বিজ্ঞাপন
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে বাহার হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বাহার নিজেই মানববন্ধনে হাজির হয়ে ব্যানার ধরে অন্যদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন।
তার এমন কাণ্ডে অংশগ্রহণকারী অন্যরাও অবাক হয়েছেন। তবে বাহার মানববন্ধনে যোগ দিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, জমি দখল করতে না পেরে বাহার বিভিন্নভাবে স্থানীয়দের হয়রানি করে আসছেন। এমনকি একটি অসুস্থ গরুর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের একজন নুরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১০ সালে চরপাগলা গ্রামে অজুফা খাতুন নামের এক নারীর কাছ থেকে ৮০ শতাংশ জমি কিনেছি। একই এলাকার বাহার উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে আমার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামে ৪০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছি। এছাড়া আরও ৮০ শতাংশ জমি আমাদের নামে ও দখলে রয়েছে। হঠাৎ এসব জমি ইজারা নিয়েছেন বলে দাবি করে বাহার হোসেন ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার চেষ্টা করেন। পরে বাধা দিলে মাটি কাটতে পারেননি।’
আরও পড়ুন
চাঁদা না দেওয়ায় মারধর-হুমকি, দুই মাস ধরে বন্ধ দোকান
মানববন্ধনে নুরুজ্জামান, হোসেন, মনোয়ারা বেগম, দুলালসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বাহার বিভিন্ন সময় নিরীহ মানুষদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। অন্যের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। মালিকপক্ষ জমিতে আমনের চারা রোপণ করায় বাহার ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের হয়রানি করছেন।
তারা আরও বলেন, বাহারের গরুর খামারের একটি অসুস্থ গরু মারা যায়। পরে গরুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে থানায় অভিযোগ দেন তিনি।
তবে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বাহার উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘জমির একটি অংশ আমি কিনেছি। অন্য অংশ মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি। ওই জমিতে গরুর জন্য ঘাস চাষ করি। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন ঘাসের জমিতে হালচাষ করে নষ্ট করে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, আমার খামারের একটি গরুর ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করেন। এতে অসুস্থ হয়ে গরুটি মারা গেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলমের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কাজল কায়েস/এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন