেক্টরগুলো এত বড় ইন্ডাস্ট্রি হয়ে ওঠেনি, যেখানে পরবর্তীতে আপনার ব্যাকআপ না থাকলেও চলবে। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে পড়াশোনাটা খুবই জরুরি। বিভিন্ন সেক্টরের বিভিন্ন মানুষের সেই গল্পই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।’ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বাবা-মায়েদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন নাফিস। তিনি মনে করেন, সন্তানকে খেলাধুলার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনার গুরুত্বও বোঝাতে হবে। নাফিস বলেন, ‘আমি বাচ্চাদের বাবা-মাকে সবসময় একটা কথা বলি- আপনার বাচ্চাদের খেলতে দেন। কিন্তু বাচ্চাকে গিয়ে এই কথাটা বলি, তুমি যতই করো না কেন, পড়াশোনা না করলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তোমার জীবন খুব কঠিন হবে। আশা করি, এই বই পড়লে ওই গল্পগুলো যখন মানুষ জানবে, অবশ্যই কিছু না কিছু অনুপ্রেরণা তারা পাবে।’ খেলাধুলা ও পড়াশোনার মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নাফিস। তার মতে, পড়াশোনায় ভালো করলে বাবা-মায়ের কাছ থেকেও খেলাধুলার সুযোগ আদায় করা সহজ হয়। তিনি বলেন, ‘দুইটা জিনিস। একটা হচ্ছে, তুমি যদি পড়াশোনা করো, সেটা তোমার পারফরম্যান্সও উন্নত করবে। আর দুই নম্বর, আমাদের বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় অভিযোগ এখন হচ্ছে- স্কুল-কলেজে পড়াশোনার এত চাপ, খেলতে কেন দেব? তখন বাচ্চাদের কানে কানে ওই কথাটাই বলি, তুমি যদি পড়াশোনাটা ন্যূনতম ভালো করো, তখন তুমি তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে সেই সমঝোতাটা করতে পারবে, আমার ফলাফলও তো একটু ভালো হচ্ছে, তাহলে আমাকে খেলতে দেবে না কেন?’ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে তারও এমন একটি সমঝোতা ছিল- খেলতে হলে পড়াশোনাও করতে হবে। নাফিস বলেন, ‘আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে সবসময় একটা সমঝোতা ছিল। আমার বাবা-মা বলতেন, ফলাফল ও পড়াশোনা ঠিক না করলে খেলতে দেব না। আর আমার ক্ষেত্রে ছিল, আমাকে খেলতে হবে, তার জন্য কিছুটা হলেও পড়াশোনা করতে হবে। এই সমঝোতাটা সবসময় ছিল। আমার কাছে মনে হয়, কোনটার জন্য কতটুকু ত্যাগ আমি করতে পারব, সেটাও বুঝতে হবে।’ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি অভিভাবক, কোচ ও বয়োজ্যেষ্ঠদেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন নাফিস। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শুধুমাত্র আমার সার্টিফিকেট—এটা না। পড়লে আসলে যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে আমার মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য জরুরি, সামাজিকভাবেও জরুরি।’ বাংলাদেশের বাস্তবতায় পড়াশোনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাফিস আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা বিশ্বাস করি, পড়াশোনাটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের এখানে যেকোনো পারফরম্যান্স আর্টের যে ক্ষেত্রগুলো আছে, সেগুলোর সময়কাল খুব একটা বড় নয়। পরবর্তী জীবনে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখেছি, নাটক-অভিনয়ের সঙ্গে যারা আছেন, গায়ক-গায়িকা কিংবা যারা খেলাধুলা করছেন, তাদের পরবর্তী জীবনটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। এই জন্য পড়াশোনাটা জরুরি।’ বইটির মূল লক্ষ্য অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো বলেও জানান নাফিস। খেলাধুলার কারণে পড়াশোনা বাদ দেওয়ার পরিবর্তে দুটিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে চান তারা। নাফিস বলেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগটা মূলত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের জন্য। বাবা-মাকে বোঝানো দরকার যে সন্তানকে খেলতে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি খেলোয়াড়দেরও বলা দরকার, পড়াশোনা করলে তাদের পারফরম্যান্স ১০০ শতাংশ উন্নত হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। পড়াশোনা মানে ডক্টরেট ডিগ্রি বা মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণি পাওয়া নয়, আপনার পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে। তাহলে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়।’ এসকেডি/আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>