জাতীয়

পর্যটকদের জন্য আসছে অ্যাপ, আরও সহজ-নিরাপদ হবে পাহাড়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পাহাড়, ঝরনা ও বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য খাগড়াছড়ি। পর্যটন আরও সহজ ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। পর্যটনকেন্দ্রে তথ্যসমৃদ্ধ সাইনবোর্ড, লিফলেট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রমের কথা জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। পাহাড়ে বিভিন্ন সংগঠনের চাঁদাবাজি, সংঘাত, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা রাষ্ট্র করার কথিত প্রবণতা নিয়েও জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময়। জাগো নিউজ: পার্বত্যাঞ্চলে পর্যটনের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? জেলা প্রশাসক: খাগড়াছড়ি পাহাড়সমৃদ্ধ একটি জেলা। এখানে পাহাড়, ঝরনা ও সুন্দর প্রকৃতি রয়েছে। পর্যটকরা এখানে আসতে চান এবং আসছেন। পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটি জেলার সাজেক প্রশাসনিকভাবে রাঙ্গামাটির অংশ হলেও এর যাতায়াতসহ অনেক বিষয় খাগড়াছড়ির ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রতিনিয়ত পর্যটক এখানে আসছেন। আরও পড়ুন পাহাড়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়িয়ে জাতিগত সংঘাত, অভিযোগ অপপ্রচারের পর্যটকদের জন্য আরও ভালো কিছু করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা সকালে এসে যেখানে গাড়ি থেকে নামেন সেখানে বড় একটি সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। সেখানে জেলার পর্যটন স্পটগুলোর তথ্য, কীভাবে যেতে হবে, কত টাকা ভাড়া লাগবে, কত সময় লাগবে এবং কোনো ধরনের প্রতিকূলতা রয়েছে কি না- এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এটি আমরা কয়েক মাস আগে করেছি। পর্যটকরা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন এবং উপকৃতও হচ্ছেন। জাগো নিউজ: পর্যটকদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে আর কী উদ্যোগ রয়েছে? জেলা প্রশাসক: পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আমরা লিফলেটের ব্যবস্থা করেছি। একজন পর্যটক সেখানে গিয়েই যেন একনজরে প্রয়োজনীয় তথ্য পান, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এ ধরনের তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট থাকে। লিফলেটে দূরত্ব কত, কত টাকা খরচ হবে, কোন ধরনের যানবাহন ব্যবহার করা যাবে এবং সেখানে থাকার প্রয়োজন হলে আবাসন সুবিধা কেমন- এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, রিছাং ঝরনা, মায়াবিনী লেক, স্বর্গের সিঁড়ি, দেবতা পুকুরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এর বাইরে নতুন পর্যটন স্পট খুঁজে বের করে সেগুলো উন্নয়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কোনো পর্যটন স্পট উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিষয়টিও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তারা যেন কোনো ধরনের অস্বস্তি বা সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হয়। তারা যদি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেন তাহলে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জাগো নিউজ: বিদেশি পর্যটক টানতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? জেলা প্রশাসক: এখন মানুষ সবকিছু অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে জানতে চায়। ঢাকায় বসে কিংবা নিউইয়র্কে বসেও একজন পর্যটক জানতে চান- তিনি খাগড়াছড়ি বা সাজেকে কীভাবে যাবেন? এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে প্লে-স্টোরে একটি অ্যাপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উন্নয়নকাজ অনেকখানি এগিয়েছে। আরও পড়ুন পাহাড়ে মুরগি বেচলেও দিতে হয় চাঁদা, বছরে লেনদেন হাজার কোটি টাকা এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে বিদেশি পর্যটকদের জন্য স্বয়ংক্রিয় রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে গেলে খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমণ করতে আগ্রহী বিদেশিরা প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন। ওয়েবসাইটে খাগড়াছড়ি ও তৎসংলগ্ন পর্যটন স্পটগুলোর বিস্তারিত তথ্যও দেওয়া আছে। জাগো নিউজ: পর্যটকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেমন? জেলা প্রশাসক: পর্যটকদের নিরাপত্তা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। এখানে ২৪ ঘণ্টা ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করছে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি রয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন কার্যক্রমে যুক্ত কিছু মানুষও পর্যটকদের সহযোগিতা করছেন। আরও পড়ুন নিরাপত্তায় উদ্বেগ / ত্রিদেশীয় সীমান্তে আরাকান-ইউপিডিএফ-কেএনএফের ‘জোট’ কোনো পর্যটক নিরাপত্তাহীনতা বোধ করলে আমাদের নির্ধারিত কল সেন্টার বা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্রুত সেখানে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। জাগো নিউজ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় কেমন? জেলা প্রশাসক: পার্বত্য তিন জেলার নাগরিকদের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে। জেলা প্রশাসন এসব কার্যক্রম সমন্বয় করে। সব বাহিনীর মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণ শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের সঙ্গেও তাদের ভালো সম্পর্ক। কেউ আইনশৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাগো নিউজ: ইউপিডিএফ, জেএসএসসহ বিভিন্ন সংগঠন ঘিরে পাহাড়ে মাঝেমধ্যে সংঘাত ও গোলাগুলি হয়। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ কী? জেলা প্রশাসক: পার্বত্য অঞ্চলে বিশেষ করে খাগড়াছড়িতে গত বছর যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল সেখানে আইনশৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে যারা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার কাজ করা হয়েছে। আমরা চাই জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব সময় স্বাভাবিক থাকুক। সাধারণ নাগরিকরা শান্তিতে বসবাস করুন। মাঝে মধ্যে দু-একটি ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। আরও পড়ুন সীমান্তের শূন্যরেখায় নারী-শিশুকে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত, আইন কী বলছে জাগো নিউজ: চাঁদাবাজির অভিযোগের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়? জেলা প্রশাসক: স্পষ্টভাবে বলা আছে কারও কাছে চাঁদা চাওয়া হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় এনে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। জাগো নিউজ: পাহাড়ে প্রায় গুলির ঘটনা ঘটে, কেন? জেলা প্রশাসক: আমাদের পর্যবেক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রিপোর্ট অনুযায়ী- গহীন পাহাড়ে যে দু-একটি ঘটনা ঘটে সেগুলোর বেশিরভাগই নিজেদের মধ্যে আধিপত্য, গ্রুপিং কিংবা কে কোন পদে থাকবে এসব বিষয় কেন্দ্র করে ঘটে। শহর বা শহরতলিতে এ ধরনের ঘটনা তেমন দেখা যায় না। এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। জাগো নিউজ: সীমান্ত সড়ক নির্মাণে মাঝে-মধ্যে বাধার অভিযোগ পাওয়া যায়, কারণ কী? জেলা প্রশাসক: সীমান্ত সড়ক নির্মাণ হলে তিন পার্বত্য জেলার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পর্যটন উন্নয়ন ও পাহাড়ে বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকরাও উপকৃত হবেন। সীমান্ত সড়ক দ্রুত ও সুন্দরভাবে নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর কাজ করছে। সিভিল প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সহযোগিতা করছে। সিভিল প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব হলো ভূমি অধিগ্রহণ। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। কোনো ছোটোখাটো বাধা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। আমরা সব সময় চাই পাহাড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় থাকুক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। জেলা প্রশাসক: জাগো নিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ। টিটি/এএসএ/ এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>