বিজ্ঞাপন
মিজানুর রহমান, জার্মানি
জার্মানিতে পেশাগত জীবন গড়তে ‘আউসবিল্ডুং’ বা কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের নাম বেশ পরিচিত। তবে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা রয়েছে, এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর সাধারণত কেবল ছোট বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানেই কাজের সুযোগ সীমিত থাকে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- সঠিক কৌশল, পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে এই প্রশিক্ষণই হতে পারে জার্মানির শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকর ও মজবুত সিঁড়ি।
জার্মানির কর্মসংস্থান ব্যবস্থার বড় একটি শক্তি হলো তাদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বীয় শিক্ষার চমৎকার সমন্বয়। বড় বড় জার্মান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বদা এমন কর্মী খোঁজে, যারা কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা রাখে এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের সংস্কৃতির সঙ্গে অভ্যস্ত। তাই আউসবিল্ডুংকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই; বরং শুরু থেকেই বিচক্ষণতার সঙ্গে এগোলে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্যই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন
সিডনির সিটি টু সার্ফ’র আনন্দ ভ্রমণ
পেশাজীবনের শুরুতে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদনের সময়েই যদি কোনো বড় বা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা যায়, তবে কাজের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। জার্মানির শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই তাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী পদে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তাই আবেদনের তালিকায় শুরু থেকেই নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওপরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন কেবল সাধারণ দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানের ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকল্পে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। সহকর্মী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নজর কাড়তে পারলে পরবর্তীতে তাদের দেওয়া কাজের ভালো সুপারিশই বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সময় সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
জার্মানির প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ও শীর্ষ কোম্পানিগুলোতে কাজের পরিবেশ অত্যন্ত মানসম্মত। কেবল কারিগরি দক্ষতা থাকলেই চলে না, পেশাদার যোগাযোগের জন্য জার্মান ভাষার ওপর শক্ত দখল থাকা আবশ্যক। জার্মান ভাষায় উন্নত মানের সাবলীলতা সাক্ষাৎকার বোর্ডে আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং বড় পদে নির্বাচনের সম্ভাবনা সুগম করে।
জার্মানিসহ ইউরোপের কর্মক্ষেত্রে পেশাদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য প্রভাবশালী। প্রশিক্ষণ চলাকালে সম্পন্ন করা প্রকল্প, নতুন অর্জিত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা নিয়মিত এসব মাধ্যমে হালনাগাদ রাখা উচিত। অনেক সময় শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংগ্রাহকরা সুন্দরভাবে সাজানো পেশাদার ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী দেখেই সরাসরি যোগাযোগের আমন্ত্রণ জানান।
জার্মানিতে পেশাভিত্তিক শিক্ষার স্বীকৃতি ও মান নিশ্চিত করে শিল্প ও বাণিজ্য চেম্বার আয়োজিত চূড়ান্ত পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল অর্জিত হলে তা ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণীর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় সেরা মেধাবীদেরই প্রাধান্য দেয়, আর এই পরীক্ষার সনদই সেই যোগ্যতার প্রমাণ বহন করে।
যদি সরাসরি কোনো শীর্ষে থাকা বড় প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ না-ও হয়, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সেক্ষেত্রে তাদের সাথে সরাসরি যুক্ত ছোট বা মাঝারি সরবরাহকারী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ বা কাজ শুরু করা যেতে পারে। সেখানে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পর মূল শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পদার্পণ করা অনেক সহজ এবং কার্যকর একটি পথ।
আউসবিল্ডুং কেবল একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; এটি হলো পেশাদারি জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, ক্রমাগত ভাষাগত উন্নতি এবং দূরদর্শী যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষ করেই জার্মানির শীর্ষ প্রাতিষ্ঠানিক জগতে নিজের জায়গা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এমআরএম
বিজ্ঞাপন