বিজ্ঞাপন
নতুন মৌসুম, নতুন চেহারা। মাঠে নামার আগেই নিজের নতুন লুক দিয়ে আবারও আলোচনায় চলে আসলেন আরলিং হালান্ড। দীর্ঘদিনের পরিচিত লম্বা স্বর্ণালি চুল আর নেই। চুল ছোট করে একেবারে নতুন অবয়বে হাজির হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন লুকের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের দুর্দান্ত অভিযানে অন্যতম বড় তারকা ছিলেন হালান্ড। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার চেহারা ও লম্বা চুল নিয়েও ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলাকালে সমর্থকদের অনেকেই হালান্ডের চুলের আদলে পরচুলা পরে গ্যালারিতে হাজির হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে অসংখ্য মিম। এমনকি মিয়ামিতে হয়েছিল হালান্ডের মতো দেখতে মানুষদের নিয়ে বিশেষ প্রতিযোগিতাও।
তবে নতুন মৌসুমে সেই চেনা হালান্ডকে আর দেখা যাবে না। এবার লম্বা চুলের বদলে একেবারে ছোট চুলে হাজির হয়েছেন তিনি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নতুন লুক প্রকাশ করেন হালান্ড। শুধু ছবি প্রকাশ করেই থামেননি, পুরো চুল কাটার প্রক্রিয়াটিও ক্যামেরাবন্দী করেছেন তিনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন এর পেছনের গল্পের ভিডিও। ইনস্টাগ্রামে দিয়েছেন তার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।
ছবির সঙ্গে হালান্ড লিখেছেন, ‘নতুন মৌসুম, নতুন হেয়ারকাট।’ আরেকটি পোস্টে তার বার্তা, ‘ছোট চুল, কোনো চিন্তা নেই।’
নতুন লুক নিয়ে সতীর্থ ও বন্ধুদের কাছ থেকেও এসেছে নানা প্রতিক্রিয়া। জুদ বেলিংহাম বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘নো ওয়ে’। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও নতুন চুলের প্রশংসা করে দিয়েছেন ইতিবাচক মন্তব্য।
তবে সবচেয়ে মজার প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি এসেছে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের কাছ থেকে। চুল কাটার পর হালান্ড সাবেক সুইডিশ তারকাকে ফোন করেন। নতুন লুক দেখে ইব্রাহিমোভিচ মজা করে জানতে চান, হালান্ড কি কোনো বাজি হেরেছেন কি না। এরপর রসিকতা করে তাকে ব্লক করে নম্বর মুছে ফেলতেও বলেন তিনি।
হালান্ড এরপর ফোন করেন নিজের সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলাকেও। গার্দিওলার প্রতিক্রিয়াও ছিল বেশ মজার। নতুন চুল দেখে তিনি বলেন, ‘তুমি ভাগ্যবান যে তোমার চুল আছে। আমার তো চুল থাকলে ভালো লাগত।’
ফুটবলে পরিচিত হয়ে ওঠার পর থেকেই হালান্ডের চেহারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তার লম্বা স্বর্ণালি চুল। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলার সময় থেকেই কখনো খোলা, কখনো পনিটেল করে বাঁধা সেই চুল ছিল তার আলাদা পরিচয়ের অংশ। মাঠে গোল করার পর তার উদযাপনের সঙ্গে সেই চুলও হয়ে উঠেছিল হালান্ডের ট্রেডমার্ক।
এবার সেই পরিচিত চেহারায় বড় পরিবর্তন। নেই লম্বা চুল, নেই পনিটেল। একেবারে ছোট চুলে নতুন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন সিটির গোলমেশিন।
তবে চেহারায় পরিবর্তন এলেও মাঠে তার লক্ষ্য একই- গোল করা। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগে চার মৌসুমের তিনটিতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হালান্ড। তার গোল করার ধারাবাহিকতাই সিটির আক্রমণের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।
এবার অবশ্য তার ক্যারিয়ারে আসছে বড় এক পরিবর্তন। ম্যানচেস্টার সিটিতে প্রথমবার পেপ গার্দিওলাকে ছাড়া মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছেন হালান্ড। গার্দিওলার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা।
নতুন কোচ, নতুন মৌসুম, নতুন চেহারা- সব মিলিয়ে হালান্ডের সামনে নতুন অধ্যায়। তবে মৌসুমের শুরুটা সিটির জন্য আশাব্যঞ্জক হয়নি। গত সপ্তাহে ব্রিটিশ সুপার কাপে আর্সেনালের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে তারা।
এখন নজর প্রিমিয়ার লিগে। রোববার নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন মৌসুমের লিগ অভিযান শুরু করবে ম্যানচেস্টার সিটি।
সেই ম্যাচে হালান্ডের নতুন চেহারা যেমন নজর কাড়বে, তেমনি সবার চোখ থাকবে তার পায়ের দিকেও। লম্বা চুল কেটে বদলে গেছে হালান্ডের লুক, কিন্তু গোলের ক্ষুধাটা কি আগের মতোই আছে? নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই মিলতে পারে তার উত্তর।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন