বিজ্ঞাপন
লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ, হামলা ও মেশিনগান দিয়ে গুলি চালানো অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (২০ আগস্ট) রাতে ও শনিবার (২১ আগস্ট) ভোরে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৪ হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩০০ জনের বেশি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২০ আগস্ট) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ হতাহতের এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বর্তমান সংঘাতে মোট হতাহতের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮ হাজার ৯১৫ জন নিহত এবং ৩০ হাজার ৫৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-এর তথ্য মতে, শনিবার ভোরে মানসুরি, বেইত আল-সায়্যেদ এলাকার আশপাশ এবং মাজদাল জউনের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে মানসুরি, মাজদাল জউন ও বেইত আল-সায়্যেদও ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বেইত আল-সায়্যেদ শহরের বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে; এমনকি শহরটির কোনো বাড়িই অক্ষত নেই।
এ ছাড়া হাদাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল শহরেও একই ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আশপাশের উপত্যকাগুলো লক্ষ্য করেও মেশিনগান দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আউন তার ইতালি সফরের দ্বিতীয় দিনে রোমে মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল থেকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সাত দফা আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ দফা ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সর্বশেষ দুই দফা হয়েছে রোমে। গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
দক্ষিণ লেবাননে UNIFIL-এর ম্যান্ডেট চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবার কথা রয়েছে এবং ২০২৭ সালে পুরোপুরি প্রত্যাহার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৭৮ সাল থেকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন রয়েছে UNIFIL। বর্তমানে দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছে।
কেএম
বিজ্ঞাপন