বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তানের যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এক যুবক মির হুসাইন। তার জীবনের ২৫ বছরের গল্প উঠে এসেছে তথ্যচিত্র ‘২৫ ইয়ার্স ইন আফগানিস্তান’-এ। ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে থাকা মির কীভাবে জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়েছেন, সেই অসাধারণ যাত্রাই নতুন এই তথ্যচিত্রের মূল বিষয়। এটি বেশ সাড়া ফেলেছে প্রকাশের পর।
২০০২ সালে নির্মাতা ফিল গ্র্যাবস্কি ও শোয়াইব শরিফি প্রথম মিরের জীবন ক্যামেরাবন্দী করা শুরু করেন। তখন তিনি আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারের শিশু। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের জমিতে কাজ করা, গাধা চালানো কিংবা কয়লাখনিতে শ্রম দেওয়াই ছিল তার জীবনের বাস্তবতা।
আরও পড়ুন
ফিরছে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’, অভিমান ভুলে ফিরবেন জনি ডেপ?
তারপরও মির ছিলেন আশাবাদী। দারিদ্র্য আর যুদ্ধের মধ্যেও হাসি-আনন্দ খুঁজে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। একসময় তিনি বিয়ে করেন শুকরিয়াকে। সংসার শুরু করেন, সন্তানও আসে। কাজের সন্ধানে একসময় মাজার-ই-শরিফ ও পরে কাবুলে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানেও স্থায়ী কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মিরের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সহযোগিতায়। ছোটবেলা থেকেই যেহেতু ক্যামেরার সামনে ছিলেন, তাই একসময় তাদের কাছে কাজের সুযোগ চান তিনি। পরে ক্যামেরা অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। আত্মঘাতী হামলার পরের পরিস্থিতি ধারণ করার পাশাপাশি খেলাধুলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানও ক্যামেরাবন্দী করতে থাকেন।
মিরের জীবন যখন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তখনই আফগানিস্তানে আবার বড় পরিবর্তন আসে। ২০২১ সালে পশ্চিমা বাহিনী দেশটি থেকে সরে যায় এবং তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসে। এর প্রভাব পড়ে মিরের জীবনেও। বিশেষ করে নারীদের জীবন কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পড়ে।
নতুন করে ধারণ করা ২০২৬ সালের অংশে মিরের স্ত্রী শুকরিয়াকে আরও বেশি কথা বলতে দেখা যায়। তাদের চতুর্থ সন্তানও হয়েছে, একটি মেয়ে। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে শুকরিয়ার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। মিরের টেলিভিশনের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তাকে আবারও শারীরিক শ্রমের কাজে ফিরতে হয়েছে।
তথ্যচিত্রটির আগের সংস্করণ ‘My Childhood, My Country – 20 Years in Afghanistan’ ২০২১ সালে বাফটা পুরস্কার পেয়েছিল। নতুন সংস্করণে পুরোনো ফুটেজের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের দৃশ্য যুক্ত হওয়ায় আফগানিস্তানের পরিবর্তিত বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
সিনেমাটি দেখলে ৮০ মিনিট লস, না দেখলে সারা জীবন আফসোস থাকবে
মিরের গল্প শুধু যুদ্ধ ও দারিদ্র্যের গল্প নয়; এটি প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের আশাবাদ, ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার গল্প। তবে ২৫ বছর পর তার জীবনের বর্তমান বাস্তবতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বিষণ্ন। তবুও মিরের দীর্ঘ পথচলা যেন এখনও শেষ হয়নি- ভবিষ্যতে তার গল্পের আরও আশাবাদী অধ্যায় আসবে, এমন প্রত্যাশাই থেকে যায়।
এলআইএ
বিজ্ঞাপন