জাতীয়

আলো ছড়াচ্ছে আদর্শ সমাজকল্যাণ গণপাঠাগার

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল বই মানুষকে আলোকিত করে। অজানাকে জানার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। পাশাপাশি সভ্য মানুষ তৈরিতে বই অনস্বীকার্য। তবে বর্তমান যুবসমাজের একটা অংশ বইপড়ার অভ্যাস থেকে অনেকটা সরে গিয়ে স্মার্ট ফোনের রঙিন স্ক্রিনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জীবনকে স্মার্ট ফোনের ছয় ইঞ্চি ডিসপ্লের গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখছে। যা ধীরে ধীরে তাদের মেধা ও চিন্তা শক্তির ধ্বংস সাধন করছে। এমন পরিস্থিতিতেও পাঠকের বইপড়ার তৃষ্ণা মেটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠছে পাঠাগার। তেমনি একটি পাঠাগার আদর্শ সমাজকল্যাণ গণপাঠাগার। বইমেলার স্টলে বই পড়তে পড়তে শাকিল আহমেদ ও তার বন্ধুদের মাথায় এলো মধুপুর পৌর শহরে কোনো পাঠাগার স্থাপন করা যায় কি না। এ ভাবনা থেকে মহল্লার যুবসমাজ ও স্থানীয়দের সাথে আলাপচারিতার একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় পাঠাগার স্থাপনের। এরপর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার পৌর শহরের টেংরিতে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে যাত্রা শুরু হয় পাঠাগারটির। যাত্রার শুরুতে কম মূল্যের একটি ভাড়া রুমে পাঠাগারটির কার্যক্রম সূচিত হয়। শুরুতে কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরাতন বর্ষের বিভিন্ন বাংলা গদ্য-পদ্য ও গল্পের বই সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করা হয় বাংলা ব্যাকরণ ও বিজ্ঞান ভিত্তিক বই। যা পাঠাগারের প্রত্যেকটি তাকে শোভা পায়। পাঠাগার স্থাপনের শুরুর দিনগুলোতে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি আলমারি, একটি বুক সেলফ ও টেবিল এবং বেশ কয়েকটি চেয়ার কেনা হয়। ১৫ জন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও প্রায় দেড় শতাধিক বই নিয়ে মহল্লায় মিটমিট করে আলো জ্বালাতে থাকে আদর্শ সমাজকল্যাণ গণপাঠাগার। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আজ অবধি পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক স্থানীয় মহিলা মাদ্রাসা ও মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আরও পড়ুন কুমিল্লায় বিলকিছ-আলম পাঠাগারের স্থায়ী ঠিকানা প্রতিষ্ঠাকালীন সীমিত পরিসরে চালু হলেও এখন পুরোদস্তুর আলোচনার টেবিলে থাকে পাঠাগারটি। পাঠক তৈরিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় কুইজ প্রতিযোগিতা, সিরাত প্রতিযোগিতা, মেধা বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করে আসছে তারা। পাশাপাশি জাতীয় দিবস উদযাপন, বৃক্ষরোপণ ও অস্বচ্ছল পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে পাঠাগারটি। বইপড়ার আগ্রহ জাগাতে বা অভ্যাস তৈরিতে কার্পণ্য নেই তাদের। পাঠাগারের সদস্য না হয়েও যে কেউ এখান থেকে পড়তে পারেন পছন্দসই বই। পাঠাগারের অন্যতম নিয়মিত পাঠক ইলেক্ট্রিশিয়ান শাহ আলম বলেন, ‌‘কাজের ফাঁকে আমি প্রচুর অলস সময় কাটিয়েছি। মোবাইলের স্ক্রিনে স্ক্রল করে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করেছি। তবে এখন আদর্শ সমাজকল্যাণ গণপাঠাগারে বই পড়ি। বই পড়ে অনেক বিষয় জানতে ও শিখতে পারছি। কাজের ফাঁকে বা কাজ শেষে যতটুকু সময় পাই; ততটুকু বইপড়ায় দিচ্ছি। ফলে আমার সময় এখন ভালো কাটে। পাশাপাশি অনেক খারাপ অভ্যাস থেকেও দূরে আছি। যা সম্ভব হয়েছে বইপড়ার কল্যাণে।’ পাঠাগারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের পাঠাগারে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সহস্রাধিক বই আছে। প্রতিনিয়ত পাঠাগারের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সদস্যরা এখানে বই উপহার দিচ্ছেন। পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বিশৃঙ্খল যুবসমাজ এখন নিয়মিত বইপড়ায় মনোনিবেশ করেছে। মাদক ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে সরে খেলার মাঠে ও বইপাঠে সময় অতিবাহিত করছে। আমাদের এখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়স ও ধরনের পাঠক আছে।’ আরও পড়ুন নজরুল বর্ষে ‌‘অগ্নি-বীণা’কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ‘রুদ্র-মঙ্গল’ পাঠাগার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য আছে নির্বাচিত কমিটি। যারা দক্ষতার সাথে বিগত সময় থেকে পাঠাগার পরিচালনা করে আসছেন। পাঠাগারের প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শাকিল আহমেদ বলেন, ‘পৌর শহরে পাঠাগার হওয়া সত্ত্বেও আছে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা। পাঠক তৈরির চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পাঠকের অভাব। সেই সাথে পাঠাগার পরিচালনার জন্য আর্থিক প্রতিবন্ধকতা নিত্যসঙ্গী। তবুও আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। পড়ুয়া শ্রেণি তৈরিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ পাঠকসমাজ তৈরিতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছেন। প্রচারাভিযান পরিচালনা করছেন। স্বপ্নবাজ এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখক: শিক্ষার্থী, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ। এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>