জাতীয়

হাসপাতালের ভবনে লেখা ‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, চিকিৎসক সংকট, বন্ধ জটিল অপারেশন কার্যক্রম ও ল্যাব, বাক্সবন্দি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন। এমনই চিত্র বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। ফলে সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কচুয়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। বাধ্য হয়ে জেলা হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে তাদের। এতে মানুষের খরচ ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে। সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে গিয়ে দেখা যায় প্রবেশমুখেই সাদা কাগজে বড় অক্ষরে লেখা ‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’। এই সতর্কবার্তা এড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই জরুরি বিভাগ। গণপূর্ত বিভাগ ঘোষিত ৩১ শয্যার এই পরিত্যক্ত ভবনে জরুরি বিভাগের পাশাপাশি চলছে স্বাস্থ্য সহকারীদের কার্যালয়, টিকাদান কর্মসূচি, সেবিকা কক্ষ ও ভর্তি রোগীদের জন্য চারটি শয্যাসহ চিকিৎসা সংক্রান্ত বেশকিছু কার্যক্রম। ভবনের ছাদ থেকে মাঝে মাঝে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেওয়ালে বড় বড় ফাটল। ঝুঁকি নিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা। আতঙ্কে চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও তার স্বজনরা। আরও পড়ুন যশোর হাসপাতালে তিন লাখ টাকার সরকারি ওষুধ নয়-ছয়! হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে স্থাপিত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০০৫ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতালটিতে ৩৪ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ২১টি শূন্য পদ রয়েছে। এছাড়া ১৯৭২ সালের একটি এক্সরে মেশিন দিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ এক্সরে কার্যক্রম। অথচ ৯ মাস ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে আধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন। ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের রোগের পরীক্ষা। অন্যদিকে হাসপাতালে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো জটিল অস্ত্রোপচার হয় না এই হাসপাতালে। এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন টেংরাখালী গ্রামের বাসিন্দা ইসরাত জাহান পলি। তিনি বলেন, ‘আমার বাবাকে গত শনিবার এখানে ভর্তি করিয়েছি। এখানে আগে দুটো ভবন ছিল। একটা পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় মহিলা পুরুষ সব এই জায়গায় থাকে। শয্যা সংকটে আমরা হাসপাতালের বারান্দায় জায়গা পেয়েছি। রাত নেই, দিন নেই সবাই এক জায়গাতেই থাকতে হয়। যেটা নারীদের জন্য বিড়ম্বনার।’ রোগীর স্বজন ইমরান মল্লিক বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালটি নিজেই রোগী। বিভিন্ন জায়গা থেকে ভেঙে পড়তেছে, ছাদের বিভিন্ন জায়গায় রড বের হয়ে আছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত শয্যা নেই, ফ্যান নেই, বাথরুমের সংকট। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে যেকোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুইটা ভবনের একটি নষ্ট হওয়ায় রোগীদের বারান্দায় রাত যাপন করতে হচ্ছে। এখানে রোগী নিয়ে এলে স্বজনদেরও রোগী হয়ে ফিরতে হচ্ছে।’ আরও পড়ুন ১৩৫ বছরের পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালজুড়ে ভূতুড়ে পরিবেশ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, আমি এই সরকারি কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ছিলাম। কিন্তু এটা এখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বসবাস করার উপযোগী আর নেই। জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে এখান থেকে গিয়ে বাইরে থাকছি। কিন্তু এখানে এখনো কর্মচারীরা থাকছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মুশফিকুর রহমান তরফদার বলেন, এখানে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে বসেই আমাদের সেবা দিতে হচ্ছে। ভবনের কয়েকটি জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেবা দিচ্ছি। যখন ভূমিকম্প বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে তখন আরও বেশি ঝুঁকি বেড়ে যায়। এখানে জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩০০ এর অধিক রোগী আসে। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে চলমান এক্সরে মেশিন দিয়ে ঠিকমতো এক্সরে হয় না। আর নতুন যে এক্সরে মেশিন দিয়েছে সেটা চালাতে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে, সেখানে পুরো হাসপাতাল চলছে ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুতে। এছাড়া এক্সরে মেশিনের জন্য একটি নতুন কক্ষও লাগবে। এসব চাহিদার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে চিঠি দিলেও কোনো কাজ হয়নি। এছাড়া পরিত্যক্ত ভবনসহ অন্যান্য সংকটের বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো উপকার হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা। আরও পড়ুন গ্যারেজে চলছে মর্গের কাজ, মেঝেতেই থাকে সারি সারি মরদেহ বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহাবুবুল আলম বলেন, এক্সরে মেশিন চালাতে সাবস্টেশন প্রয়োজন। যা এই মুহূর্তে সম্ভব না, তাই এটি অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি সরকার যেহেতু জনগণের কথা ভাবছে, তাই সংকট দ্রুত নিরসন হবে বলে জানান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। নাহিদ ফরাজী/এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>