জাতীয়

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা দিলেন কলেজছাত্র রাতুল

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
6 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ করেছেন গুলিবিদ্ধ ছাত্র রাতুল হাসান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি পেশ করেন তিনি। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জবানবন্দিতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র মো. রাতুল হাসান বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বেলা ১১টার দিকে রাতুল ও তার বন্ধু রিফাতসহ আরও কয়েকজন মিলে রামপুরায় আন্দোলনে যোগ দেন। ওই দিন রিফাত ইসলাম পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। আরও পড়ুন কারাগারে প্রধান আসামি / মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যা করা হয় পোশাককর্মী মিতুলকে মো. রাতুল হাসান বলেন, ‘পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর রামপুরা মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের সামনে আমরা আবার আন্দোলনে যোগ দিই। তখন আমাদের সামনে বিজিবি ও পুলিশ অবস্থান করছিল। কোনো রকম সতর্কবার্তা ছাড়াই তারা আমাদের ওপর গুলি বর্ষণ শুরু করে। তখন আমি বেটার লাইফ হাসপাতালের দিকে দৌড় দিই। তখন একটি গুলি আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে পেছন দিক দিয়ে ঢুকে সামনের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই ক্ষতস্থানে আমার প্রায় দেড় ইঞ্চির মতো হাড় ক্ষয় হয় এবং ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এরপর আমার ভাগনে সুলাইমান ও অপর আন্দোলনকারীদের সহায়তায় আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ২৫ জুলাই আমাকে রিলিজ করে দেওয়া হয়। (এ পর্যায়ে সাক্ষী তার পায়ে গুলি লাগার স্থান ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন)। ঢাকা মেডিকেল থেকে রিলিজ হওয়ার পর আমি দীর্ঘদিন কল্যাণপুরস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি।’ রাতুল বলেন, ‘পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে জানতে পারি যে, ঘটনার দিন বিজিবির কর্নেল রেদোয়ান, মেজর রাশেদ, রামপুরা থানার ওসি মশিউর রহমান এবং ওই এলাকার পুলিশের এডিসি গুলি করেন। পুলিশ ও বিজিবির আরও অনেক সদস্য ছিল, যাদেরকে আমি চিনি না।পরবর্তীতে আরও জানতে পারি যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের এই গুলি বর্ষণের নির্দেশ প্রদান করেন।’ আরও পড়ুন ‘বাবাকে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়’, ট্রাইব্যুনালে সন্তানের জবানবন্দি ১৮ জুলাইয়ের ঘটনা উল্লেখ করে রাতুল বলেন, আমার বন্ধু রিফাত যখন গুলিবিদ্ধ হয়, তখন হেলিকপ্টারযোগেও প্রচুর গুলি করা হয়েছিল। আহত হয়ে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জানতে পারি যে, ১৯ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত অনেকেই শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে সমুদ্র, রমজান, শাওন ও বাবু মোল্লা ছিলেন। তারা ছিলেন আন্দোলনকারী। ট্রাইব্যুনালকে রাতুল বলেন, রামপুরার ঘটনার মতো এমন ঘটনা ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছে। আমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হইনি এবং কষ্ট করে যাচ্ছি। যারা গুলি বর্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা গুলি বর্ষণ করেছেন, আমি তাদের বিচার চাই। এ মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম। পলাতক অপর দুই আসামি হলেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান এফএইচ/এমএমকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>