জাতীয়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে শুধু মানবিক সহায়তা নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা। আলোচকরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক বাস্তবতা, নাগরিকত্ব, অধিকার ও রাখাইন রাজ্যের সুশাসনের বিষয়গুলোকে প্রত্যাবাসন আলোচনার কেন্দ্রে আনতে হবে। সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জাতীয় অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ (সিজিএস) ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের হিট প্রকল্প যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সিজিএসের পরিচালক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম আলী আশরাফ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই হলো বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অভিন্ন লক্ষ্য।’ তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম রোহিঙ্গা সংকটকে মানবিকতার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পজীবন, ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মিয়ানমারের চলমান সংঘাতকে প্রত্যাবাসনের পথে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেন। এ সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ ও কার্যকর নিরাপত্তা কৌশলের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সেমিনারের প্যানেল আলোচনায় মালয়েশিয়ান অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন মিয়ানমারের হেড অব সেক্রেটারিয়েট লিলিয়ান ফ্যান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে। প্রত্যাবাসন আলোচনায় আইনি ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আসিয়ানকে আরও সমন্বিত ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে লিলিয়ান ফ্যান বলেন, পাঁচ দফা ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সহিংসতা বন্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুকে কার্যকরভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীনতা ও বঞ্চনার মূল কারণ সমাধানে আইনি, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন। প্রত্যাবাসন শুধু কাগজে-কলমে নিরাপদ হওয়ার বিষয় নয়, এর সঙ্গে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাখাইন রাজ্যে সুশাসন ও রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ও জড়িত। লিলিয়ান ফ্যান আরও বলেন, প্রত্যাবাসনকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত স্বীকৃতি, নাগরিকত্ব, রাজনৈতিক অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও আসিয়ানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সেমিনারে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব ব্যবস্থার মতো সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান ছাড়া টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। তিনি প্রত্যাবাসনকে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। দুটি প্যানেল আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রতিনিধি, গবেষক, কূটনীতিক, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং মিয়ানমারবিষয়ক বিশ্লেষকরা অংশ নেন। আলোচনায় রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো উঠে আসে। আলোচকরা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কেবল বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। জাতিসংঘ, আসিয়ানসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামের মাধ্যমে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বরকে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অর্থবহভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেমিনারে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার সুপারিশগুলো রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। এসএনআর  
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>