জাতীয়

জনবল সংকটে জাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস, ভোগান্তির শিকার শিক্ষার্থীরা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নথি পেতে গিয়ে ভোগান্তিই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, নম্বরপত্র ও সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে চলছে কার্যালয়টির কার্যক্রম। এতে একদিকে অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা, অন্যদিকে সময়মতো সেবা না পেয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শুধু সনদ বা নম্বরপত্র নয়, জনবল সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য ‘সম্পূরক আর্থিক সাহায্য’ বৃত্তির কার্যক্রমেও। জানা গেছে, জাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও একজন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পিআরএলে আছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও আজও সেই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়নি। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় অতিরিক্ত কাজের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা,পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিভাগীয় ফলাফল প্রকাশ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন আটকে আছে শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি তেমনি তৈরি হচ্ছে সেশনজট এর মতো ভয়াবহ সমস্যা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটের ফলাফল প্রস্তুত করে এই দপ্তর। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, নম্বরপত্র ও সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলন করতে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হতে হয় এই অফিসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, জাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র তোলার জন্য জরুরী ভিত্তিতে আবেদনের ৫দিন এবং জরুরী বাদে ১৫ দিন সময় লাগে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবেদনের পর নির্ধারিত সময় পার হলেও পাওয়া যায় না কাঙ্খিত কাগজপত্র। এছাড়াও আবেদনপত্র জমা দিয়ে গেলেও বারবার আসতেই হয়, এতে সময় অপচয়সহ ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী রেদায়ানুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, আমাদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস যেন এক ভূতুড়ে ঘর। নাম শুনলেই ভোগান্তির কথা ভাবতে হয়। শুধু সনদপত্র উত্তলন বা পরীক্ষায় বসতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বারবার মুখোমুখি হতে হয় এখানের। প্রশাসনও জাকসুর কাছে বারবার অটোমেশন এর কথা বলা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পাশাপাশি এই অফিসের জন্যই দেড় বছর আগে প্রকাশ পাওয়া দ্বিতীয় বর্ষের বৃত্তির টাকা এখনো পাইনি। আরেক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, স্নাতকোত্তরে উঠে গেলেও এখানে তৃতীয় বর্ষের বৃত্তির টাকা বা ফলাফল কিছুই জানি না। বৃত্তি দেওয়া হয় যেখানে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য সেখানে দুই-তিন বছর পর বৃত্তি দিয়ে কি হবে। এখনো বৃত্তির ফলাফল দেওয়া হয়নি, দিলে তারপর আবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে কবে টাকা পাবো তারও কোনো ঠিক নেই। এ টাকা তুলতেও অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। আরও পড়ুন বেরোবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৯ অনিয়মের অভিযোগ, বরাদ্দ কমলো ১৩ কোটি টাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের ভোগান্তি নিয়ে বলেন, অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট দীর্ঘদিন ধরে। প্রায় ১২ জনের মতো কর্মকর্তা না থাকায় সবাইকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রশাসনকে এই বিষয়ে বার বার বলা হলেও তাদের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সম্পূরক বৃত্তি পেতে দেরি হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, বৃত্তির তালিকা প্রকাশের আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এক্ষেত্রে (উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) সালাম সাহেব এই কাজ করতেন। তিনি অবসর নিয়ে অফিসের কাজে না থাকায় এবং অন্যদের এই কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় দেরি হয়েছে। সালাম সাহেবকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তার সম্মানী এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় তিনি কাজে যোগদান করেননি। তার অনুপস্থিতিতে চাপ দিয়ে দুজন অনভিজ্ঞ কর্মকর্তার মাধ্যমে এই কাজ করা হচ্ছে। এখানেও দেরি হওয়ার মূল কারণ অফিসে কর্মকর্তা নিয়োগ না দেওয়া। সম্পূরক বৃত্তির বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে বৃত্তির ফলাফল আমাদের কাছে আসতে দেরি হওয়াতে বৃত্তি দেওয়া যায়নি। মাত্র একটি বর্ষের ফলাফল হাতে এসেছে। সবগুলো এলে বৃত্তির ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে খোঁজ নিলে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কানিজ ফাতেমা জানান, প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের ‘সম্পূরক আর্থিক সাহায্য’ ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া সম্ভব হলেও বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা, ফলাফল বিলম্বের কারণে জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়া এ কাজে নিয়োজিত সালাম অবসরে যাওয়ায় আরও দেরি হচ্ছে। কর্মকর্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অফিসে প্রায় ১২ জনের মতো কর্মকর্তা সংকট রয়েছে। লোকবল ও পর্যাপ্ত জায়গার সংকটের কারণে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। পাশাপাশি আমরা যারা আছি তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ হয়ে যাচ্ছে। দুই-তিন জনের কাজ একজনকে করতে হচ্ছে। এতে কাজেও দেরি হচ্ছে আবার সবাইই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শুধু পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস না, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লোকবল সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি। কিন্তু ইউজিসি থেকেও শুধু মাত্র ৪ জনের অনুমোদন এসেছিলো সর্বশেষ। তবে সংকট বিবেচনা করে অতি দ্রুত প্রয়োজন দেখে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>