বিজ্ঞাপন
টানা ১৯ বছরে বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরে বিএনপি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান হয় আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হয় বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন তারেক রহমান। নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এর মধ্য দিয়ে শুধু বিএনপির ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতেও শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশা-আকাঙ্ক্ষার তৈরি হয়।
মানুষের মধ্যে জন্ম নেয় নানা ধরনের প্রত্যাশা। যার কেন্দ্রে ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, বিনিয়োগ ও বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করা।
১৭ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। সরকার দায়িত্ব নিয়েই ১৮০ দিন বা ছয় মাসের একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে নির্বাচনি ইশতেহার সামনে রেখে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা টার্গেট, দুর্নীতি রোধে কঠোর সতর্কতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করাই ছিল এ পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর স্বাক্ষর করছেন তারেক রহমান/ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
ওই সময় রমজানে দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। ছয় মাসের কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মূল্যায়ন করবেন বলে জানান।
দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে সরকারকে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বৈদেশিক ঋণের চাপ, ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্থবির বিনিয়োগ, উচ্চ দারিদ্র্যের হার, ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলা, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপ- সব মিলিয়ে পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। এর অধিকাংশই বর্তমান সরকার পেয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অস্থিরতাও বেশ ভুগিয়েছে সরকারকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করেছে। অর্থনীতির ওপর তৈরি করেছে বাড়তি চাপ। ফলে ক্ষমতার প্রথম ছয় মাস বিএনপির জন্য ছিল এক কঠিন পরীক্ষার সময়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ কেন্দ্র করে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থেকে। জ্বালানির দাম বেড়ে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় পরিবহন থেকে শুরু করে শিল্প, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারসহ অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি স্তরেই পড়েছে এর অভিঘাত।
আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ফলে ছয় মাসের এ যাত্রায় সরকারকে শুধু ঘরোয়া সংকট নয়, বৈশ্বিক অস্থিরতার ঢেউও সামলাতে হয়েছে। এই ছয় মাসে কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার বেশকিছু নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে।
শিল্প খাতকে বড় ধরনের সংকট থেকে রক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, যার মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষিঋণ মওকুফ ও ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, শিল্পের কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বাধা কমানো এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেয় সরকার।
কৃষক কার্ড তুলে দিতে পারা ছিল সরকারের অন্যতম সফলতা/ফাইল ছবি
চলতি মাসের ৪ তারিখে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) স্বাক্ষর করেছে বর্তমান সরকার। এ চুক্তিতে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে। এতে রপ্তানি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে।
বর্তমান সরকারের বাণিজ্যনীতি ও রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর মধ্যে ইইউর সঙ্গে চুক্তি করতে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে গত মাসে (২৬ জুলাই)। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সিঙ্গাপুর দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের একাধিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিষয়টি উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন
সমস্যা স্বীকার করা ইতিবাচক, বড় ঘাটতি সংস্কারে
কিন্তু এসব উদ্যোগ সাধারণের জীবনমান উন্নয়ন, ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি, সামষ্টিক অর্থনীতির গতি ফেরানো কিংবা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে কতটা পেরেছে তা নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।
ইতিবাচক অর্জনের তুলনায় নেতিবাচক দিকগুলোই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি করেছে প্রশ্ন।
অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও রপ্তানিকারকরা বলছেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কিছুটা ইতিবাচক বার্তা থাকলেও তার বাস্তব প্রভাব এখনো অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্রে দৃশ্যমান নয়।
বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এসব উদ্যোগের সুফল খুব একটা প্রতিফলিত হয়নি। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, বিনিয়োগের স্থবিরতা ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের কারণে মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি।
ফলে সরকারের নীতিগত উদ্যোগ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়ে গেছে, যে ব্যবধানই ছয় মাসের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
বড় সীমাবদ্ধতা হলো উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল এখনো অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হয়নি। অনেক উদ্যোগ এখনো যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছায়নি। ব্যাংক খাতের সমস্যাগুলো যেমন রয়ে গেছে, তেমনি রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।-সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বড় সীমাবদ্ধতা হলো উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল এখনো অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হয়নি। অনেক উদ্যোগ এখনো যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছায়নি। ব্যাংক খাতের সমস্যাগুলো যেমন রয়ে গেছে, তেমনি রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।’
‘বিশেষ করে বিনিয়োগে চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি- এই তিনটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি। গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের যে অবনমন হয়েছে, সেটি এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি,’ বলেন তিনি।
আস্থা ফেরেনি বিনিয়োগে
