জাতীয়

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে গতি, দৃশ্যমান ‘পরিবর্তন নেই’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে এখনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার নানান উদ্যোগ নিলেও এর সুফল মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। তবে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নেওয়া সংস্কার ও উদ্যোগগুলোর বাস্তব ফল পেতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। কয়েক বছর ধরেই নানান সংকটে দেশের অর্থনীতি। এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও; তৈরি হয়েছে স্থবিরতা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। একের পর এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া এবং মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয় আস্থার সংকট। এমন প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রত্যাশায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দিলে দেশে তৈরি হয় জ্বালানি তেলের সংকট। প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর তেল সংকট কাটিয়ে উঠলেও নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ব্যবসা-বাণিজ্যে চাপ তৈরি করেছে। আরও পড়ুন বাংলাদেশে মার্কিন বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা, বাড়বে বাণিজ্য সম্পর্ক ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেয় সরকার। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নেওয়া হচ্ছে নানান উদ্যোগ। এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে নতুন করে দেখা দেওয়া গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সংকট সরকারকে নতুন করে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। ২৪ ঘণ্টায় ১৩ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন নতুন করে শহরেও শুরু হয়েছে গ্রামের মতো লোডশেডিং। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। চকবাজারের ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ব্যবসার পরিবেশ এখনো ভালো হয়নি। বেচাকেনা কমে গেছে। এর মধ্যে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টায় লোডশেডিং চলাকালে শেওড়াপাড়ার মনিহারি দোকানদার মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকায়ও এখন গ্রামের মতো লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাস সংকটে অনেক পণ্য উৎপাদন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে মনিহারি দোকানগুলোতেও পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ৯ আগস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ ছিল না। পরদিন ১০ আগস্ট বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে ৮ ঘণ্টা। আর ১১ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ ছিল মাত্র দেড় ঘণ্টা। আরও পড়ুন মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান গ্যাস সংকটের চিত্র তুলে ধরে ওই কারখানা মালিক বলেন, লাইনের গ্যাস দিয়ে এখন আর উৎপাদন চালানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে গাড়িতে করে গ্যাস এনে কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস পাওয়া যেত না, এখন কিছুটা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে জ্বালানি সংকটে উৎপাদনমুখী অন্যান্য কারখানার মতো পোশাক খাতেও উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের কারণে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে; বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতার ৭০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। ব্যবসার পরিবেশের সুফল পেতে আরও ছয় মাস ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পেতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু উদ্যোগের সুফল দ্রুত মিললেও অনেক ক্ষেত্রে ফল পেতে সময় প্রয়োজন। আশা করছি, ভালো ফল পাওয়া যাবে।— বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরপরই তার ফল পাওয়া যায় না। কিছু উদ্যোগের সুফল দ্রুত মিললেও অনেক ক্ষেত্রে ফল পেতে সময় প্রয়োজন। আশা করছি, এসব উদ্যোগের ভালো ফল পাওয়া যাবে। আরও পড়ুন ছয় মাসে সরকারের উদ্যোগ আছে, তবে অর্থনীতির পুঞ্জীভূত সংকট কাটেনি এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,‘কার্যক্রম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে ফলাফল এসেছে, সেটা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় আমাদের কস্ট অব ফান্ড কমানোর জন্য চেষ্টা করছে। এর ফলাফল আমরা পাচ্ছি। এর বাইরে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন মিটিং হচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। আমরা আশাবাদী, আগামী ছয় মাস পর এর ফলাফল আমরা পাব।’ এখনো নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়নি দেশে নতুন বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ও ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ। তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগের চিন্তা করাটাই অবাস্তব। এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যমান ব্যবসাগুলো টিকিয়ে রাখা। ব্যবসা উন্নয়নে সরকারের নানান উদ্যোগ থাকলেও নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। মব ভায়োলেন্স কমায় আস্থা বাড়লেও চাঁদাবাজির নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।— ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ তিনি বলেন, সরকার দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়তই কাজ করছে ব্যবসার উন্নয়নে। মব ভায়োলেন্স শূন্যের কোঠায় নামায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা বাড়লেও চাঁদাবাজির নতুন ধরনে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। প্রথম ছয় মাসে দেশে নতুন করে বিনিয়োগের পরিবেশও তৈরি হয়নি। বরং জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে পুরোনো ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর এই ছয় মাসে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে ব্যবসায়ীরা এখনো তার কোনো সুফল হাতে পাননি। তিন বছরে বন্ধ ৪০০ পোশাক কারখানা, সংকটে আরও ৫০ টেক্সটাইল মিল গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। গত এপ্রিলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি এ তথ্য তুলে ধরে। আরও পড়ুন বাংলাদেশে বছরে এক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চিহ্নিত করেছে এডিবি এদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানিয়েছিলেন, নানান সংকটে দেশে ৫০টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বিভিন্ন সময়ে কারখানা বন্ধের খবর এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশে এখনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি ও বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক মোহা. খোরশেদ আলম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলো ভালোই মনে হচ্ছে। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যেমন রপ্তানিতে ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাজার খারাপ। যুদ্ধের কারণে রপ্তানিও ভালো হচ্ছে না। ফলে এসব উদ্যোগের প্রকৃত ফলাফল বুঝতে আরও দুই-তিন মাস সময় লাগতে পারে।’ সরকারের উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হলেও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি খারাপ। যুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানি কমেছে। এসব উদ্যোগের প্রকৃত ফল বুঝতে আরও দুই-তিন মাস সময় লাগতে পারে।— বিটিএমএ পরিচালক মোহা. খোরশেদ আলম তিনি বলেন, ‘ছয় মাসে দৃশ্যমানভাবে তেমন কিছু আসেনি। একটা পরিকল্পনা করে সঙ্গে সঙ্গে তার ফল পাওয়া যায় না। হয়তো বছর খানেক পরে বোঝা যাবে পরিস্থিতি কোন দিকে দাঁড়ায়।’ আরও পড়ুন গাসের সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী ‘সরকার তো নতুন এসেছে। তারা চেষ্টা করছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো পুরোনো সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। বরং মিল-কারখানাগুলোতে এসব সংকটের কারণে আরও বেশি কষ্ট হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ যেভাবে থাকার কথা, সেভাবে না থাকায় অনেক মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে বসে যাচ্ছে।’- যোগ করেন খোরশেদ আলম। ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে আগের চেয়ে গতি বেড়েছে দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে আগের তুলনায় সরকারের উদ্যোগ ও কার্যক্রমে গতি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান। জাগো নিউজকে আবুল কাসেম খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের মধ্যে আগের তুলনায় গতি ও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বাজেটে ব্যবসাবান্ধব বেশকিছু প্রস্তাব, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (ডি-রেগুলেশন) উদ্যোগ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে উন্নতি দেখছি। বাজেটে ব্যবসার জন্য অনেক ভালো প্রস্তাব এসেছে। অনেকগুলো সেক্টর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো অবশ্যই ইতিবাচক।’ সরকার ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শুনছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, প্রধানমন্ত্রী নিজেই ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে সম্পৃক্ত হচ্ছেন ও আমাদের সমস্যাগুলো শুনছেন। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। একই সঙ্গে ডি-রেগুলেশন নিয়ে যে টাস্কফোর্স করা হয়েছে, সেটিও খুব ভালো উদ্যোগ।’ এআইটি সংশোধন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ইতিবাচক গত ছয় মাসে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের তিনটি উদ্যোগকে সবচেয়ে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান। এর মধ্যে বাজেটে অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) সংশোধনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক প্রস্তাব ও সূচক রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের যে সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সচিব কিংবা অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলছি, তারা আমাদের কথা শুনছেন ও সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এটাকে আমি একটি সাফল্যের বিষয় হিসেবে দেখছি।’ আরও পড়ুন পাম্পেই পার কয়েক ঘণ্টা, গ্যাস সংকটে আয় কমেছে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের তৃতীয় উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত বৈঠকের কথা উল্লেখ করে আবুল কাসেম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছেন এবং সরাসরি ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। হয়তো বিভিন্ন সময়ে ১০-১২ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বসছেন, কিন্তু এটি খুব ভালো উদ্যোগ। আগে বছরে একবার বা দুবার বসা হতো। এখন তিনি নিয়মিত বসছেন। এটিকে আমি ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছি।’ অর্থনীতির মূল সূচকে বড় পরিবর্তন নেই সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন সংস্কার, রাজস্ব ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে এবং বাজেটেও এর প্রতিফলন রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি ফেরানোর মতো প্রধান সূচকগুলোতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। সরকারের প্রথম ছয় মাসে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও আমদানি-রপ্তানিসহ অর্থনীতির প্রধান সূচকে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে, সরকারের বিভিন্ন সংস্কার ও বাজেটীয় উদ্যোগ ইতিবাচক। সুফল পেতে সময় লাগবে। জ্বালানি সংকট ও বিদ্যমান ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতায় নতুন বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।— সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিক যে স্থবিরতা আমরা গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করছি, সেখানে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে সরকার হয়তো বলবে, তারা যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর ফল পেতে সময় লাগবে। তাদের সেই সময় হয়তো কিছুটা দিতে হবে। কিন্তু ছয় মাসে মূল অর্থনৈতিক সূচকে তেমন পরিবর্তন হয়নি।’ এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘বাজেটে বেশকিছু ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজস্বসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালার মধ্যে সেটা আমরা দেখতে পাই। আমদানি প্রতিস্থাপক ও রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা করা, সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন, লজিস্টিকস পলিসির বাস্তবায়ন, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ফ্যাসিলিটিজ আরও সহজতর করা ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন এখনো অর্থনীতিতে তেমন দেখা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু অর্থনীতিতে এর যে প্রতিফলন, সেটা আমরা প্রথম ছয় মাসে খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না।’ আরও পড়ুন বিদ্যুৎমন্ত্রী / সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াটাও একসময় কঠিন হয়ে যাবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও এতে ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘এখানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও একটা অবদান আছে। বিশেষত জ্বালানি এখন একটি বড় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে। ঘোষণা দিয়ে নতুন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না। আবার অনেক কারখানায় আমরা দেখছি, তারা পূর্ণ উদ্যমে কাজ করতে পারছে না। এটাই বাস্তবতা।’ এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে যারা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন, তারাই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। সেখানে নতুন বিনিয়োগকারীরা সামনের দিকে আসবেন- এটা আশা করাটা অনিশ্চিত।’ ‘রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটেছে। কিন্তু উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা, সেটা কিন্তু কাটেনি।’ যোগ করেন সিপিডির এই সম্মানীয় ফেলো। ইএইচটি/এমএএইচ/এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>