জাতীয়

‘একবার দাম কমলে বৃদ্ধি পায় পাঁচবার, মাছে তো হাত দেওয়াও পাপ’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
খুলনার বাজারে মাছ ও সবজির দাম বেড়েছে কয়েকদফা। টানা বৃষ্টিতে সবজির দাম বৃদ্ধি পেলেও এখনো কমেনি। সব ধরনের মাছ গত এক সপ্তাহে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কম রয়েছে মুরগির দাম। রোববার (২৩ আগস্ট) খুলনা মহানগরীর নতুন বাজার, খালিশপুর বাজার ও পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ৬০ থেকে ৭০, করলা ৮০ থেকে ১০০, চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০, লাউ প্রতিটি আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০, মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০, পটল ৬০, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ এবং ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ এ সপ্তাহে কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, বড় রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১২০ এবং আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি, সোনালি ২৪০ ও লেয়ার ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গরুর মাংস ৭৫০ এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে রুই আকারভেদে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, ভেটকি মাছ আকারভেদে ৫০০ থেকে ৬০০, চন্দনা ইলিশ ২৭০ থেকে ৩০০, পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০, কাতল ২৪০ থেকে ২৫০, ট্যাংরা মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ এবং ছোট মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারের সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টিতে সব ধরনের সবজির উৎপাদন কমে গেছে। অনেক সবজি সরাসরি ঢাকায় চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় মূলত দাম বেড়েছে। একটু খরা হলে আবার সবজি উঠবে। তখন দাম কমে যাবে। আর পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনিতেই সব সবজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা কেজি প্রতি দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলিমুল বলেন, খুলনার স্থানীয় কৃষকরা এবার বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবজি উৎপাদনও কম হয়েছে। পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আগে ইজিবাইকে করেও সবজি নিয়ে আসতাম। শহরে বাইরের ইজিবাইক ঢুকতে দেয় না। এজন্য পিকআপে করে আনতে হয়। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। তবে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে যাবে বলে তিনি আশা করেন। খালিশপুর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা হাসান শেখ বলেন, পেঁপে, পটল ও করল্লার দাম বেড়েছে। কুমড়ার কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। পাইকারি বাজার থেকে কিনে এনে সব খরচ দিয়ে সবজিতে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা লাভ করতে কষ্ট হয়ে যায়। আর দাম বৃদ্ধি পেলে ক্রেতাদের চাহিদাও কমে যায়। বিক্রিও তখন কম হয়। নতুন বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল গাজী বলেন, মাছ পাওয়া যায় না। বাগেরহাট, রামপাল, সাতক্ষীরা ও তেরোখাদা থেকে মাছ কিনে আনতে হয়। এই বাজারে সব চাপ পড়ে। ঘেরের মাছের দামও অনেক। সমুদ্রের মাছেও সংকট। সবকিছুর খরচ বাড়ছে, মাছের দামও তাই বেড়েছে। চিংড়ি মাছ, তেলাপিয়া, পাইশা মাছের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে আসা ক্রেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, একবার দাম কমলে বৃদ্ধি পায় পাঁচবার। মাছে তো হাত দেওয়াও পাপ। সব দেশী মাছের দাম বেড়েছে। আগে এক কেজি ট্যাংরা মাছ ৪০০ টাকায় পাওয়া যেতো। তা এখন ৬০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগে এক কেজি ক্রয় করতাম। এখন আধা কেজি কিনতে হয়। নইলে খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। তবে বাজারের এমন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব না। অন্য একজন ক্রেতা আমেনা খাতুন বলেন, সবজির দাম কমেনি। গত দুই মাসে কয়েকবার সবজির দাম বেড়েছে। মাছের দামও বেড়েছে কয়েকবার। মাছের থেকে মুরগির দাম এখন কম আছে। এক কেজি কুমড়ার দাম ৬০ টাকা। তার থেকে এক হালি ডিম কেনা সহজ মনে হচ্ছে। তবে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা দরকার। নইলে বাজারে দামের লাগাম ধরা কঠিন হয়ে পড়বে। আরিফুর রহমান/কেজে/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>