জাতীয়

অপরূপ সৌন্দর্যের আরেক নাম নাপিত্তাছড়া ঝরনা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
9 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সবুজ মাঠের মাঝ দিয়ে মেঠোপথ মাড়িয়ে যখন পাহাড়ে উঠবেন, দেখা মিলবে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তার। পাহাড়ের রাস্তাগুলো যেন জীবনের মতো, কখনো সোজা; কখনো বাঁকা। সেই রাস্তা পেরিয়ে মিলবে লম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অপরূপ সৌন্দর্যের নাপিত্তাছড়া ঝরনা। প্রথম দেখাতে মনে হবে বিশাল ঝরনা আপনাকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ি ঝরনার জন্য বিখ্যাত চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অন্য ঝরনা থেকে নাপিত্তাছড়ার রূপ-বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন এ ঝরনায় ছুটে আসেন শত শত ভ্রমণপিপাসু। ঝরনাটিতে আছে চমৎকার ট্র্যাকিং আর প্রকৃতি দেখার সুযোগ। এখানে মোট চারটি ঝরনা আছে। যেমন- টিপরাখুম ঝরনা, কুপিটাকুম ঝরনা, মিঠাছড়ি ঝরনা ও বান্দরখুম ঝরনা। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পারি দিয়ে কিছুটা ক্লান্ত হবেন। কিন্তু প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে আপনার মন জুড়িয়ে যাবে। বড় বড় পাথর আর পানি তো আছেই। সঙ্গে আছে পাহাড়ের বিশাল বিশাল খাদ। ভয়ংকর কিন্তু অসম্ভব সুন্দর। দুপাশে পাহাড় আর মাঝখানে সরু রাস্তা। রাস্তা বলতে এটা সহজ রাস্তা নয়। কখনো বড় বড় পাথর পাড়ি দিতে হবে, কখনো ছোট ছোট পানির গর্ত পাড়ি দিতে হবে। আবার কখনো উঠতে হবে পাহাড়ে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে এ পথে যাওয়ার সময়। তবে ঝরনায় যাওয়ার রাস্তাটির প্রতিটি অংশই অদ্ভুত সুন্দর। প্রথম ঝরনাটি টিপরাখুম ঝরনা। এ ঝরনার পানি ততটা স্বচ্ছ নয়। কিন্তু বাকি ঝরনাগুলোর চাইতে ঝরনাটি সবার আগে। তাই অনেকে ক্লান্ত হয়ে এখান থেকেই ফিরে যায়। এর প্রায় ১০-২০ মিনিট যাওয়ার পর দ্বিতীয় ঝরনা কুপিটাকুম পেয়ে যাবেন। কুপিটাকুম সুন্দর একটি ঝরনা। ঝরনায় পানির পরিমাণও বেশি। ঝরনাটির সামনের পানির অংশটি কিছুটা গভীর। তাই একেবারে ঝরনার সামনে যেতে হলে আপনাকে সাঁতার কেটে যেতে হবে। সেই সঙ্গে ঝরনার পানি বেশ ঠান্ডা। সূর্যের তাপের মাঝেও একটুখানি প্রশান্তি পাওয়া যায় এই ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে। পানি পানও করা যায়। আরও পড়ুন ঘুরে আসুন অনিন্দ্য সুন্দর বোয়ালিয়া ঝরনায় মিঠাছড়ি ঝরনায় যাওয়ার সময় ছোট একটি পাহাড়ের প্রায় খাড়া একটি ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে হবে। এটা বেশ ভয়ংকর। তাই যাদের ট্র্যাকিং করার অভিজ্ঞতা কম, তাদের এ সময় কিছুটা সতর্ক থাকতে হয়। ঝরনাটি বেশ কাছেই। ২০ মিনিটের মধ্যেই মিঠাছড়ি ঝরনায় পৌঁছে যাবেন। ঝরনাটির উচ্চতা বেশ। ওপর থেকে পানি পড়ার সময় অর্ধেকটা অংশ পার হওয়ার পর দুই ভাগ হয়ে দুই দিকে পানি পড়ে। নিজের চোখে না দেখলে দৃশ্যটি সত্যি বলে বোঝানোর মতো নয়। বিশেষ করে বর্ষার সময় ঝরনাটি খুব সুন্দর দেখায়। ঝরনায় বেড়াতে যাওয়ার সময় গাইড নিতে ভুল করবেন না। এখানকার সব রাস্তা গাইডরা ভালো চেনেন। বড় বড় পাথর আর পাহাড়ের গহিনে যাওয়াটা সহজ নয়। এ ছাড়া পরিবেশ-প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার স্বাদ তো পাবেন। কীভাবে যাবেন দেশের যে কোনো স্থান থেকে বাসযোগে মিরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিয়া বাজারে নামতে হবে। এরপর সিএনজি চালিতি অটোরিকশা কিংবা পায়ে হেঁটে পাহাড়ের পাদদেশে যেতে হবে। সেখান থেকে পাহাড়ি রাস্তায় ঝরনায় যাওয়া যাবে। আরও পড়ুন সীতাকুণ্ডের কমলদহ ট্রেইলে একদিন থাকা-খাওয়া মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারে কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। সেখানে থাকা যাবে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড সদর ও চট্টগ্রামের এ কে খান এবং অলংকারে একাধিক আবাসিক হোটেল আছে। ঝরনায় যাওয়ার পথে একটা ছোট হোটেল আছে, সেখানে যাওয়ার আগে কী খাবেন তার অর্ডার দিয়ে যেতে হবে। তাহলে রান্না করে রাখবে, ফিরে এসে খেতে পারবেন। এ ছাড়া ভালো মানের খাবার খেতে চাইলে বড়তাকিয়া সরাইখানা রেস্তোরাঁ, মিরসরাই পৌরসদর ও সীতাকুণ্ডে ভালো মানের রেস্তোরাঁ আছে। এমএমডি/এসইউ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>