বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ কি অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে? ডারউইনে প্যাট কামিন্সের দলকে নাকানি-চুবানি খাওয়ানোর পর ম্যাকাইতেও কি জিতবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল? জিততে না পারলেও ম্যাচ অমীমাংসিত রেখে কি সিরিজ নিজেদের করেই দেশে ফিরবে টিম বাংলাদেশ? নাকি ভেন্যু বদলের সাথে ভাগ্য বদলে অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে যাবে? অনেকগুলো প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে ভক্ত ও সমর্থকদের মনে।
এসব প্রশ্ন নিয়েই ডারউইন থেকে ম্যাকাই পৌঁছেছেন শান্ত, মুশফিক, মুমিনুল, মিরাজ, তাসকিন, তাইজুল ও হাসান মাহমুদরা। ৬ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণেই সেখানে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বিলম্বের কারণে ১৪ ঘণ্টা পর ম্যাকাই পৌঁছেছে টিম বাংলাদেশ।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ম্যাকাই পৌঁছানোর কারণে আজ ১৯ আগস্ট বিশ্রাম ছিল টাইগারদের। আগামীকাল ২০ আগস্ট ম্যাকাইতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে প্রথম প্র্যাকটিস সেশন। তবে কথা বলে জানা গেছে, টাইগার ম্যানেজমেন্ট এখনো ম্যাকাইয়ের উইকেটই দেখেনি।
ম্যাকাই যেমন বাংলাদেশ দলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন পিচ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছেও পিচ হিসেবে তেমন পুরোনো বা পরিচিত না। কারণ ম্যাকাইয়ের মাঠে এর আগে কখনো টেস্ট হয়নি। সাকুল্যে তিনটি ওয়ানডে হয়েছে।
প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে। ভারত আর শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। এরপর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দুটি ওয়ানডে হয়েছে শুধু।
দুটি ম্যাচই হয়েছে গত বছর এই আগস্টেই। ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৮৪ রানে পরাজয়ের ৪৮ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া ৪৩১ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়ে পেয়েছে রেকর্ড ২৭৬ রানের জয়।
অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট স্কোয়াডের দুই অপরিহার্য সদস্য ট্রাভিস হেড (১০৩ বলে ১৪২) আর ক্যামেরন গ্রিন (৫৫ বলে ১১৮ নট আউট) সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। কাজেই ধরেই নেওয়া যায়, ট্রাভিস হেড আর ক্যামেরন গ্রিনের পয়মন্ত ভেন্যু ম্যাকাই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ম্যাকাইয়ের টেস্ট পিচ কেমন হতে পারে? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ম্যাকাইতে আর ড্রপ-ইন পিচে নয়, ন্যাচারাল টার্ফের পিচেই খেলা হবে।
উইকেটের চরিত্র ও রূপ সম্পর্কে ধারণা পেতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ কভার করতে যাওয়া একাধিক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনা স্টেডিয়ামের পিচ অনেকটাই ব্রিসবেনের গ্যাবার আদলের।
বলে রাখা ভালো, ব্রিসবেনের গ্যাবার যিনি কিউরেটর, তিনিই ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনা মাঠেরও কিউরেটর। ফলে পিচের আচরণ ও চরিত্রও একরকম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ব্রিসবেনের গ্যাবার উইকেট বরাবরই স্পোর্টিং। এবং খানিক পেস বোলিং ফ্রেন্ডলি। ফলে বাংলাদেশের জন্য পরীক্ষাটা কঠিন হবে। ম্যাকাইতে যেহেতু মাত্র এক বছর আগে এই আগস্ট মাসেই ট্রাভিস হেড ও ক্যামেরন গ্রিনরা দক্ষিণ আফ্রিকার সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে ওয়ানডেতে হাত খুলে খেলে শতরান করেছেন, সেই মাঠে এক বছর পর টেস্টেও তারা বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে নামবেন।
এখন দেখার বিষয়, ম্যাকাইতে বাংলাদেশের পেসাররা তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন কিনা!
এআরবি/এমএমআর
বিজ্ঞাপন