গত কয়েক বছর ধরেই দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে নিম্নমুখী প্রবণতা চলছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটবে, ব্যবসায়িক আস্থা ফিরবে এবং স্থবির বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আসবে- এমন প্রত্যাশা ছিল ব্যবসায়ী মহল ও অর্থনীতিবিদদের। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসেও বিনিয়োগ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। কিছু ক্ষেত্রে তা আরও অবনতি হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিনিয়োগে খরা, সংকুচিত হচ্ছে কর্মসংস্থান
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে, যা মে মাসের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশের তুলনায় কম। জুনের এ প্রবৃদ্ধি ১৯৯৩ সালের পর সর্বনিম্ন, যখন সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক পরিচালক মো. খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নতুন করে বিনিয়োগের বিষয়ে সবাই চিন্তা-ভাবনা করছেন। নতুন বিনিয়োগ কতটা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সরকার বিনিয়োগকারীদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয় তার ওপর।’
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। সমস্যাগুলো ঠিক হয়ে গেলে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও ভালো হবে বলে আশা করা যায়।-বিটিএমএর সাবেক পরিচালক মো. খোরশেদ আলম
তিনি জানান, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন নিয়ম ও আইন পরিবর্তন হয়। তাই নতুন আইন ও সুযোগ-সুবিধাগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য কতটা কার্যকর হয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। সমস্যাগুলো ঠিক হয়ে গেলে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও ভালো হবে বলে আশা করা যায়।’
স্থানীয় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বাজারের পরিস্থিতি খারাপ থাকায় স্থানীয় বিনিয়োগও ভালো অবস্থায় নেই। নতুন করে উল্লেখযোগ্য স্থানীয় বিনিয়োগ আসেনি। বিশেষ করে টেক্সটাইল খাতে নতুন বিনিয়োগ হয়নি। ফলে টেক্সটাইল খাতে অন্তত নতুন স্থানীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনো আশাব্যঞ্জক নয়।’
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ, আনুষ্ঠানিকতা কমানো এবং এক কমন উইন্ডোর মাধ্যমে দ্রুত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে এফডিআই না বাড়লেও এসব সংস্কারের সুফল পেতে সময় লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৪৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৪৪৭ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৭৯৭ মিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক পতন অব্যাহত
রপ্তানি আয়ে সুখবর নেই। দীর্ঘদিন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত। বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা হ্রাস, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, যুদ্ধ ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং দেশীয় সংকটের প্রভাবে এ পতন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের জুলাইয়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
আরও পড়ুন
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে দশমিক ৫৮ শতাংশ
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি না বাড়ার পেছনে স্থানীয় ও বৈশ্বিক- দুই ধরনের কারণই রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তীব্র গ্যাস-জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা বড় বাধা। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তাও ক্রেতাদের নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক করছে।’
সরকার রপ্তানি বাড়াতে নীতিসহায়তা ও অন্য সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে আরও গতি আনতে হবে।-বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ক্রেতারা সোর্সিং কৌশল পরিবর্তন করে কিছু অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।’
তবে রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী তিনি। হাতেম বলেন, ‘সরকার রপ্তানি বাড়াতে নীতি সহায়তা ও অন্য সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে আরও গতি আনতে হবে।’
মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের জীবন
শ্রমিকদের মজুরি কিছুটা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির তুলনায় সেই বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম এখনো বেশি থাকায় সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এসব পণ্য অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে। তারা এখনো ভোগান্তিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে মূল্যস্ফীতি কমার স্থায়ী লক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত সতর্ক মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো, প্রয়োজনীয় পণ্যের সময়মতো আমদানি, শুল্ক-কর সমন্বয় এবং মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে নজরদারি জরুরি।-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু উচ্চ সুদহার বা কঠোর মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করলে হবে না। খাদ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার ও বাজার ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে মূল্যস্ফীতি কমার স্থায়ী লক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত সতর্ক মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো, প্রয়োজনীয় পণ্যের সময়মতো আমদানি, শুল্ক-কর সমন্বয় এবং মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে নজরদারি জরুরি। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চাপ যেন ভোক্তা ও উৎপাদনশীল ব্যবসার ওপর একতরফাভাবে না পড়ে।’
মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এখনো অনেক বেশি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও দুর্বল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুনের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কম এবং গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আরও পড়ুন
মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচক সামান্য বৃদ্ধির পর ৮ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুন ২০২৬-এ ছিল ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। একই সময়ে জুলাই ২০২৫-এর ৮ দশমিক ১৯ শতাংশের তুলনায়ও মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য বেশি।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধীরগতি
দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও কম প্রবৃদ্ধির কারণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি মন্থর। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে বন্ধ হওয়া অনেক কারখানা বেকারত্ব বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও বেকারত্বের হার নিয়ে নতুন কোনো গবেষণা কিংবা পরিসংখ্যান নেই, তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ফলে দেশের কর্মসংস্থানে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
দেশের তৈরি পোশাক খাতে গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ। ফলে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
আরও পড়ুন
১৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে সরকার, কোথায় কত
২০২৫ সালে বাংলাদেশের বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হার দেশের আংশিক বেকারত্ব, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ও কাজের মানের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না।
বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের তথ্য বলছে, ১৯তম আইসিএলএস অনুযায়ী দেশে বর্তমানে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ১৩তম আইসিএলএসে ডিসেম্বর শেষে দেশের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
দেশের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। শহরে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ১৬ শতাংশ হলেও গ্রামে যেটি ২০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র-২০২২ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পায়।
রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে
দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক (ট্যারিফ) নীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অন্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের গতি ধীর এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। রাজস্ব ঘাটতির কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। আদায় কিছুটা বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ব্যবধান এখনো বড়।
২০২৬–২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
আরও পড়ুন
রাজস্বের খরা কাটাতে সরকারের ছয় মাসে যত পদক্ষেপ এনবিআরের
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রকৃত আদায় হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার ৫শ কোটি টাকা।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাজস্ব খাতের সংস্কারের জন্য কিছু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ আরও শক্তিশালী করার জন্য নীতি ও প্রতিষ্ঠানগত কাঠামো নিয়ে কাজ হচ্ছে। এগুলো ভালো উদ্যোগ। তবে এখানেও মূল বিষয় হলো বাস্তবায়ন। এখনো উদ্যোগগুলো যৌক্তিক পরিণতিতে নেওয়া যায়নি। ফলে রাজস্ব খাতের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে আরও কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ ও বকেয়া রাজস্ব আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সরকারের যাত্রাকে সবচেয়ে কঠিন করে তুলেছে। বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের স্থানীয় সীমাবদ্ধতাও এজন্য দায়ী। গত কয়েক দশকে জ্বালানি অনুসন্ধান, বিশেষ করে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন ও মজুত সক্ষমতায় প্রয়োজনীয় অগ্রগতি হয়নি। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ঘাটতি যুক্ত হয়ে এটি সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
সারাদেশে বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি, বিপরীতে গত কয়েকদিনে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। স্থাপিত সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে সর্বনিম্ন ২ বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ১৫ আগস্ট সরবরাহ ছিল ২৪শ ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় ১৬শ ১৫ ও এলএনজি ৮২৮ মিলিয়ন ঘনফুট। দুই এফএসআরইউ দৈনিক ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেয়। বৈরী আবহাওয়া বা মেরামতে বন্ধ হলে সংকট বাড়ে।
সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এফএসআরইউ সক্ষমতার অভাবে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানি করা যাচ্ছে না।-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এফএসআরইউ সক্ষমতার অভাবে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানি করা যাচ্ছে না।’
নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে সময় লাগবে, তাই দ্রুত আরেকটি স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত ঢেলে সাজিয়ে বসিয়ে রাখা কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জরুরি। তা না হলে শিল্পখাত হুমকিতে পড়বে।’
ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকিং সংস্কার
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়ে অর্থপাচার, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর থেকেই খাতটি কঠিন সময় পার করছে। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ঋণ খেলাপির কারণে খেলাপি ঋণ সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। তবে ব্যাংক খাতে এখন বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এসব সংস্কার দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে খাতে আস্থা ফিরবে এবং প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হবে।
আরও পড়ুন
ছোট ঋণেও বাড়ছে খেলাপি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসের ব্যবধানে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন মাস আগে এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।এদিকে, মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।
ব্যাংক খাতে অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইনি সংস্কার করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, মানি লোন কোর্ট আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত থাকলেও এগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।-পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর রিয়াজ
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর রিয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংক খাতে অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইনি সংস্কার করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, মানি লোন কোর্ট আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত থাকলেও এগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।’
তবে বর্তমান সরকার কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘যদিও সেগুলো এখনো কার্যকরভাবে শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। এসব সংস্কার দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে সুশাসন, আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।’
আইএইচও/এএসএ/ এমএফএ
বিজ্ঞাপন